Advertisement
E-Paper

ব্যক্তিগত জীবনেও ‘অসমাপ্ত’ সম্পর্ক রয়েছে, রয়েছে খারাপ লাগাও

ব্রাত্য বসু এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় স্বামী-স্ত্রী। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই ঘটেছে। আবার দাঁড়িয়ে থেকে এঁদের বিয়েটা দিয়েছেন পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়। কোথায় এবং কী ভাবে? প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। শোনা যায় সুমনের সঙ্গে আবার স্বস্তিকার ব্যক্তিগত সম্পর্কও রয়েছে। বুদাপেস্ট থেকে মরাঠি ছবি ‘আরোন’-এর শুটিংয়ের ফাঁকে টেলিফোনে রহস্য সমাধান করলেন খোদ স্বস্তিকা। কিছুটা উত্তর এখানেই পাবেন। বাকি উত্তর দেবে সুমনের ‘অসমাপ্ত’। আগামিকালই মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি।

স্বরলিপি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০১৭ ১২:৩৮
অফ ক্যামেরা সুমন-স্বস্তিকা।

অফ ক্যামেরা সুমন-স্বস্তিকা।

ব্রাত্য বসু এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় স্বামী-স্ত্রী। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই ঘটেছে। আবার দাঁড়িয়ে থেকে এঁদের বিয়েটা দিয়েছেন পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়। কোথায় এবং কী ভাবে? প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। শোনা যায় সুমনের সঙ্গে আবার স্বস্তিকার ব্যক্তিগত সম্পর্কও রয়েছে। বুদাপেস্ট থেকে মরাঠি ছবি ‘আরোন’-এর শুটিংয়ের ফাঁকে টেলিফোনে রহস্য সমাধান করলেন খোদ স্বস্তিকা। কিছুটা উত্তর এখানেই পাবেন। বাকি উত্তর দেবে সুমনের ‘অসমাপ্ত’। আগামিকালই মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি।

এখন তাহলে আপনি ‘অসমাপ্ত’। ‘অসমাপ্ত’ স্বস্তিকা।

(হেসে) মানে?

না, বলতে চাইছি আাগমিকালই সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘অসমাপ্ত’ মুক্তি পাচ্ছে। আর সেখানে একদম নতুন লুকে আপনি।

তা হলে বলা ভাল, ‘অসমাপ্ত’ টুকি। ওখানে টুকির চরিত্রটা করেছি আমি।

গল্পটা একটু বলবেন?

নামটার মধ্যেই ছবির বিষয় বলা আছে। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, জীবনে বেঁচে থাকা নিয়ে এক অসম্পূর্ণতার গল্প।

আর ‘টুকি’?

টুকি বিবাহিত। কিন্তু ওর বিবাহিত জীবনেই অসম্পূর্ণতা থেকে গিয়েছে। মানসিক, শারীরিক সবটাই জটিল অসম্পূর্ণ সম্পর্ক। এত দিন অনেক বোল্ড চরিত্রে আমাকে দেখেছেন দর্শক। কোনও কোনও ছবিতে বিবাহিত চরিত্রেও গণ্ডি ভেঙে বেরিয়ে আসার গল্পও ছিল। এখানে সেটা নেই। আসলে সব সময় চেষ্টা করি যাতে দর্শক নতুন ভাবে আমাকে দেখতে পান। সে ভাবেই বেছে নিই ছবি।

আরও পড়ুন, ‘যাঁরা সমালোচনা করছেন তাঁরাই নিয়মিত প্রত্যেকটা এপিসোড দেখছেন’

বেশ জটিল চরিত্র?

হুম। তবে চরিত্রে যত জটিলতা থাকে, ততই মঙ্গল। চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায় কাজটা।

সুমন তা হলে ব্রাত্য-স্বস্তিকার বিয়েটা দিয়েই ছাড়লেন।

(হাসি) এটা সত্যিই আনইউজুয়াল পেয়ারিং। এখানে আমি আর ব্রাত্যদা স্বামী-স্ত্রী। কেউ ভাববেও না আমাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে কাস্ট করা যায়।


শুটিংয়ে নায়িকা।

ব্রাত্য বসুর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

এটাই আমাদের প্রথম কাজ। প্রথমে উনি একজন মিনিস্টার বা পলিটিশিয়ান এত কিছু মাথায় ছিল। সেটা নিয়ে একটু ভাবতাম। কী হবে বাবা! যদি স্ট্রিক্ট হয়। ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর সিন রয়েছে তো (হাসি)। কিন্তু যখন দেখা হল, মনে হল ওই ব্যাগেজটা একেবারেই নেই। ছবিতে যা যা হয়েছে আমাদের, তাতে সব রকম কাজের এক্সপিরিয়েন্সই হয়ে গেল। গত ইলেকশনের সময় শুটিং করেছি আমরা। যদিও খুব মাথা ঠান্ডা করেই কাজ করেছেন ব্রাত্যদা। তবে বুঝতে পারছিলাম কোথাও একটা পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোনোর মতো ব্যাপারও কাজ করছে।

মজা করে কাজ হয়েছে তা হলে?

না। মানে ঠিক মজা বলব না। কোনও মজার সিন নেই। বরং সবটাই খুব এক্সহস্টিং ছিল। ইমোশনালি এক্সহস্টিং।

ব্যক্তি স্বস্তিকার জীবনে কোনও অসমাপ্তি রয়েছে? বা কোনও অসমাপ্ত সম্পর্ক?

সবার জীবনেই তো এমন নানা ঘটনা রয়েছে। দেখুন, সম্পর্ক আগেও হয়েছে। হয়তো থাকেনি। দানা বাঁধেনি। ফুল সার্কেল ক’টা ঘটনাতেই বা হয় আমাদের জীবনে? ফলে অসমাপ্তি থাকেই। খারাপ লাগাটাও থাকে। আমরা ওই খারাপ লাগাগুলোর সঙ্গে বাঁচতে শিখে যাই।

আরও পড়ুন, ‘পোশাক কোনও কোনও ক্ষেত্রে উত্তেজনা তৈরি করে, এটা মেয়েরাও জানে’

সুমনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও সুবিধে হয়েছে কি?
আসলে কাজের জায়গায় ব্যক্তিগত সম্পর্কটা ম্যাটার করে না। তবে সুবিধে একটাই হয়েছিল যে, স্ক্রিপ্টটা আগে আমি বহু বার পড়েছি। ১০ শতাংশ স্ক্রিপ্ট পড়েই বলেছিলাম ‘টুকি’টা আমার। আমি করব (হাসি)।

পরিচালক আপনার কথাতেই রাজি হয়ে গেলেন?
আমি তো বলেছিলাম, তুমি যদি বেটার কাউকে পাও তো নিতে পার। কিন্তু আমার মনে হয় না আর বেটার কাউকে পেত। দেখুন, এখনও পর্যন্ত যে সব পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি, যে সব চরিত্র করেছি, কেউ তো বলেনি কখনও যে খারাপ হয়েছে।

‘টুকি’র সঙ্গে স্বস্তিকার কোনও মিল রয়েছে?

আমরা মানে অভিনেতারা যে চরিত্রেই অভিনয় করি, তার সঙ্গে কোথাও না কোথাও মিল খুঁজে পাই বলে আমার মনে হয়। হয়তো আপাদমস্তক নয়। ফলে টুকির সঙ্গে আমার মিল কিনা জানি না, তবে একা বসে কখনও ভাবলে টুকির জন্য আমার যন্ত্রণা হয়। আমার সব সময়ই মনে হয়, শেষ পর্যন্ত কী হল টুকির? ওদের কি ভুল বোঝাবুঝি মিটল? ওরা কি আবার ভালবাসতে পারল? মানুষ হিসেবে তো আমাদের মধ্যে অনেক সত্ত্বা রয়েছে। মনে হয় ওকে যদি কেউ সাপোর্ট করত, ওর যদি কোনও বন্ধু থাকত…।

শুটিংয়ের অবসরে বাবা সন্তু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্বস্তিকা।

কাজটা করার আগে কোনও প্রস্তুতি ছিল?

আমার এত দিনের কেরিয়ারে কোনও দিনই কোনও প্রস্তুতি থাকে না। হ্যাঁ, এখন যে ছবিটা করছি সেই ভাষাটা জানি না বলে প্রিপারেশন নিতে হচ্ছে। তাই ওখানেও শুটিংয়ে গিয়ে আমি ‘টুকি’ হয়ে উঠতাম। সেই মুহূর্তে যে রিঅ্যাকশন আসত, সেটাই দিতাম।

আপনার বাবাও রয়েছেন এখানে। কেমন লাগল কাজ করে?

বাবার সঙ্গে এই ছবিতে স্ক্রিন স্পেস শেয়ার করিনি। কিন্তু আমরা গত বছর যে সময়টা শুট করেছি সেই সময় আমার মায়ের এক বছরের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। ভাল হয়েছিল যে, ওই সময়টা বাবা আমার কাছেই ছিলেন। না হলে একা একা বাড়িতে বসে মনখারাপ করত। বাবার সঙ্গে খুবই কম কাজ করেছি। সেই আক্ষেপটা তো রয়ে গিয়েছে।

ছবি সৌজন্যে: স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

Swastika Mukherjee Suman Mukhopadhyay Asamapto Bratya Basu Paoli Dam স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy