সবরকম পুষ্টগুণ সম্পন্ন খাবার ঋতুচক্রের শারীরিক অস্বস্তি, পেটে ব্যথা এবং অনিয়ন্ত্রিত মেজাজের সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। এই সময়ে শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে যাওয়ার কারণে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। তাই পিরিয়ড চলাকালীন ডায়েটে নিচের খাবারগুলো রাখলে ভাল থাকবেন মহিলারা।
১. আয়রন সমৃদ্ধ খাবার
পিরিয়ডের সময় রক্তক্ষরণের কারণে শরীরে আয়রনের মাত্রা কমে যায়, যা থেকে ক্লান্তি ও মাথা ঘোরানো হতে পারে।
কী খাবেন: পালং শাক, কচু শাক, পাঁঠার মাংস (পরিমাণ মেপে), ডাল এবং বেদানা।
২. ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম
পেটে ব্যথা বা ক্র্যাম্প কমাতে ম্যাগনেসিয়াম জাদুর মতো কাজ করে। এটি পেশিকে শিথিল রাখতে সাহায্য করে।
কী খাবেন: কলা, কুমড়োর বীজ, কাজু বাদাম এবং ডার্ক চকলেট (৭০ শতাংশ কোকো থাকলে ভাল, এটি মেজাজ ভাল রাখে)।
৩. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
এটি জরায়ুর প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে, ফলে পিরিয়ডের ব্যথা কম অনুভূত হয়।
কী খাবেন: সামুদ্রিক মাছ, তিল, তিসির বীজ এবং আখরোট।
৪. শরীর আর্দ্র রাখে এমন খাবার ও জল
শরীরে জলের অভাব হলে পেট ফাঁপা এবং মাথাব্যথা বেড়ে যায়।
কী খাবেন: প্রচুর জল পান করুন। এছাড়া শসা, তরমুজ বা ডাবের জল খেতে পারেন। উষ্ণ জল বা আদা চা পিরিয়ডের অস্বস্তিতে খুব আরাম দেয়। পিরিয়ডের সময় পেটে খুব ব্যথা হলে এক কাপ আদা-লেবুর চা খেয়ে দেখুন। এটি প্রাকৃতিক বেদনানাশক হিসেবে কাজ করে।
৫. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি
পিএমএস বা পিরিয়ডের আগের অস্বস্তি এবং শরীরের হাড়ের ব্যথা কমাতে ক্যালসিয়াম খুব কার্যকর।
কী খাবেন: টক দই (এতে প্রোবায়োটিক থাকে যা হজমেও সাহায্য করে), দুধ এবং চিজ।
যা এড়িয়ে চলবেন
অতিরিক্ত নুন: নুন শরীরে জল জমিয়ে রাখে যা শরীর ভারী ও ফোলা ভাব তৈরি করে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন: কফি বা এনার্জি ড্রিংক পিরিয়ডের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং দুশ্চিন্তা বাড়ায়।
বেশি ঝাল ও মশলাদার খাবার: এটি পেটে গ্যাস বা বদহজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।