ভিন্রাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। তাঁকে এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশ। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, অন্য রাজ্যে আত্মগোপন করে রয়েছেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে তেমনই মনে করছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু ভিন্রাজ্যে থেকে থাকলে তিনি কী ভাবে অর্থের জোগান পাচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা মনে করছেন যে, হাওয়ালার মাধ্যমে সোনা পাপ্পুর কাছে টাকা পাঠানো হতে পারে।
রবীন্দ্র সরোবরে গন্ডগোলের ঘটনায় নাম জড়ায় সোনা পাপ্পুর। এই ঘটনায় এখনও তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি। গত এপ্রিলে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা উদ্ধার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ ছাড়াও সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি দামি গাড়ি এবং বেশ কিছু সম্পত্তির নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ইডি সূত্রে জানানো হয়, সোনা পাপ্পুর নামে বেশ কয়েকটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তোলাবাজি, হুমকি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইডি সূত্রে খবর, কসবা, বালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন সোনা পাপ্পু।
দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জের বাসিন্দা সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র আইনেও মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমন বেশ কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে ইডি। ওই মামলায় বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। এই মামলার সূত্র ধরেই গত মাসে ফার্ন রোডে কলকাতার পুলিশকর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি।
গত এপ্রিলে ফেসবুক লাইভে এসে সোনা পাপ্পু বিজেপি নেতা তথা কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংহের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। একটি গাড়ির ভিতরে বসে পাপ্পু বলেছিলেন, ‘‘আবার লাইভে আসতে বাধ্য হলাম। ব্রেকিং নিউজ় এ বার আমি দিতে চাই। দুষ্কৃতী রাকেশ সিংহ, তোলাবাজ রাকেশ সিংহ, অজস্র কেসের আসামি, রেপ কেসের আসামি, এনডিপিএস রাকেশ সিংহ বন্দর এলাকায় বিজেপির প্রার্থী হয়েছে।’’ তখনও অবশ্য প্রার্থী হিসাবে রাকেশের নাম ঘোষণা করেনি বিজেপি।
সোনা পাপ্পু কোন জায়গা থেকে ওই লাইভ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের অনুমান, দক্ষিণ ভারতের কোনও রাজ্যে রয়েছেন তিনি।