রোজের রান্নায় এ মশলার ব্যবহার হয় না ঠিকই, তবে এই মশলা বঙ্গে দুর্লভ নয়। বরং নাম অনেকেই শুনে থাকবেন— কবাবচিনি।
নামে চিনি তবে দর্শনে তা নয়। বরং তাকে দেখতে অনেকটা গোলমরিচের মতো। আর স্বাদে লবঙ্গ, দারচিনি আর জায়ফলের মিশেল। কারণ এতে লবঙ্গের ঝাঁঝ আছে, দারচিনির মিষ্টত্ব আছে, আর আছে জায়ফলের গন্ধ। এ হেন মশলা শীতকালের সমস্যা মেটাতেও অত্যন্ত কার্যকরী বলে জানাচ্ছেন মুম্বইয়ের এক পুষ্টিবিদ ডিম্পল জাংরা। যিনি নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় মাঝেমধ্যেই নানা সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান জানিয়ে থাকেন।
ডিম্পল জানাচ্ছেন, শীতকালে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এই সময়ে ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে কবাবচিনি উপকারে লাগতে পারে। এটি শরীরকে উষ্ণ রাখার পাশাপাশি শীতকালীন নানা রোগ দূরে রাখতে সাহায্য করে।
১. বুক ও গলার কফ পরিষ্কার
শীতকালে বুকে কফ জমার সমস্যা নাজেহাল করে ছাড়তে পারে। অনেকেরই এ থেকে দীর্ঘস্থায়ী কাশির সমস্যা তৈরি হয়, যা গোটা শীতকাল জুড়েই ভোগাতে পারে। কবাবচিনি এই সমস্যার সমাধানে সিদ্ধহস্ত। এটি শ্বাসনালী থেকে শ্লেষ্মা বা কফ বের করে দিয়ে ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখে। এটি হালকা গরম জলের সঙ্গে ফুটিয়ে বা চায়ে মিশিয়ে খেলে ফুসফুস ও শ্বাসনালী পরিষ্কার থাকে।
২. গলা ব্যথা ও খুসখুসে কাশি
ঠান্ডায় গলা বসে যাওয়া বা খুসখুসে কাশির সমস্যায় কবাবচিনি দারুণ কাজ করে। ২-৩টি কবাবচিনির দানা এবং সামান্য আদা দিয়ে চা তৈরি করে খেলে গলার প্রদাহ কমে এবং আরাম পাওয়া যায়।
৩. শরীর উষ্ণ রাখতে
কবাবচিনি শরীরকে ভিতর থেকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। শীতকালে শরীরে এক ধরনের জবুথবু ভাব চেপে বসে। সেই আড়ষ্টতা কাটাতে এবং উদ্যমের জোগান দিতেও সাহায্য করে এই মশলা। রান্নায় এই মশলা ব্যবহার করলে তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৪. সাইনাস ও মাথাব্যথা সারাতে
শীতে অনেক সময় সাইনাসের ব্যথা বাড়ে। কবাবচিনির অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান প্রদাহ কমিয়ে সাইনাসের সমস্যা কমায়। এমনকি, ঠান্ডা লেগে হওয়া মাথা ব্যথা দূর করতেও এটি কার্যকরী।
৫. কণ্ঠস্বর পরিষ্কার করতে
ঠান্ডায় অনেকের কণ্ঠস্বর ভেঙে যায় বা গলা বসে যায়। তাঁরা যদি এক চিমটি কবাবচিনির গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে চেটে খান, তবে কণ্ঠস্বর দ্রুত স্বাভাবিক হয়। সঙ্গীতশিল্পীরা এই টোটকা প্রায়ই ব্যবহার করেন।
কী ভাবে খেতে পারেন?
কবাবচিনি চা: ২ কাপ জলে ৩-৪টি কবাবচিনি, ১টি লবঙ্গ এবং এক টুকরো আদা দিয়ে ফুটিয়ে ১ কাপ করুন। এর পর সামান্য মধু মিশিয়ে রাতে ঘুমোনোর আগে পান করুন। এটি শীতকালীন ঠান্ডা ও কাশির জন্য একটি চমৎকার প্রতিষেধক।