সদ্য মুক্তি পেয়েছে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের 'কিয়া অ্যান্ড কসমস'। স্বস্তিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘কোনও পোস্টার নেই। হোর্ডিং নেই। হয়তো হবেও না, কারণ বাজেট নেই। কিন্তু তাতে ভাল সিনেমা তৈরির প্রতি আমাদের বিশ্বাসকে আটকানো যাবে না। আপনিও যদি একই কথা বিশ্বাস করেন, ছবিটি দেখুন।’

এই ছবির গল্প এক স্পেশাল চাইল্ড নিয়ে। ১৫ বছরের এক কিশোরী 'কিয়া' কে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ছবির প্রেক্ষাপট। কিয়া আর পাঁচজনের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক নয়। সে 'পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার'-এ আক্রান্ত। যে রোগের কারণে তার বয়স ১৫ বছর হলেও তাঁর মানসিক বিকাশ ওই বয়সের কিশোরীদের মতো নয়। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এই ছবিতে কিয়ার মায়ের চরিত্র করেছেন।

তাঁর এই নতুন ছবির কথা বলতে গিয়ে আনন্দবাজার ডিজিটালে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে জানান, ছবিটির প্রচার ঠিক মতো হয়নি। এই ছবির সাংবাদিক বৈঠক হয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছিলেন সব মিডিয়ার আমন্ত্রণ সেখানে ছিল না। হালফিলে বাংলা ছবির একটা বড় জায়গা জুড়ে আছে প্রচারের ভাবনা। স্বস্তিকা জানিয়ে দেন, এই ছবির প্রযোজক ছবির জন্য টাকা নিশ্চয়ই দিয়েছেন কিন্তু সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়ার মতো প্ল্যাটফর্মে  ছবির প্রচার এবং অনেক দর্শকদের মধ্যে ছবির ভাবনা ছড়িয়ে পড়েনি। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন পরিচালকদের সমর্থন করার জায়গাটা তৈরি হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্বস্তিকার সাক্ষাৎকার পড়ে দফতরে ফোন করে কথা বলতে চান 'কিয়া অ্যান্ড কসমস' ছবির প্রযোজক পবন কানোরিয়া।
তিনি জানান, স্বস্তিকার বক্তব্যের সঙ্গে তিনি এক মত নন। 'কিয়া অ্যান্ড কসমস'-এর প্রযোজক হিসেবে তিনি কিছু কথা বলতে চান। তিনি বলেন, ' স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় 'কিয়া অ্যান্ড কসমস' ছবিতে অসাধারণ  কাজ করেছেন। ঋতিকার অভিনয় এবং পরিচালক এ ছবির সম্পদ। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে স্বস্তিকা যে অভিযোগ করেছেন তা ঠিক নয়'।

আরও পড়ুন, স্বস্তিকা আর সৃজিতের প্রেম কি ফিরে এসেছে?

পবন কানোরিয়া কথা প্রসঙ্গে জানান, প্রথম পর্যায়ে ক্রাউড ফান্ডিং দিয়ে শুরু হওয়া এই ছবি মুক্তি পেতই না যদি না তিনি এই ছবির প্রযোজনা করতে রাজি হতেন। ঠিক কী বলেছিলেন স্বস্তিকা?

আনন্দবাজার ডিজিটালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা প্রশ্ন রাখেন ' শুধু টাকা দিয়েই কী প্রযোজকের কাজ শেষ হয়ে যায়?' পবন কানোরিয়া এই  প্রশ্ন প্রসঙ্গে বলেন, 'এতদিন ধরে আমি ভাল কনটেন্টের ছবিকেই সাপোর্ট করে আসছি।বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত-র 'টোপ' সুমন মুখোপাধ্যায়ের 'কাঙাল মালসাট' কেউ প্রযোজনা করতে রাজি ছিল না। আমি এগিয়ে এসেছিলাম তখন। কারণ সিনেমা আমার প্যাশনের জায়গা।প্রেমের জায়গা। শুধু টাকা দিয়ে উদ্ধার করার প্রবৃত্তি হলে আমি বিদেশে টাকা লাগাতাম। এমন জায়গায় টাকা দিতাম না যেখান থেকে ফেরত আসার সম্ভাবনা কম'।


‘কিয়া অ্যান্ড কসমস’-এর দৃশ্যে স্বস্তিকা।

পবন কানোরিয়া দাবি করেন এই ছবির জন্য যথাসাধ্য প্রচার তিনি করে চলেছেন। তিনি জানান, 'শহরে বড় বড় জায়গায় আঠারোটা হোর্ডিং আছে এই ছবির। পোস্টার দেওয়া হয়েছে। মেট্রো স্টেশনে ছবির প্রচার হচ্ছে।কাগজে বিজ্ঞাপণ গেছে।আর কী করব?'

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন এই ছবির টাইমিং খুব খারাপ। আড়াইটের সময় কাজ ফেলে কে এই ছবি দেখতে যাবে?

পবন কানোরিয়া মনে করিয়ে দেন,  'ভাল টাইমিং কিন্তু এ ছবির ক্ষেত্রেও আছে। নন্দন-২, প্রিয়া-তে তো সন্ধে সাতটায় এই ছবি চলছে। দর্শক না গেলে আমি কী করব?' 

আরও পড়ুন, গত কয়েক মাস এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন আলিয়া!

পবন কানোরিয়া জানান,  'স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় একজন নাম করা অভিনেত্রী ওঁকেও এই ছবিতে ওঁর যোগ্য সম্মানিক দেওয়া হয়েছে। বিনা পারিশ্রমিকে উনি কাজ করেননি। আর একটা ভাল ছবি আমরা সবাই মিলে করলাম। উনি দারুণ অভিনয় করলেন। তো উনি ছবির প্রচার, ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে নেগেটিভ কথা বলছেন। এটা বললে কী বাংলা ছবিকে সাপোর্ট করা হচ্ছে? আমার খুব খারাপ লেগেছে। তাই এই কথাগুলো বললাম"।

এ দিকে স্বস্তিকার দাবি, এই ছবি নিয়ে তাঁর সাক্ষাত্কার প্রকাশিত হওয়ার পর ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ্যে এনেছিলেন প্রযোজক। সেই লাইভের লিঙ্ক সোশ্যাল ওয়ালে এখন আর নেই। তা কেন নেই, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নায়িকা।

কান অন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মঞ্চেই প্রথম প্রকাশ্যে এসেছিল সুদীপ্ত রায় পরিচালিত বাংলা ছবি 'কিয়া অ্যান্ড কসমস'-এর টিজার। গত ১১ মে কান প্যালাইস দি ফেস্টিভ্যালের 'প্যালাইস বি হল'এ ছবিটি প্রথমবার প্রদর্শিত হয়। সেখান থেকেই সাফল্যের যাত্রা শুরু 'কিয়া অ্যান্ড কসমস'-এর। এখন নায়িকা আর প্রযোজকের মতবিরোধ ছবির ওপর কোনও প্রভাব ফেলে কি না এখন সেটাই দেখার।

(কোন সিনেমা বক্স অফিস মাত করল, কোন ছবি মুখ থুবড়ে পড়ল - বক্স অফিসের সব খবর জানতে পড়ুন আমাদের বিনোদন বিভাগ।)