গাজর, দুধ, টাটকা ফল, সব্জি চোখের জন্য ভাল, সে কথা সকলেরই জানা। কিন্তু চোখের ক্ষতি করতে পারে, সেই খাবার সম্পর্কে সচেতন কি? হায়দরাবাদের এক চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক পলক ম্যাকওয়ানা সতর্ক করছেন এমনই ৫টি খাবার নিয়ে। ছোট থেকে বড়— যে কেউ নিয়মিত এমন ধরনের খাবার খেলে, চোখের ক্ষতি অনিবার্য।
রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট: পাস্তা, পেস্ট্রি খেতে ছোটরা খুবই ভালবাসে। তাদের আবদার মেটাতে সেই খাবার খাওয়ানও অভিভাবকেরা। তবে চিকিৎসক সতর্ক করছেন, নিয়মিত এই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয় একেবারেই। এতে শুধু স্থূলত্বের ঝুঁকি বাড়ে না, ক্ষতি হয় চোখেরও। তার কারণ, এই ধরনের খাবার খেলে রক্তে দ্রুত শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, যা রেটিনা কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে।
মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট: নুড্লস-সহ প্যাকেটবন্দি অনেক ধরনের খাবার খাওয়ার চল বেড়েছে। স্বাদ বৃদ্ধিতে কোনও কোনও মশলায় ব্যবহার হয় এমএসজি বা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট। এই ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়া হলে এক্সাইটোটক্সিসিটি তৈরি হতে পারে। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ গ্লুটামেট-এর অধিক সক্রিয়তার জন্য উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তা থেকে চোখেরও ক্ষতি হতে পারে।
ভাজাভুজি: বেঙ্গালুরু নিবাসী চক্ষু চিকিৎসক ভব্য রেড্ডি বলছেন, রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো না হলে এজ রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হয়। এটি এমন একটি অসুখ, যেখানে রেটিনার ম্যাকুলা অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মূলত বয়স্কদের হয় এই রোগ। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, চোখ ভাল রাখতে হলে ছোট থেকেই অতিরিক্ত ভাজাভুজি খাবারে রাশ টানা প্রয়োজন।
নুন: চিপ্স থেকে ভাজাভুজি— অনেক খাবারেই স্বাদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে নুন দেওয়া থাকে। সোডিয়াম শরীরে জরুরি, তবে মাত্রাতিরিক্ত নুন নিয়মিত খেলে পরোক্ষে তা চোখের ক্ষতি করতে পারে। নুন বেশি খেলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তা থেকেই চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মদ্যপান: অতিরিক্ত মদ্যপানে শরীরের নানা অংশের ক্ষতি হয়। মদ্যপানের কারণে শরীরে জলশূন্যতা ঘটলে, চোখও শুকিয়ে যায়। ভিটামিন এ শোষণে সমস্যা হয়। তা থেকেও চোখের ক্ষতি হতে পারে।