সেতারবাদক ঋষভ রিখিরাম কোনও ভাবেই প্রয়াত রবিশঙ্করের ‘শেষ শিষ্য’ নন, ২০১২ সালে শুরু হওয়া বিতর্কে কি দাঁড়ি টানার চেষ্টায় ‘রবিশঙ্কর সেন্টার’? এ বার বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিল প্রতিষ্ঠান। বিবৃতিতে স্পষ্ট, প্রথা মেনে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেননি ঋষভ। হাতে শিষ্যত্বের প্রতীক ‘নাড়া’ বা সুতোও বাঁধেননি। তাই কোনও ভাবেই ঋষভের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়, দাবি ওই প্রতিষ্ঠানের।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে। গুরুতর অসুস্থতার কারণে নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেন সেতারবাদক রবিশঙ্কর। আর ওই বছরেই ঋষভের ঘোষণা, তিনিই নাকি আন্তর্জাতিক সেতারবাদকের শেষ শিষ্য। ঋষভের বাজনার হাত, উপস্থাপনের ধরন দর্শক-শ্রোতাদের প্রিয়। শোনা যায়, তাঁর এই বিশেষ ঘোষণা তাঁকে রাতারাতি খ্যাতির আলোয় নিয়ে আসে। কিছু দিন আগে প্রথম এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন রবিশঙ্কর-কন্যা অনুষ্কাশঙ্কর। তিনিও বাবার মতোই সেতারবাদক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। তিনি জানান, ধ্রুপদী শিল্প-সংস্কৃতির ‘শিষ্য’ শব্দটির গভীরতা অনেক। ঋষভ তাই কোনও ভাবেই তাঁর বাবার ‘শিষ্য’ নন।
আরও পড়ুন:
এ বার একই বিবৃতি দিল রবিশঙ্কর প্রতিষ্ঠানও। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুরু-শিষ্য সম্পর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘ দিন ধরে সেই প্রথাই চলে আসছে। কিন্তু পুরোহিত, মন্ত্র উচ্চারণ, হাতে সুতো বাঁধা— এ সব কোনও কিছুই হয়নি ঋষভের। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠান একটি ভিডিয়োর উল্লেখ করেছে। সেখানে নাকি স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, রবিশঙ্কর একটি অনুষ্ঠানে বলছেন, “এক দারুণ তরুণ ছাত্রের (ঋষভ) সঙ্গে সদ্য আলাপ হয়েছে। ওঁর অনুরোধে কয়েকটি গৎ শিখিয়েছি মাত্র।” প্রতিষ্ঠানের দাবি, ‘ছাত্র’ ও ‘শিষ্য’-এর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আরও জানানো হয়েছে, ২০১২-র মার্চের পর থেকে অসুস্থতার কারণে সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন বর্ষীয়ান সেতারবাদক।
ঋষভের অনুগামীরা যদিও বিষয়টি এত সহজে মেনে নিতে রাজি নন। তাঁরা রবিশঙ্করের সঙ্গে ঋষভের পুরনো ভিডিয়ো, ছবি একের পর এক প্রকাশ্যে আনছেন।