১০ বছর পর মুখে হাসি ফুটল অভিনেতা সূরজ পাঞ্চোলির। সবাইকে মিষ্টি খাইয়ে আদালত চত্বরেই উৎসব করতে দেখা যায় তাঁকে। জিয়া খানের মৃত্যুর মামলায় বিশেষ সিবিআই আদালত সূরজ পাঞ্চোলিকে নির্দোষ ঘোষণা করার পর সেই আনন্দ-মুহূর্ত ভাইরাল নেটদুনিয়ায়। সূরজের দাবি, দশটি বছর অনেক সময়, যা চলে গিয়েছে তাঁর জীবন থেকে। সেই সময় তিনি কি আর ফিরে পাবেন? সেই সঙ্গে পরিবারের উপর দিয়েও যে ঝড় গিয়েছে, এক বিবৃতিতে সে কথাও উল্লেখ করেন সূরজ।
২০১৩ সালের ৩ জুন মুম্বইয়ে নিজের ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেন ‘নিঃশব্দ’-এর অভিনেত্রী জিয়া খান। তাঁর ঘর থেকে মিলেছিল ৬ পাতার সুইসাইড নোট। যেখানে তিনি লিখেছিলেন প্রতারিত এবং ধর্ষিত হওয়ার কথা। গর্ভপাত করাতে হয়েছিল সেই ঘটনার পর, সে কথাও লিখেছিলেন। যে হেতু আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সূরজ পাঞ্চোলির সঙ্গেই সম্পর্কে ছিলেন অভিনেত্রী, তাই অভিযোগের আঙুল ছিল তাঁর দিকেই। ২০১২ সাল থেকে একসঙ্গে থাকতেন তাঁরা। জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর মা রাবিয়া খান জানান, সূরজের সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীন জিয়াকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হত। সূরজ এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেন রাবিয়া। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। ২০১৪ সাল থেকে জিয়া খানের আত্মহত্যা মামলায় অভিযুক্ত সূরজ পাঞ্চোলি। শুক্রবার বিশেষ সিবিআই আদালত রায় দেওয়ার পর আপাতত স্বস্তিতে সূরজ-সহ তাঁর পরিবার।
এর পরই মুখ খোলেন সূরজ। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দীর্ঘ যন্ত্রণাদায়ক দশটি বছর আমি কাটিয়েছি। আমার সঙ্গে রাত জেগেছে আমার পরিবার। কিন্তু আজ আমি জিতেছি। শুধু তা-ই নয়, আত্মমর্যাদা এবং সম্মান ফিরে পেয়েছি। অনেক সাহস প্রয়োজন ছিল এই মুখটা নিয়ে আবার বিশ্বের সামনে দাঁড়ানোর। সেটা আমি পেরেছি।”
সূরজ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, যাতে অল্প বয়সে কাউকে আর এমন ভয়ানক কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে না হয়। তাঁর কাতর আর্জি, “আমায় কেউ এই দশটা বছর ফিরিয়ে দিতে পারবেন? তবে এক দিকে স্বস্তি যে আমার পরিবার রক্ষা পেয়েছে। শান্তির চেয়ে বড় আর কিচ্ছু না।”
যদিও আদালতের রায়ে খুশি নন জিয়ার মা রাবিয়া খান। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করা হল, খুব ভাল কথা, কিন্তু খুনের অভিযোগ আমি সরিয়ে নিচ্ছি না। কী করে মারা গেল আমার সন্তান?” রাবিয়ার দাবি, তিনি শুরু থেকে বলে আসছেন জিয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, খুন। আদালতের রায়ের পরেও এটি খুনই থাকবে। এই মামলা তিনি আরও দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে জানান।