দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে নানা খবর প্রায়ই শিরোনামে উঠে আসে। দিল্লিতে শুটিং করতে গিয়ে তাই কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল ‘ককটেল ২’ টিমকে। দূষণের ভয়ে শাহিদ কপূর নাকি ভ্যানিটি ভ্যান থেকে বেরোতেই চাইছিলেন না।
ছবির বেশিরভাগ শুটিং ইটালিতে হলেও, ছবির একটি বড় অংশের শুটিং হয়েছিল দিল্লি এলাকায়। সেই সময়ে শহরের বায়ুদূষণ নাকি ভয়াবহ ছিল। গড়ে ‘একিউআই’ (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) ছিল ৫০০! এমন পরিস্থিতিতে এক দিন শাহিদের শুটিং ছিল। কিন্তু বায়ুদূষণের জন্য ভ্যানিটি ভ্যান থেকে বেরোতেই রাজি হননি অভিনেতা।
সম্প্রতি ছবিটির লাইন প্রোডিউসার সুমিত ত্যাগী সেই ঘটনার কথা প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, “আমাদের বলে দেওয়া হয়, এত দূষণের মধ্যে শাহিদ শুটিং করবেন না। তাই তাঁর জন্য তড়িঘড়ি পাঁচ-ছয়টি এয়ার পিউরিফায়ার আনা হয়।” অথচ এয়ার পিউরিফায়ার তো শুধু ঘরের ভিতরে কাজ করে। তাই বাইরে কী ভাবে বিষয়টি সামলানো যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। সেই সময়ে শুটিং হচ্ছিল গুরুগ্রামের সাইবার সিটির খোলা জায়গায়।
সুমিতের কথায়, “আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাইরে শুটিং হলে এই এয়ার পিউরিফায়ার কী ভাবে কাজে লাগবে? তখন আমাকে বলা হয়, ‘এটা শুধু মানসিক স্বস্তির জন্য’।” সুমিত আরও বলেন, “শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে এই জিনিসগুলো কেনা হয়েছিল। পাঁচ মিনিটের মধ্যে লোক পাঠিয়ে আনা হয় এয়ার পিউরিফায়ার। শাহিদের জন্য আনা হয়েছিল বলে এগুলোকে তো অপ্রয়োজনীয় বলা যাবে না! কারণ শাহিদ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি ভ্যানিটি ভ্যান থেকে বেরোবেন না। শট দেওয়ার ঠিক আগে তিনি শুধু মাস্ক খুলতেন। তার পর আবার মাস্ক পরে নিতেন।”
সুমিতের মতে, দূষণ থেকে বাঁচার জন্য শাহিদের দাবি খুবই যুক্তিযুক্ত ছিল। তবে প্রযোজনা সংস্থাও তাদের দিক থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিল। শাহিদের স্বভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে সুমিত বলেন, “তিনি কিছুটা মেজাজি। যখন যা করতে ইচ্ছে হয়, তখন সেটাই করেন। যদি তখনই কোথাও যেতে চান, তাহলে চলে যাবেন। আগে থেকে পরিকল্পনা না থাকলেও, মনমতো কাজ করেন শাহিদ।”
শাহিদের এই মেজাজি স্বভাব নিয়ে এক বার কথা বলেছিলেন কিয়ারা আডবাণীও। ‘কবীর সিংহ’ ছবির শুটিংয়ের ঘটনা। কিয়ারা জানান, ছবির শুটিংয়ের সময়ে তাঁকে এক দিন টানা আট ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কারণ, পরের দৃশ্যে শাহিদ কোন জুতো পরবেন, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলে।