পরিচালক সুব্রতরঞ্জন দত্ত অভব্যতার অভিযোগ এনেছিলেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য ছিল, বুধবার কাজের প্রস্তাব নিয়ে ঋত্বিককে ফোন করেন তিনি। তখনই অভিনেতা তাঁকে অপমানজনক কিছু কথা বলেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঋত্বিকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার আবার তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, আগের দিন একটি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, ‘‘উনি ওই অভিযোগে যে শব্দগুলো আমার মুখে বসিয়েছেন, সেগুলো সম্পূর্ণ ভুল। ওটা আমার ভোকাবুলারি নয়।’’ 

প্রসঙ্গত, সুব্রতরঞ্জন দু’টি ছবি পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনের জন্য নিরাপত্তারক্ষীর কাজ বেছে নেন। সে খবর আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরে টলিউডের অনেকেই সুব্রতরঞ্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সে ভাবেই ঋত্বিকের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়। 

সুব্রতরঞ্জনের কথায়, ঋত্বিক তাঁর সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেই তিনি প্রযোজক-চিত্রনাট্য সবটা চূড়ান্ত করে অভিনেতাকে ফোন করেন। এ দিকে ঋত্বিকের বক্তব্য, ‘‘আমি চিত্রনাট্য না শুনে কী ভাবে কারও ছবি করতে রাজি হতে পারি? উনি ফোন করে সরাসরি ডেট চাইছেন! বুধবার আমি খুবই ব্যস্ত ছিলাম। প্রথমে বুঝতে পারিনি, কে কথা বলছেন। উনি বারবার আমার ডেট চাওয়ায়, আগামী মাসগুলোতে আমার ব্যস্ততার কথা জানাই। তখন উনিই ক্রমাগত বলতে থাকেন, ‘তা হলে তুমি করবে না?’ কিন্তু ব্যস্ততার জন্য আমি আর কথা এগোতে পারিনি। তার মধ্যেই উনি সংবাদমাধ্যমের কাছে চলে গেলেন, অন্যান্য জায়গাতেও অভিযোগ করে বসলেন!’’ 

সুব্রতরঞ্জনের মূল আপত্তি, ‘‘ঋত্বিক আমার ছবিটা করবে না, ঠিক আছে। কিন্তু আমার মতো অনামী পরিচালকের সঙ্গে কাজ করবে না, নামী পরিচালকের ছবি করবে, এই সব কথায় বেশি খারাপ লেগেছে।’’ যদিও ঋত্বিক জোর গলায় বললেন, ‘‘ওই ভাষা আমি ব্যবহার করতে পারি না। আর উনি যে ভাবে নানা জায়গায় আমার নামে অভিযোগ করলেন, তাতে ওঁর সঙ্গে কাজ করার প্রশ্নই নেই। এর বেশি কিছু বলব না। উনি যেখানে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কাছেই জবাব দেব।’’ 

সুব্রতরঞ্জন ইম্পার ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনে অভিনেতার নামে অভিযোগ করেন। সংস্থার জেনারেল সেক্রেটারি বিমল দে জানান, তাঁরা পরিচালকের অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। আর্টিস্ট ফোরামকে বিষয়টি জানাবেন।