এর আগে শান্তিনিকেতনে বেশ কয়েকবার ইংরাজি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। কিন্তু বোলপুরে এই প্রথম। সৌজন্যে ‘পোয়েসিস নাট্য উৎসব’। আয়োজক নাট্য দল পোয়েসিস আত্মপ্রকাশের প্রথম বছরেই আয়োজন করেছে এই উৎসবের। আগামী শনি এবং রবিবার বোলপুর পুরসভার অনুষ্ঠান মঞ্চে আয়োজিত হতে চলেছে সেই নাট্য উৎসব।
উদ্যোক্তারা জানান, একই মঞ্চে বাংলা এবং ইংরাজি মিলিয়ে মোট চারটি নাটক অভিনীত হবে। থাকছে নাটকের গানের পৃথক অনুষ্ঠানও। উৎসবে যোগ দেবেন বোলপুর, শান্তিনিকেতন এবং কলকাতার বিভিন্ন নাটকের দল। আয়োজক দল পোয়েসিসের নির্দেশক, বিশ্বভারতীর ইংরাজি বিভাগের অধ্যাপিকা শুক্লা বসু (সেন) জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা নাট্য পরিচালক সুদীপা বসু, বাচিক শিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখের।
শুক্লাদেবী জানান, উৎসবে মঞ্চস্থ হবে সুদীপা বসু এবং গেন ওয়াং নির্দেশিত ‘হ্যাপি বার্থ ডে’। এ ছাড়াও থাকছে শান্তিনিকেতনের স্থাপনা, রূপ-কথা, বোলপুরের সপ্তরঙ এবং আয়োজক দল পোয়েসিসের নাটক এবং গানের অনুষ্ঠান। পরিচালক তথা নাট্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অভিজিত সেন, শান্তিনিকেতনের নাট্যচর্চার সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্ত সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমরা সবুজ নাট্য দলের পরিচালক জুলফিকার জিন্নাকে ‘পোয়েসিস নাট্য সম্মান’ দেওয়ার কথা রয়েছে ওই অনুষ্ঠানে।
শুক্লা দেবী জানান, উইলিয়াম শেক্সপীয়ারের ৪৫০তম জন্মবর্ষে সালাম-এ-শেক্সপীয়র নামে একটি নাট্যানুষ্ঠান করেছিলেন তাঁরা। সেই উৎসবে ‘অ্যাজ ইউ লাইক ইট’ এবং ‘এ মিড সামার নাইটস ড্রিম’-এর অনুবাদ মঞ্চস্থ হয় ‘নিদাঘ নিশীথের খোয়াবনামা’ নামে। এ ছাড়াও আফ্রিকান-আমেরিকান নাটককার আগস্ট উইলসনের ‘ফেন্সেস’ নাটকের অনুবাদ ‘বেড়া’ নামে মঞ্চস্থ করেছেন তাঁরা। এ ছাড়াও বোলপুর এবং শান্তিনিকেতনের নাট্য দলগুলির মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তুলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তিনি জানান,স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কাছে শেক্সপীয়রের নাটকগুলি প্রাঞ্জল করে তুলতে ‘নো ফিয়ার শেক্সপীয়র’ নামে একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে পোয়েসিসের উদ্যোগে। সেই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই কলকাতা এবং জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা এবং নাটক অভিনয়ের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
নাট্যোৎসব। দু’টি নাট্য উৎসব শেষ হল। রবিবার ছিল সাঁইথিয়ার আসর নাট্যম গোষ্ঠীর দু’ দিনের ‘নীহার স্মৃতি নাট্য উৎসব’-এর শেষ দিন। এ দিন রবীন্দ্রভবনে মঞ্চস্থ হয় লাভপুরের দিশারী সাংস্কৃতিক চক্রের ‘বাউল’ এবং হালিশহর ইউনিটি মালঞ্চের ‘গণেশ গম্ভীরা’।