প্রেম ও পেশা সমান্তরাল ভাবেই চলে। সাফল্যের চূড়ায় উঠতে গিয়ে দুই পথের লড়াই বেধে যাওয়াটা আশ্চর্যের নয়। তবে কোন সময়ে কোন পথটি বেছে নেবেন, সে ভাবনাই আসল। আর সেখানেই মুন্সিয়ানা। প্রেম ও পেশার লড়াইয়ে কাকে এগিয়ে রাখবেন, সে নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন অভিনেতা বিজয় বর্মা।
বলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেতা তিনি। সেটি যেমন তাঁর অভিনয় দক্ষতায়, তেমনই সম্পর্কের নানা টানাপড়েনেও। তমন্না ভাটিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে বিজয়কে নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে। তাতে ইন্ধন জুগিয়েছেন অভিনেত্রী ফতিমা সানা শেখের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন। আদতে ফতিমার সঙ্গেই প্রেমটা করছেন, না কি অন্য কারও প্রেমে মজেছেন বিজয়, তা নিয়েও কৌতূহলের শেষ নেই। তাই প্রেম নিয়ে বিজয় কোনও মতামত দিলে, তা স্বাভাবিক ভাবেই খবর হয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিজয় জানিয়েছেন, প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে উচ্চাকাঙক্ষা। সাফল্যের সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে এই সারসত্যটি বেশ বুঝেছেন তিনি।
শোনা গিয়েছিল, তমান্না বিয়ে করে থিতু হতে চেয়েছিলেন। তাতে সায় ছিল না বিজয়ের। সেখান থেকেই পথ আলাদা হয় দু’জনের। প্রেম ও পেশার সমীকরণ নিয়ে বিজয়ের ভাবনা সে দিকেই ইঙ্গিত করেছে কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে অভিনেতার মত, এক জন শিল্পীর জীবনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকাটা জরুরি। কিন্তু, তাতেও ভারসাম্য থাকতে হবে। প্রেম ও পেশার পথে ভারসাম্য থাকাটাই জরুরি। এ বিষয়ে অভিনেতার ব্যাখ্যা, শুরুতে তাঁর লড়াইটা ছিল কেবল টিকে থাকার। কিন্তু এখন তিনি এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি নিজের পছন্দমতো চরিত্র বেছে নিতে পারেন। এই সাফল্য তাঁকে স্বার্থপর করে তোলেনি। বরং আরও দায়িত্বশীল করেছে। বুঝেছেন, পেশাগত জীবনের ওঠানামা যতই থাক না কেন, তাতে জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলো হারিয়ে গেলে চলবে না।
আরও পড়ুন:
‘মির্জাপুর’, ‘কালকূট’-এ জটিল চরিত্রে অভিনয়ের পরেই প্রেমের গল্প ‘গুস্তাক ইশক’-এ প্রেমিক চরিত্রে নিজেকে বদলে ফেলতে হয়েছে। এই বদলটা নিজের মধ্যে নিয়ে আসার সময়েই অনুভব করেছেন, জীবনে এক জন সঠিক মানুষের উপস্থিতি মানসিক প্রশান্তি দেয়। একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। প্রেম ও পেশার মধ্যে যদি বেছে নিতে বলা হয়, তা হলে তিনি হয়তো প্রেমকেই এগিয়ে রাখবেন। কারণ, তিনি বাস্তববাদী। গভীর ভাবে ভাবতে ভালবাসেন। পর্দার খলচরিত্র বা জটিল কোনও রসায়নে অভিনয় করলেও, তাঁর একটি প্রেমিক মন আছে যা তিনি আজীবন সযত্নে বাঁচিয়ে রাখতে চান।