Advertisement
E-Paper

‘বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হব কি না তা-ই জানি না, তান্ত্রিক লোকনাথের শরণ নেব কি’: কাঞ্চন

“জানেন, আমি এখন যজ্ঞের কাঠ ধরাতে পারি! যজ্ঞ করতে পারি। যজ্ঞ চলতে চলতে যদি সাজানো কাঠ ভেঙে যায়, সঙ্গে সঙ্গে সেটি তৈরি করে জ্বালিয়ে দিতে পারব।”

উপালি মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৭
কাঞ্চন মল্লিক তন্ত্রমন্ত্রে বিশ্বাসী?

কাঞ্চন মল্লিক তন্ত্রমন্ত্রে বিশ্বাসী? ছবি: ফেসবুক।

প্রশ্ন: এত বছর ধরে কৌতুকাভিনয়। এ বার কাঞ্চন মল্লিক ওয়েব সিরিজ়ে ‘দুষ্টু লোক’?

কাঞ্চন: দুষ্টুমি ঠিক নয়। ‘দুষ্টু’ বললে লোকনাথ চক্রবর্তীকে ভুল ব্যাখ্যা করা হবে। তিনি কিন্তু সেই অর্থে ‘ধূসর’ বা ‘খল’ নন। তন্ত্রবিদ্যাকে গুপ্তবিদ্যা হিসাবে দেখলে এটা কিন্তু এক ধরনের ডাক্তারিবিদ্যা। একই পেশায় কিছু চিকিৎসক রোগীর প্রাণ বাঁচান। কিছু চিকিৎসক কিডনি পাচারও করেন। সেই জায়গা থেকে দেখলে, তান্দ্রিক-অধ্যাপক ভাদুড়িমশাইয়ের সেরা ছাত্র লোকনাথ। অতিরিক্ত কৌতূহল দেখাতে গিয়েই শিক্ষকের বিরাগভাজন। তিনি শিক্ষকের শেখানো বিদ্যার পাশাপাশি শবসাধনাও শিখতে চেয়েছিলেন। এর জেরেই তাঁকে বের করে দেন ভাদুড়িমশাই। ছাত্র বেরিয়ে যাওয়ার আগে শিক্ষককে বলে যান, “গুরুদেব, আবার দেখা হবে”। শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করবেন বলেই লোকনাথ তান্ত্রিক চারপাশে এত গণ্ডগোল ঘটাতে শুরু করেন। সেখান থেকেই ‘মিতুল’-এর অপহরণ।

প্রশ্ন: লোকনাথ তো সোজা পথেও ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন?

কাঞ্চন: সেটা হবে না বলেই লোকনাথ বাঁকা পথ ধরেছিলেন। তিনি জানতেন, যাকে কেউ তাড়িয়ে দেয়, তার সঙ্গে সোজা ভাবে দেখা করে না। লোকনাথ তাই এমন কিছু কাজ করতে শুরু করেন, যাতে ভাদুড়িমশাই বাধ্য হন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। আরও একটি ব্যাপার। লোকনাথ আদতে খারাপ নয় বলেই এক রজঃস্বলা মেয়েকে ‘মা’ সম্বোধন করে বলেছিলেন, “আমাকে একটু রক্ত দিবি মা?” খারাপ হলে ‘মা’ শব্দের ব্যবহার করতেন না। অনুরোধও জানাতেন না। আদেশ করতেন। তা ছাড়া, লোকনাথের নারী আসক্তিও নেই। পিশাচ গেনু এক মেয়ের প্রতি লুব্ধ হলে, তিনি ওই মেয়েটিকে মন্ত্র দিয়ে বেঁধে যান, গেনু যাতে সেই মেয়েটিকে স্পর্শ না করতে পারে। আর একটা কথা বলি?

মুখোমুখি লোকনাথ চক্রবর্তী, ভাদুড়িমশাই।

মুখোমুখি লোকনাথ চক্রবর্তী, ভাদুড়িমশাই। ফাইল চিত্র।

প্রশ্ন: অবশ্যই...

কাঞ্চন: শুধুই কৌতুকাভিনয় করছি, সেটিও কিন্তু ঠিক নয়। একটা সময়ের পর থেকে আমি কিন্তু অন্য ধারার চরিত্রে অভিনয় করছি। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘রাজকাহিনী’ থেকে সেই ধারা শুরু। ‘মন্টু পাইলট’, ‘নিকষছায়া ১’-কে এই তালিকাতেই ফেলব।

প্রশ্ন: তান্ত্রিকের ভূমিকায় এই প্রথম?

কাঞ্চন: হ্যাঁ, এই প্রথম এতটা সময় ধরে আমি তান্ত্রিকের ভূমিকায়।

প্রশ্ন: কী ভাবে নিজেকে তৈরি করলেন?

কাঞ্চন: প্রথমত, কাহিনিকার শৌভিক চক্রবর্তী খুবই সহযোগিতা করেছেন। ‘নিকষছায়া ১’-এ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও খুবই সাহায্য করেছিলেন। জানেন, আমি এখন যজ্ঞের কাঠ ধরাতে পারি! যজ্ঞ করতে পারি। যজ্ঞ চলতে চলতে যদি সাজানো কাঠ ভেঙে যায়, সঙ্গে সঙ্গে সেটি তৈরি করে জ্বালিয়ে দিতে পারব।

প্রশ্ন: মন্ত্র মুখস্থ করা, আঙুলের কর গুণে জপের পদ্ধতি?

কাঞ্চন: জপের পদ্ধতি জানি। ধ্যানমন্ত্র, পূজামন্ত্র, আহুতিমন্ত্র শিখেছি। পিশাচমন্ত্রের বেলায় বলেই দিয়েছিলাম, ও সব পারব না। কে, কখন নেমে এসে থাপ্পড় মেরে দেবে! গণ্ডগোলে পড়ে যাব (হাসি)। তবে আমার রূপটানের পিছনে একটা গল্প আছে।

প্রশ্ন: কী সেটা?

কাঞ্চন: একবার আমি আর শ্রীময়ী বারাণসী বেড়াতে গিয়েছিলাম। ওর ভাই থাকে ওখানে। একদিন আমরা গভীর রাতে ঘাটে বসে। সেখানে এক অঘোরী তান্ত্রিককে দেখেছিলাম। তিনি এসে গঙ্গায় নেমে, সম্ভবত আচমন সেরে উঠে চলে গেলেন। তাঁকে দেখে আমার শিরদাঁড়া দিয়ে হিমস্রোত বয়ে গিয়েছিল! কী ব্যক্তিত্ব, কী দাঢ্যতা। সারা মুখে ছাইমাখা। পা পর্যন্ত জটা। কাছে যাওয়ার সাহস পাইনি। সিরিজ়ে আমার তিন বার লুক সেট হয়েছিল। এক, লোকনাথ যখন পড়াশোনা করছেন। দুই, যখন ভাদুড়িমশাইয়ের কাছে তাঁর সাধনা চলছে। তিন, যখন সাধনা সম্পূর্ণ। তিনটি লুক শ্রীময়ী দেখেছিল। তৃতীয় লুক দেখে ও বলেছিল, “তোমায় দেখে ভয় পাচ্ছি না। কাঞ্চন মল্লিক মনে হচ্ছে।” কথাটা আমায় ধাক্কা দিয়েছিল। তৃতীয় লুক তাই আর একবার করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। রূপসজ্জাশিল্পী অভিজিৎ ল্যাটেক্স দিয়ে সারা মুখে ভাঁজ, আর জলফোসকা তৈরি করে করে দিয়েছিলেন। মোটা করে ছাই মেখেছিলাম। সেই লুকটাই দর্শক দেখেন। এর পর আর চরিত্রটি বহন করতে হয়নি। আমি যাপন করেছি।

প্রশ্ন: ‘কালাজাদু’ কোনও প্রভাব ফেলেছিল?

কাঞ্চন: শরীর ভারী হয়ে যেত! আমি এমনিতে ভীষণ ছটফটে। মেকআপ করার পর অদ্ভুত পরিবর্তন। সেই ছটফটানি নেই। নড়াচড়া আস্তে হয়ে যেত। বাস্তবে যেন ‘লোকনাথ চক্রবর্তী’ হয়ে যেতাম। কথাবার্তাও খুব শান্ত ভাবে বলতাম।

প্রশ্ন: মুক্তির সময় পিছিয়ে যাওয়ায় দর্শকের আগ্রহে ভাটা?

কাঞ্চন: কী বলছেন! আমার নির্বাচনী এলাকার লোকজন খোঁজ নিচ্ছেন, কবে তাঁরা সিরিজ় দেখতে পাবেন। আর শীত তো পুরোপুরি যায়নি! ঠান্ডায় ভূতের ভয় ভালই লাগে (হাসি)।

প্রশ্ন: যে কারণে সিরিজ়ের পরিচালক বদল, সেই কারণটা কি খুব কাম্য ছিল?

কাঞ্চন: আলোচনাতেই যাব না। কেন কাম্য নয়, সেই পরিচালক পরে কী বললেন প্রকাশ্যে—এ সব নিয়ে কিচ্ছু বলব না। সবাই সব কিছু দেখেছেন, জানেন। কথা হল, কাজটা হয়েছে। হইচই ওয়েব প্ল্যাটফর্মেই আবার দেখা যাবে। পরবর্তী কালে এই সিরিজ় আবার পরমব্রতই পরিচালনা করবেন।

‘তান্ত্রিক’ রূপে কাঞ্চন মল্লিক।

‘তান্ত্রিক’ রূপে কাঞ্চন মল্লিক। ছবি: ফেসবুক।

প্রশ্ন: তন্ত্র, ভূতে বিশ্বাসী?

কাঞ্চন: ওরে বাবা! খুব বিশ্বাস করি। দারুণ, ভয় পাই। অভিজ্ঞতাও আছে। সরাসরি হয়তো কিছু দেখিনি। কিন্তু তেমন কোনও জায়গায় গেলে শরীর ভারী হয়ে যায়। খুব অস্বস্তি হতে থাকে। বুঝতে পারি, কিছু গোলমাল আছে।

প্রশ্ন: গভীর রাতে শুটিং করতে গিয়ে এ রকম কোনও অভিজ্ঞতা?

কাঞ্চন: না, ভূত দেখিনি। তবে আমার এক সহকর্মীকে দেখে খুব ভয় পেয়েছি।

প্রশ্ন: ‘পিশাচ গেনু’ ওরফে পল্লব মুখোপাধ্যায়?

কাঞ্চন: আরে না না। পল্লবদা খুবই ভালমানুষ। শিক্ষকতা করেন। সিরিজ়ে আমার যিনি স্ত্রী হয়েছেন, তাঁকে দেখে ভয় পেয়েছিলাম। দৃশ্যে আছে, স্ত্রীর আত্মা বসা অবস্থায় তাকাবে। মাটির ঘর, স্যাঁতসেঁতে। হাজার জিনিস ডাঁই করা। টিমটিম করে কুপি জ্বলছে। আমার সামনে আগুন জ্বলছে। যজ্ঞে আহুতি দিয়ে সামনে তাকিয়েই আত্মরাম খাঁচাছাড়া! ওই চরিত্রাভিনেত্রী এত ভাল অভিনয় করেছিলেন যে, আমার ভয়ে চেঁচিয়ে ফেলার আগের অবস্থা।

প্রশ্ন: কাঞ্চন মল্লিক কি তান্ত্রিক লোকনাথ চক্রবর্তীর থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জিতে ফেরার গুপ্তমন্ত্র জেনেছেন?

কাঞ্চন: জিতব কী? নিজেই জানি না কী হবে! আর এ কথা বলার আমি কে? আপনারা বরং তৃণমূল ভবনে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, আমি ভোটে দাঁড়াচ্ছি কি না। আমি কী করে জানব! দল ঠিক করবে।

nikosh chhaya Sayantan Ghosal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy