চরম বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন দিল্লি-চেন্নাই গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক এক্সপ্রেস। ঘটনাটি ঘটে ৪ মে, বৃহস্পতিবার। সেই দিন রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রেনটির গায়ে ইট ছুড়ে মারা হয়। ভারতীয় রেলে এ কোনও নতুন বিষয় নয়। এমনটা হামেশাই হতে দেখা যায়। কিন্তু এ বার তা মাত্রা ছাড়ায়। ইটবর্ষণের জেরে গুরুতর আহত হন সেই ট্রেনের সিনিয়র লোকোপাইলট। চারপাশ রক্তের চাদরে ঢেকে যায়। সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লি-চেন্নাই গ্র্যান্ড এক্সপ্রেসটি অন্ধপ্রদেশের প্রকাশম জেলার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। অজ্ঞাতপরিচয় কিছু লোকজন হঠাৎই ট্রেনটিকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক ইট ছুড়তে থাকেন। সেই ইটের আঘাতে ভেঙে যায় চালকের কেবিনের কাচ। এর ফলে গুরুতর আহত হন সেই ট্রেনের সিনিয়র লোকোপাইলট এম. জয়রাম। ট্রেনটির ইঞ্জিনও ইটবর্ষণের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন:
তবে এত কিছুর পরও তাঁরা ট্রেন ছোটানো থামাননি। যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তাঁরা ট্রেনটিকে আরও দ্রুত গতিতে ছোটাতে থাকেন। উলভাপাদু স্টেশনে এনে ট্রেনটিকে থামানো হয়। সেখানে রেলের জরুরি বিভাগের তত্ত্বাবধানে জয়রামকে একটি নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় প্রথমে। তার পর সেখান থেকে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, বর্তমানে জয়রাম স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর চিকিৎসা চলছে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছেন। কারা হামলা চালালেন এবং নেপথ্যে কী কারণ সেটি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, চূর্ণ-বিচূর্ণ ট্রেনের চালকের কেবিনের কাচ। মাথা নিচু করে বসে অঝোরে কেঁদে চলেছেন ট্রেনের সিনিয়র লোকোপাইলট। আশপাশ ভরে গিয়েছে রক্তে। ইটের আঘাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন সেই ক্রন্দনরত লোকোপাইলট, যা তাঁর আশপাশে পড়ে থাকা রক্ত দেখেই বোঝা যাচ্ছে। সেই কারণেই এ ভাবে কেঁদে চলেছেন তিনি। তাঁর পিঠে হাত রেখে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন রেলের অপর এক কর্মচারী। সিনিয়র লোকোপাইলটের পাশের আসনে বসে ট্রেন ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অপর এক চালক। এই অবস্থাতেও ট্রেন চালানো বন্ধ করেননি তিনি। ভয়ঙ্কর সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
‘ক্যাকটাসহুইয়ার’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি ভাইরালও হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০ লক্ষেরও বেশি বার ভিডিয়োটি দেখে ফেলা হয়েছে। প্রায় ২১ হাজার নেটাগরিক ভিডিয়োটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নেটাগরিকেরা চালকের শারীরিক অবস্থা ঘিরে উদ্বেগ জানিয়েছেন। চালকের কেবিনে বয়ে চলা রক্তের স্রোত দেখে ভয় পেয়েছেন নেটাগরিকেরা। চালকের নিরাপত্তা ঘিরেও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।