ত্বিশা শর্মা ও দীপিকা নাগরের মৃত্যুর ঘটনায় শিউরে উঠছেন মানুষ। পণ নিয়ে এমন চরম পরিণতি এই যুগেও কী ভাবে, প্রশ্ন উঠছে দিকে দিকে। এই ঘটনার পরে অনেকেই বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানেরই বিরোধিতা করেছেন। আজকের যুগে বিয়ের অবস্থান কোন জায়গায়, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এ বার সরব হলেন অভিনেত্রী ঋদ্ধি ডোগরা।
অনেকেই এখনও মনে করেন যে, মানুষকে পরিপূর্ণ করে বিয়ে। ভালবাসা বা আকর্ষণ না থাকলেও, সমাজের চাপে পড়ে বিয়ে করেন অনেকেই। সেই বিয়ের রীতি ও নানা অনুষ্ঠানের মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেন। নিজেদের সমীকরণ ঠিক না হলেও, সমাজমাধ্যমের পাতায় বিয়ের জয়জয়কার হয়। “বিয়ে বিষয়টাকে বড় করে দেখানো বন্ধ করুন”, এমনই বক্তব্য ঋদ্ধির।
বিয়ের পরে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে অভিনেত্রী বলেছেন, “এই পৃথিবী পরিবর্তনশীল। গত কয়েক বছরে বিয়ের পরে বেশ কিছু মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে মহিলা ও পুরুষ উভয়ের সঙ্গেই। কিন্তু সামাজিক ও মানসিক স্তরে কী কী বদল হচ্ছে, সেগুলো বোঝানোর চেষ্টা কেউ করছে না। তাই আমাদেরই পরস্পরকে বোঝাতে হবে।”
তাই এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের উদ্দেশে ঋদ্ধির বার্তা, “বিয়ে বিষয়টাকে বড় করে দেখা বন্ধ করো। তোমাদের বাবা-মায়েরা যে সময়টায় বিয়ে করেছিলেন, সেই সময়টা আর নেই। ছেলেদের বোঝা উচিত, তারা যা বলবে মেয়েরা তা মেনে চলবে— এমন আর হবে না। আজকের যুগে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তারা শান্তিতে থাকতে পারে। তাই ভেড়ার মতো স্বামীর নির্দেশ পালন করবে না তারা। বেঁচে থাকার জন্য আজ আর মেয়েদের বিয়ের প্রয়োজন পড়ে না। জীবনে একটা সঙ্গীর জন্য হয়তো আজ তারা বিয়ে করে।”
আজকের যুগে স্বামীর উপরে নির্ভর করার প্রয়োজন পড়ে না। ভালবাসা থাকলে তবেই মেয়েরা স্বামীর সঙ্গে থাকতে চান, এমনই মনে করেন ঋদ্ধি। মেয়েদের উদ্দেশেও ঋদ্ধির বার্তা, “বিয়ের পরেও তোমাদের প্রেমিক ‘প্রিন্স চার্মিং’ হয়ে থাকবে, এমন আশা কোরো না। ওরাও মানুষ। রূপকথার আশা কোরো না। নিজের জন্য বাঁচো। পরস্পরকে ভালবাসো ও সম্মান করো।” ঋদ্ধির এই মন্তব্যের সমর্থন করেছেন তাঁর অনুরাগীরা।
২০১১ সালে রাকেশ বাপটকে বিয়ে করেছিলেন ঋদ্ধি। ২০১৯ সালে তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটেন।