রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বলেই তাঁকে অনেকে জানেন। সমাজমাধ্যমে অরূপের সঙ্গে তাঁর অনেক ছবি আগেও দেখা যেত। সে রকম অনেক ছবি এখনও ঘোরাফেরা করছে সেখানে। তিনি কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিনেত্রীও। গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার হয়েছেন অরূপের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। টালিগঞ্জের ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সদ্যপ্রাক্তন সভাপতি। এই গ্রেফতারির ঘটনায় এই ঘটনায় কী প্রতিক্রিয়া অনন্যার?
তৃণমূল কাউন্সিলের স্পষ্ট জবাব, “বিষয়টা ন্যায় এবং অন্যায়ের বিষয়। আমি নিজে মনে করছি এটা ব্যক্তি নয়, প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াই হওয়ার প্রয়োজন। না হলে এমনটা চলতেই থাকবে। শুধু নামের পরিবর্তন হবে, রঙের পরিবর্তন হবে। মনে হচ্ছে সিস্টেমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। আশা করছি, সাধারণ মানুষের, বিশেষত টলিপাড়ার রাজনীতিতে মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভের সুবিচার হবে। বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রয়েছে আমার।”
আরও পড়ুন:
‘সিস্টেম’-এ খুঁত আছে, এটা কি শাসকদলের ঘনিষ্ঠ অনন্যা বুঝতে পেরেছিলেন আগে? একটা সময় শাসকদলের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। এই প্রশ্ন উঠতে তাঁর উত্তর, “এখানে তো মূলত স্টুডিয়োপাড়ায় রাজনীতি এবং সেখানে টেকনিশিয়ানদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের কথা উঠে আসছে। সেই দিক থেকে বললে, ব্যক্তিগত ভাবে আমি কোনও সমস্যার সম্মুখীন হইনি। আর আমি যেহেতু ফেডারেশনের কোনও পদে ছিলাম না, তাই আমার কাছে এসে কেউ অভিযোগও জানাননি। আমি সাধারণ আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য।”
আরও পড়ুন:
তবে অনন্যার সমস্যা হয়নি বলে যে, যাঁরা অভিযোগ জানাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষোভ ন্যায্য নয়, সেই ধারণা তৈরি হলে তা ভুল বলেই মনে করছেন তিনি। অনন্যা বলেন, “জনমত তৈরি হয়েছে। মানুষ সিস্টেমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সম্মান জানাতেই হবে। আবার বলছি, ব্যক্তি নয়, প্রবণতার বিরুদ্ধে থাকতে চাই। সিস্টেমের পরিবর্তন প্রয়োজন। ব্যক্তি, জার্সি বা রং-এর পরিবর্তনের কথা বলছি না। যে লঙ্কায়, সে-ই রাবণ যেন না হয়ে ওঠে। এটাই আমার মত।” অনন্যার মতে, আশা রাখতেই হবে নতুন সরকারের উপরে।