Advertisement
E-Paper

রাজনীতিতে আর বেশি জড়াতে চাই না, অভিনয় নিয়ে থাকব! যে ইন্ডাস্ট্রির ভাল চাইবে, তার পাশে আছি: দেব

“স্বরূপ আমাকেও ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন। পিয়াদির সামনে আমার একের পর ছবি বাতিল করার চেষ্টা করে হয়েছিল”, বললেন দেব।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ১৭:১২
দল বদলাবেন দেব?

দল বদলাবেন দেব? ছবি: সংগৃহীত।

লড়াই শুরু করেছিলেন তিনিই। তাঁর দাবি এমনই। নির্বাচনের অনেক আগে থেকে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে সেই লড়াই এ বার পূর্ণতা পেল। অনেক অতৃপ্তির মধ্যেও এই একটি বিষয়ে খুশি সাংসদ-অভিনেতা দেব।

দলের পরাজয় তাঁকে কষ্ট দিলেও, রাজ্যে এই বদলকে তাই দেব স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি খুশি। তার কারণটি নিজেই জানালেন দেব। তিনি বললেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের উপরে নিয়মের বোঝা চাপাতে পারবে না। সুষ্ঠু ভাবে কাজ হবে। কাজের পরিমাণ বাড়বে। বাইরে থেকেও কাজ আসবে।” এমনই আশা তাঁর। পাশাপাশি এ-ও বলেছেন, “যদি তৃণমূল কংগ্রেসের করা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।” তাই তাঁর পদ্মশিবিরের কাছে অনুরোধ, “ইন্ডাস্ট্রিকে বুঝে তার পাশে এসে দাঁড়ালে বেঁচে যাবে বাংলা ছবির দুনিয়া।”

পরবর্তী ফেডারেশন সভাপতি কি তবে দেব? প্রশ্ন শুনে ফের লম্বা শ্বাস নিলেন। তার পর বললেন, “আর রাজনীতিতে বেশি জড়াতে চাই না। আগের মতো মন দিয়ে অভিনয়টাই করতে চাই। এটাই বরাবর করে এসেছি।” তাঁর আশ্বাস, “বরাবর ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল চেয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল করার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের অনেক আগে থেকে আমার লড়াই শুরু। ভাল লাগছে, সেই লড়াই অবশেষে সফল হল। যিনি বা যাঁরা ইন্ডাস্ট্রির ভাল চাইবেন, নেপথ্যে থেকে আমি সব সময়ে তাঁদের পাশে।”

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা রাজ্যবাসী আগাম বুঝেছিল। আর বুঝেছিলেন রাজনৈতিক প্রার্থীরাও। তাই অসুস্থতা নিয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের হয়ে প্রচার করে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ-অভিনেতা। নির্বাচনের ফলাফলের দিন আচমকা ছন্দপতন। প্রিয় পোষ্যের মৃত্যু। একই সঙ্গে দলের পরাজয়।

একের পর এক ধাক্কা সামলে কেমন আছেন এখন দেব? রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী তিনি। এই বদল তাঁর কাছে কতটা যন্ত্রণার? সবিস্তার জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল তাঁর সঙ্গে। বিশেষ দিনে প্রিয় কারও চিরবিদায়কে অনেকেই অশুভ বলে মানেন। ফলঘোষণার দিন প্রিয় পোষ্যের বিদায় কি সে রকমই অশনি সঙ্কেত? তখন থেকেই তাঁর মন কু-ইঙ্গিত দিচ্ছিল? না কি তিনি আগাম আভাস পেয়েছিলেন?

দেবের কথায়, “লাকির মৃত্যু আচমকা। সকালে কাজে বেরোনোর সময়েও সুস্থ দেখেছিলাম। রাতে এসে শুনলাম, সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। হঠাৎ চলে গেল। খুব ধাক্কা খেয়েছিলাম। এই যন্ত্রণা বলে বোঝানোর নয়। যাঁরা পোষ্যপ্রেমী, কেবল তাঁরাই বুঝবেন আমার কষ্ট।” তবে তিনি কুসংস্কারে বিশ্বাসী নন, এ কথাও জানিয়েছেন। এই ধরনের কোনও ঘটনা কোনও বিশেষ বার্তা দেয়নি তাঁর মনকে। যেমন তিনি ভাবতে পারেননি, তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হবে। তবে আপাতত দুই ধাক্কা কিছুটা হলেও সামলে উঠেছেন। “দেখুন, অনেক কিছু মেনে নিতে হয়, মানিয়ে নিতে হয়। আমিও সেটাই করছি”, দাবি সাংসদ-অভিনেতার।

এ দিকে রাজ্যে গুঞ্জন, দেব নাকি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন! বিধানসভা নির্বাচনের আগেই নাকি তাঁকে ডাকা হয়েছিল। জল মাপতে তখন তিনি সাড়া দেননি। কথা শেষ হতেই মৃদু হাসি। পাল্টা প্রশ্ন দেবের, “এ সব কথা কারা ছড়ায়? মনে হয়, এই ধরনের রাজনীতিতে দেব বিশ্বাসী?” একটু থেমে শ্বাস নিয়েছেন। তার পর যোগ করেছেন, “রাজনীতি না করলে জীবনধারণ করতে পারব না, এ রকম অবস্থা তো আমার নয়! আমি তো রাজনীতি করতেই চাইনি। দিদি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে রাজনীতিতে এসেছি। ফলে, রাজনীতি না করলে আমার দিন চলবে না, এ রকম যাঁরা ভাবছেন, তাঁরা ভুল।”

এই প্রসঙ্গে দেব মনে করিয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, সোহিনী সরকার, অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর কাজের কথা। তাঁর বক্তব্য, “মিঠুনদা আর আমার ছবি ‘প্রজাপতি’ নন্দনে আটকে দেওয়া হয়েছিল। ওই দিনই ঘোষণা করেছিলাম, মিঠুনদাকে নিয়ে ‘প্রজাপতি ২’ করব। একই ভাবে রূপাদি, রুদ্র, সোহিনী, অনির্বাণ ‘ব্যান’ ছিলেন। একমাত্র আমি প্রত্যেককে নিয়ে কাজ করেছি। কারণ, আগে আমি অভিনেতা, টলিউডের অংশ। পরে রাজনীতিবিদ।” আরজি কর-কাণ্ডে প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ পাচ্ছিলেন না সোহিনী। তখন দেব তাঁর ছবি ‘রঘু ডাকাত’-এ অন্যতম নায়িকা হিসাবে বাছেন তাঁকে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে যখন প্রচণ্ড ব্যস্ত পশ্চিমবঙ্গ, তারই মধ্যে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘দেশু ৭’ ছবিতে অনির্বাণকে নেবেন। তাঁর দাবি, “আমি কোনও দিন টলিউডে রাজনীতি করিনি। সে কথা ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যেকে জানে।”

এ দিকে, বিজেপি শাসকদলের আসনে বসার আগেই ইম্‌পা-তে পদ্মশিবিরের প্রযোজকদের দাপট। তাঁরা সংগঠনের সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগ চাইছেন। কথাশেষের আগেই দেব বললেন, “আমি এই প্রথম নিরপেক্ষ থাকব। পিয়াদির সঙ্গে যা হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। একই ভাবে এই সকল প্রযোজক এত দিন বঞ্চিত ছিলেন। তাঁরা তো এ বার ন্যায্য অধিকার পেতে চাইবেনই।” দেবের স্মৃতিতে এখনও টাটকা তাঁর সঙ্গে ইম্‌পা-তে ঘটা একাধিক অন্যায়। “কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়দের মতো আমাকেও ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন অরূপ এবং স্বরূপ বিশ্বাস। আমি শুনিনি। তার জন্য কম হেনস্থা সহ্য করতে হয়েছে?” এখনও ক্ষোভ তাঁর কণ্ঠে। তাঁর দাবি, “একমাত্র আমি ইম্‌পা-র নির্বাচনে নোটায় ভোট দিয়েছিলাম। তা-ই নিয়েও কম তোলপাড় হয়নি। স্বরূপ আমার একের পর এক ছবিমুক্তি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পিয়াদির সামনেই। সে দিন পিয়াদি চুপচাপ সব দেখেছেন।”

BJP TMC Tollywood Swarup Biswas
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy