বছরের পর বছর একটি প্রশ্ন পিছু করেছে রাম চরণের স্ত্রী উপাসনা কামিনেনি কোনিডেলাকে। প্রশ্নটি তাঁর কাজ, ব্যবসায়িক পরিচয়, সমাজসেবা নিয়ে নয়। বরং প্রশ্নটি ছিল— তিনি কবে মা হবেন?
২০১২ সালে অভিনেতা রাম চরণের সঙ্গে বিয়ে উপাসনার। এর পরে দীর্ঘ দিন উপাসনাকে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি উপাসনার প্রজনন ক্ষমতা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল একটা সময়ে। উপাসনা কখনও মাতৃত্বের বিরোধিতা করেননি। তিনি শুধু চেয়েছিলেন, এক জন নারী কখন মা হবেন, সেই সিদ্ধান্ত যেন সমাজ না নেয়।
তবে একটা সময়ের পরে নিজেই মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন উপাসনা। বর্তমানে তিনি তিন সন্তানের মা— মেয়ে ক্লিন কারা এবং যমজ সন্তান শিব রাম এবং অনবিরা। তবে এখনও রাম চরণের স্ত্রী বিশ্বাস করেন, মাতৃত্ব হওয়া উচিত নিজের পছন্দ ও সময় অনুযায়ী। মাতৃত্ব কোনও বাধ্যবাধকতা নয়।
ডিম্বাণু সংরক্ষণ নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেছেন। মা হওয়ার আগে উপাসনাকে বার বার উত্তর দিতে হয়েছে— তিনি এবং রাম চরণ কবে পরিবার বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন। বিয়ের পর থেকেই তেলুগু চলচ্চিত্রজগতের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি হয়ে ওঠেন তাঁরা। কিন্তু বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর কেটে গেলেও যখন তাঁদের সন্তান হওয়ার খবর আসেনি, তখন নানা জল্পনা শুরু হয়। এর পরে এক কথোপকথনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন উপাসনা। তিনি বলেছিলেন, “আমি ১০ বছর ধরে খুব সুখী দাম্পত্য কাটাচ্ছি। আমি আমার জীবন এবং পরিবারকে ভালবাসি। কিন্তু মানুষ কেন ভাবে আমার ব্যক্তিগত জীবন, আমার সম্পর্ক, প্রজননক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে তাদের?”
আরও পড়ুন:
সেই সময়ে রাম চরণও জানিয়েছিলেন, তাঁরা দু’জনেই চেয়েছিলেন আগে নিজেদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত লক্ষ্য পূরণ করতে। তার পর সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভেবেছেন।
রাম চরণ বলেছিলেন, “চিরঞ্জীবীজির ছেলে হিসাবে ভক্তদের খুশি রাখা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। যদি আমি পরিবার শুরু করি, তা হলে হয়তো আমার লক্ষ্য থেকে কিছুটা সরে যেতে পারি। উপাসনারও নিজের লক্ষ্য ছিল। তাই আমরা কয়েক বছর সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”
ডিম্বাণু সংরক্ষেণের বিষয় গোপন রাখেননি উপাসনা। খোলাখুলি কথা বলেছিলেন। তিনি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “রাম এবং আমি বিয়ের শুরুতেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিভিন্ন কারণে আমরা তখন আমাদের কাজে মন দিতে চেয়েছিলাম। আজ আমরা দু’জনেই এমন একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আছি, যেখানে নিজেদের উপার্জন দিয়ে সন্তানের যত্ন নিতে পারব এবং তাকে ভাল জীবন ও স্থায়িত্ব দিতে পারব।”