Advertisement
E-Paper

ভাতা দিলে সমাজের উন্নতি না হোক, কোনও ব্যক্তির হয়, ক্লাবে অনুদান দিলে টাকা নষ্ট হয়: লিলি চক্রবর্তী

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনা-চিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৫
লিলি চক্রবর্তীর মতামত ভোট নিয়ে।

লিলি চক্রবর্তীর মতামত ভোট নিয়ে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?

লিলি চক্রবর্তী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এত মানুষ যখন ভোট দিচ্ছেন, তার মানে নিশ্চয়ই ওরা কাজ করছে। আমি রাজনীতি বুঝি না, কিন্তু মানুষের থেকে শুনতে পাই। তাই ওঁকেই আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।

২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে? 

লিলি: দল দেখে ভোট দিই।

৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?

লিলি: এ ভাবে ভাবিনি কখনও। কিন্তু হলে মন্দ হয় না। পরীক্ষা দিলে বরং বোঝা যাবে যে, প্রার্থী রাজনৈতিক ভাবে আদপে কতটা সচেতন। তবে ভোটে জেতার পর আর পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হয় না। যিনি বিধায়ক হয়েছেন, তিনি তো তার মানে রাজনীতি বুঝেই এই কাজে এসেছেন। কিন্তু রাজনীতিতে নতুন হলে, তখন না হয় দরকার পড়তে পারে।

Advertisement

৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?

লিলি: ও বাবা! কখনওই হতে চাই না। রাজনীতি আমার চিন্তাভাবনার মধ্যেই নেই। তবে যদি বদলের কথা বলতেই হয়, তবে ছেলেমেয়েরা চাকরিবাকরি পেলে একটু শান্তি পাই। আর পাশাপাশি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কিছু উপকার হোক, এটা চাইব। কারণ, এখন তো ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে। কত কত শিল্পী খালি হাতে বসে রয়েছেন।

৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?

লিলি: ইন্ডাস্ট্রিতে কী ভাবে কাজ হচ্ছে, সে বিষয়ে এখন আর খোঁজখবর রাখি না। ৮৪ বছর বয়স হয়েছে আমার। এখন এত তথ্যে ভারাক্রান্ত লাগে। তবে আমি যে ৬৬ বছর কাজ করেছি, তাতে অনেক সরকার এসেছে, গিয়েছে। তারা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু কাজ করেছে ইন্ডাস্ট্রির জন্য। তা সে কংগ্রেস হোক বা তৃণমূল অথবা সিপিআইএম। এখনও যদি কিছু সমস্যা থেকে থাকে, তা হলে অবশ্যই সেটি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তবেই না উন্নতি হবে ইন্ডাস্ট্রির।

৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?

লিলি: ভোট নিয়ে ভাবতেই চাই না খুব একটা। কী হয় না হয়, কী ভাবে হয়, আমি জানি না। নজর দিই না। তবে এখন যা অবস্থা হয়েছে সমাজের, তাতে দুর্নীতি আটকানো কি অত সহজ?

৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

লিলি: মানুষের জন্য কাজ করতে আসা বিধায়কেরা কেন বার বার দল বদলাবেন? যাঁরা এমন কাজ করেন, তাঁরা কেবল নিজেদের স্বার্থ দেখেন। কিছু সুবিধা পাওয়ার আশায় দল পাল্টান। আমি চাইব, নতুন দল যেন তাঁদের খারিজ করে দেয়, কারণ তাঁরা ভরসাযোগ্য নন।

৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?

লিলি: সাধারণ মানুষকে বোঝানোর জন্য ঘৃণা ভাষণের প্রয়োজন কেন পড়বে? তুমি কী কী কাজ পারো, তোমাকে কেন ভোট দেবে, সে সব নিয়ে বরং কথা বলো। আর এখন আমি রাজনৈতিক ভাষণ শুনি না বলে কেমন শব্দ প্রয়োগ হয়, তা জানিই না। যদি অপশব্দের ব্যবহার হয়ে থাকে, তা হলে তা বন্ধ হওয়া উচিত। ভাষা পরিশীলিত হওয়াটা খুব জরুরি।

৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

লিলি: উন্নয়ন এলে বাকি সব ধীরে ধীরে চলে আসবে। আর দেশজ সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা করে বলার প্রয়োজন কেন পড়বে, সেটিই তো বুঝতে পারি না। তা তো আমাদের শিকড়েই রয়েছে।

১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?

লিলি: সমাজের তো উন্নতি হয় না, কিন্তু কিছু মানুষের ভাল হয়। চাকরি নেই, কাজ নেই, খানিক টাকা পেলে সুবিধাই হয়। তবে ক্লাবে অনুদান দিয়ে টাকা নষ্ট করা আমি পছন্দ করি না। সেই টাকা সমাজের কাজে লাগছে না।

১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?

লিলি: একেবারেই নয়। বিরোধী থাকলেই বরং সরকার কাজ করার স্পৃহা পায়। আমি এমন কাজ করব, যাতে আমাকে সরাতে না পারে— বিরোধী থাকলে এই মনোভাব দেখা দেবে।

১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?

লিলি: নামকরা তারকা নিলে খানিক ভোট তো অবশ্যই টানা যাবে। কিন্তু তিনি যদি কাজ না করেন, তা হলে বেশি দিন টিকতে পারবেন না।

১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?

লিলি: ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর কথা বলা, সাজগোজ দেখে বেশ একজন রাজনীতিক বলে মনে হত।

Celebrity Voter Interview
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy