গত রবিবার (২৩ জুন) টালিগঞ্জের আইটিআই কলেজে জমায়েত হয়েছিলেন বাংলা ফিল্ম ইণ্ডাস্ট্রির অডিও ভিজুয়াল কর্মীরা। উপলক্ষ্য ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস্‌ অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইণ্ডিয়া’ (এফসিটিডব্লিউইআই) আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভা। প্রতি বছর ফেডারেশনের আয়োজনে এই সভা হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর সাধারণ সভাকে ‘জরুরি’ আখ্যা দেওয়া হল। সভার মূল আলোচ্য টেকনিশিয়ানস ও কর্মীদের বকেয়া পাওনা। এ বিষয়ে মঞ্চে উপস্থিত ব্যক্তিরা কী বললেন?

বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় এ বছরই প্রথম এই সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনটি চ্যানেলের তিনজন প্রতিনিধি। কালার্স বাংলার রাহুল চক্রবর্তী, জি বাংলার মানস চক্রবর্তী এবং স্টার ইণ্ডিয়ার পক্ষ থেকে ছিলেন রাজেশ বাজাজ। এফসিটিডব্লিউইআই-এর অধীন সমস্ত গিল্ডের সদস্য ছাড়াও সভায় যোগ দিয়েছিলেন ‘ইস্টার্ন ইণ্ডিয়া মোশন পিকচারস্‌ অ্যাসোসিয়েশন’ (ইআইএমপিএ) এবং ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ টেলিভিশন প্রোডিউসারস’ (ডব্লিউএটিপি) –এর প্রতিনিধিরাও। সভায় অংশ নিয়েছিলেন ফিল্ম ফেডারেশনের কয়েকজন সর্বভারতীয় প্রতিনিধিও।

‘স্টার ইণ্ডিয়া’-র প্রতিনিধি রাজেশ বাজাজ বলেন, “আগামী ১২ দিনের মধ্যে বকেয়া পাওনা সংক্রান্ত জটিলতা মিটিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।”

আরও পড়ুন, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া..’-র এই ভুলগুলো খেয়াল করেছেন কখনও!

টেলি ও ফিল্ম অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “আগামী সাত দিনের মধ্যে বকেয়া পাওনা সংক্রান্ত সব জটিলতার সমাধান করতে হবে।” তিনি কারও নাম না করে আরও যোগ করেন, “আমাদের ফেডারেশন রাজনৈতিক নয়। কিন্তু অনেকে ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা করছেন। আমি টেলি ও ফিল্ম অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে এখানে এসেছি। ইন্দ্রনীল (সেন) এখানে এসেছেন টেলি ও ফিল্ম অ্যাকাডেমির সহ সভাপতি হিসেবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেকনিশিয়ানস ও গিল্ড সদস্যদের স্বাস্থ্যবিমা, অ্যাক্সিডেন্ট কভারেজ-সহ আরও নানান সুবিধা করে দিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত ও দুঃস্থ কলাকুশলীদের জন্যও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন। পৃথিবীর কোথাও, কোনও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এই সুবিধা দেওয়া হয় না” তিনি জানান, “ডব্লিউএটিপি, ইআইএমপিএ এবং ফেডারেশন একজোট হয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে।”

টেলি ও ফিল্ম অ্যাকাডেমির সহ সভাপতি, গায়ক ও মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন উল্লেখ করেন, “টেকনিশিয়ান্সরা নিজেদের রক্ত জল করে কাজ করেন। ভবিষ্যতেও করবেন। কিছু মানুষ ইণ্ডাস্ট্রির একতা নষ্ট করতে চাইছেন, ‘সংস্কৃতি মঞ্চ’ নাম দিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করছেন। যাঁরা শিল্পকে দমিয়ে রাখতে চান, তাঁদের ওই মঞ্চের নাম ভবিষ্যতে হবে ‘অপসংস্কৃতি মঞ্চ’।”

আরও পড়ুন, ঋতুপর্ণা এ বার ভাস্কর, কোন ছবিতে জানেন?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত না থাকলেও ছোট ও অরাজনৈতিক শুভেচ্ছাবার্তা পাঠালেন কলাকুশলীদের উদ্দেশে। শুভেচ্ছাবার্তায় বকেয়া পাওনা সংক্রান্ত জটিলতা বা পরিচালকদের আলাদা সংগঠন বা ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনৈতিক ভাঙন নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

সভার সঞ্চালক এবং এফসিটিডব্লিউইআই-এর সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস সঞ্চালনার ফাঁকে ফাঁকে বার বার মনে করিয়ে দিয়েছেন, “এই মঞ্চ রাজনৈতিক নয়।” বার বার তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনৈতিক ভেদাভেদ তৈরির চেষ্টাকে ধিক্কার জানিয়েছেন বিশেষ কারও নাম না করেই। প্রসঙ্গত গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে পরিচালকদের আলাদা সংগঠন তৈরি হওয়া নিয়ে টলিপাড়ায় চলছে জোরদার আলোচনা। উল্লেখ্য যে এফসিটিডব্লিউইআই-এর পক্ষ থেকে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল গিল্ড সদস্যদের উদ্দেশে তাতে রানা সরকারের ‘দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়া’র কাছে কলাকুশলী ও শিল্পীদের বকেয়া পাওনার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও সভায় কেউ রানা সরকার বা তাঁর হাউজের নাম আলাদা করে উল্লেখ করেননি।        

আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকলেও অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় দেরিতে হলেও সভায় অংশ নেন। তিনি বলেন, “আমি শুধুমাত্র অভিনেতা নই, পরিচালনা সূত্রে আমি ডিরেক্টর’স গিল্ডেরও সদস্য। বকেয়া পাওনা বিষয়ে সমস্যার কথা সকলেই জানেন, নতুন করে কিছু বলার নেই। বিষয়টা সমাধানের দিকে এগোচ্ছে জেনে ভালো লাগছে।”

ইণ্ডাস্ট্রি সূত্রে জানা গিয়েছে গত সোমবার (২৪ জুন) রানা সরকার সংশ্লিষ্ট চ্যানেলগুলোকে এনওসি দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বকেয়া পাওনা মেটানোর আইনি জটিলতা থাকছে না। এ বিষয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। আগে সমস্ত বকেয়া পরিশোধ হোক, তারপর আমরাই সংবাদ মাধ্যমকে জানাব।”

১২ দিন নাকি সাতদিন, বকেয়া পাওনার বিষয়টি কবে সমাধান হবে তা সম্ভবত বোঝা যাবে আসছে সপ্তাহেই। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনৈতিক ভাঙনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলেও ফেডারেশনের অন্তর্গত গিল্ডের সদস্যরা সেই দিনটির দিকেই তাকিয়ে।   

(টলিউডের প্রেম, টলিউডের বক্স অফিস, বাংলা সিরিয়ালের মা-বউমার তরজা -বিনোদনের সব খবর আমাদের বিনোদন বিভাগে।) 

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।