নব্বইয়ের কলকাতা মানে লোডশেডিং, দূরদর্শনের চিত্রহার-সুপারহিট মুকাবলার নিষিদ্ধ হাতছানি। তখনও পাড়ার মুদিখানায় কাচের বয়ামে মাছ-লজেন্স পাওয়া যেত। এমন সময়েই রাজার আগমন, ‘দ্য লায়ন কিং’। রাজা এলেন এবং জয় করলেন। যে কারণে ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যানিমেশন ফিল্মটি এখনও সর্বকালীন সেরা বক্স অফিসের তালিকায় সদর্পে রয়েছে। 

রিমেকে মূল কাহিনির কোনও বদল হয়নি। ’৯৪-এর ছবি আর এখনকার লাইভ অ্যাকশনে আসল তফাত শুধু এক্সপিরিয়েন্সে। থ্রিডি চশমা এঁটে নস্ট্যালজিয়ায় ভর করে ছোটবেলাটা ঘুরে দেখা যাক...

ছবির শুরুতে আফ্রিকান মিউজ়িক বুঝিয়ে দেয়, মুফাসা আসছে, সিম্বা আসছে। ছোট্ট সিম্বার কৌতূহল আর উত্তেজনা ভরা দৃষ্টি অ্যানিমেশনে ছিল না। এটাই লাইভ অ্যাকশনের ক্যারিশমা। ওয়াইল্ড লাইফ বিশেষজ্ঞের চোখে ‘দ্য লায়ন কিং’কে বিচার করা যায় না। মুফাসা-শরাবি-সিম্বার গল্প জঙ্গলের রুক্ষতার চেয়ে অনেক বেশি মানবিক। তাই সিম্বা আকাশ ভরা তারার নিচে বাবার সঙ্গে খেলতে খেলতে বলতে পারে, ‘তুমি আমার বন্ধুর মতো!’ তাই মুফাসা তার সন্তানকে শেখায়, খাদ্য আর খাদকের সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা কতটা জরুরি।   

দ্য লায়ন কিং
পরিচালনা: জন ফ্যাভেরু
অভিনয়: ডোনাল্ড গ্রোভার, জেডি ম্যাকক্রারি, জেমস আর্ল জোনস, চিউটেল এজিওফর
৭.৫/১০

এই গল্পে প্রেম আছে, ভিলেন আছে। নালা তার রানি হবে শুনে সিম্বা মুখ ভেটকায়! কারণ তারা তো বন্ধু আসলে। আছে দুষ্টু স্কার, যে দাদা মুফাসাকে মেরে রাজা হতে চায়। আছে সিম্বার দুই মিষ্টি বন্ধু পুম্বা আর টিমন, ছবির কমিক রিলিফ। 

 ‘দ্য লায়ন কিং’-এ মিউজ়িকের ভূমিকা অনেক। শুরুতে অ্যাফ্রো মিউজ়িকে ‘সার্কল অব লাইফ’ গোটা ছবির পাথেয়। শোনা যায় এলটন জন, বেয়ন্সের কণ্ঠ। এই ছবিতে গলার স্বরেই লুকিয়ে যাবতীয় অভিনয়। ছবির হিন্দি ভার্সন নিয়ে কিছু নেতিবাচক মতামত উঠে এলেও, ইংরেজি ভয়েস ওভার নিয়ে কোনও কথা হবে না। 

এ গল্পের শেষ বলতে বাধা নেই...সব ভাল যার শেষ ভাল। এ কাহিনি বাবা-ছেলের। এ গল্প রাজার রাজত্ব ফিরে পাওয়ার। আসলে সব বাবা-মা’ই ঈশ্বরী পাটনীর মতো চায়, তার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে। মুফাসাও তাই চায়, সিম্বাও তাই চায়... সার্কল অব লাইফ।