‘ইয়াহ্!’
এক-একটা পুরস্কার ঘোষণা হতেই ভেসে আসছিল চিৎকারটা। খুঁজে-পেতে সেই গলার মালিককে র্যাম্পে ডেকে আনলেন সঞ্চালক মীর। মঞ্চে তখন তাঁরই ছেলে হাত ভরা গোটা সাতেক ফুলের তোড়া সামলাতে হিমশিম।
ঝমঝমে বৃষ্টিতে খানিকটা দুশ্চিন্তা নিয়েই শুরু হয়েছিল ‘রিলায়্যান্স ট্রেন্ডস প্রেজেন্টস উনিশ কুড়ি গ্ল্যাম হান্ট ২০১৫’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। বুধ-সন্ধ্যার স্বভূমিতে রকি ও গোপার কোরিওগ্রাফিতে, অনুপমের কস্টিউমে যখন হাজির হল দশ প্রতিযোগী, ততক্ষণে ভরে গিয়েছে রঙ্গমঞ্চের দর্শকাসন। অবাক চোখে সবাই দেখছেন, কোন ম্যাজিকে এক্কেবারে বদলে গেল বাড়ির ছেলেমেয়েগুলো!
ভোল পাল্টে যাওয়ারই কথা। প্রাথমিক বাছাই পর্ব পেরিয়ে গত এক মাসের গ্রুমিংয়ে রূপ থেকে স্বাস্থ্য, চুল থেকে ত্বক— সবটাই তো পেশাদার ঘষামাজায় ঝকঝকে। ক্যাটওয়াক থেকে আদবকায়দার যাবতীয় খুঁটিনাটি শিখে ফেলে চলাফেরা, কথা বলায় দশ জনের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। যে আত্মবিশ্বাস ঝলকে উঠল তাদের রূপে-গ্ল্যামারে, প্রতিটি পদক্ষেপে— কখনও রিলায়্যান্স ট্রেন্ড-এর চনমনে ক্যাজুয়াল পোশাকে, কখনও রিমি-অভিষেকের জমকালো ককটেলওয়্যারে, কখনও বা সুরভি-রুচিরার খাঁটি ভারতীয় রং-ঝলমল সাজে।
‘রিলায়্যান্স ট্রেন্ডস প্রেজেন্টস উনিশ-কুড়ি গ্ল্যাম হান্ট ২০১৫’-র চূড়ান্ত সন্ধ্যায় মনামী ঘোষ। বুধবার, স্বভূমিতে। ছবি: প্রদীপ আদক।
এর মাঝেই জেতা হয়ে ছিয়েছে প্রাথমিক পর্বের একগুচ্ছ প্রতিযোগিতার পুরস্কার। নাচে-গানে মঞ্চ মাতিয়ে দিয়েছেন মনামী ঘোষ ও উজ্জয়িনী মুখোপাধ্যায়। যার রেশ কাটতে না কাটতেই এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। উনিশ-বিশ ফারাকের বাকিদের থেকে অনেকখানি এগিয়ে থাকা সায়ন কর্মকার এবং দীপশ্বেতা মিত্র প্রত্যাশিত ভাবেই এ বছরের গ্ল্যাম কিং ও গ্ল্যাম কুইন। তাদেরই ঝুলিতে সাতটি করে সাব-কনটেস্টের পুরস্কারও।
ছেলে ও মেয়ের মাথায় উঠছে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা। সায়নের বাবার এতক্ষণের উচ্ছ্বাসে গলা মিলিয়ে এ বার উল্লাসে ফেটে পড়লেন দীপশ্বেতার বাড়ির লোকেরাও।