চড়া রোদে ত্বকে জ্বালা ধরছে, কালচে হয়ে যাচ্ছে মুখ? রোদের তাপে সমস্যা হয় নানা রকম। প্রবল রোদে যেমন তাকাতে কষ্ট হয়, তেমনই হাত-পা, শরীরের খোলা অংশও কালচে হয়ে যায়। গরমের মরসুমে চড়া রোদ থাকবেই। কিন্তু তা বলে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। গরমের দিনেও কেতাদুরস্ত সাজপোশাক সম্ভব। শুধু জানতে হবে সঠিক কৌশল। কোন পোশাকে সাজের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য জুড়বে আর কী ভাবে প্রাণবন্ত দেখাবে, জেনে নিন।
ত্বকের সুরক্ষা: সানস্ক্রিনের বর্ম জরুরি। তার পরেও চড়া রোদ ত্বকে জ্বালা ধরাতে পারে। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা গোলাপজল বা নিমপাতা ফোটানো জল (ব্রণ, ফুস্কুড়ি থাকলে) স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন। রোদে কষ্ট হলে স্প্রে করে ঠান্ডা জলে মুখ ভিজিয়ে নিন।
হাত-পায়ের সুরক্ষা: গরমের দি্নে সুতির আলগা পোশাকই আরামদায়ক। ঢোলা পোশাক কিন্তু কেতাদুরস্তও হয়। তবে রোদের তাপ থেকে ত্বককে বাঁচানোর জন্য ওভারসাইজ় ফুল হাতা সুতির টপ, শার্ট বা টি-শার্ট বেছে নিতে পারেন। ফুল প্যান্ট বা পা ঢাকা পোশাক পরলে সরাসরি ত্বকে রোদ পড়বে না। তবে মুখের পাশাপাশি হাত, পা, ঘাড়— শরীরে উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার জরুরি।
বাড়ি ফিরে হাত-পায়ে পাতলা করে কাটা লাউয়ের টুকরো ঘষতে পারেন। লাউয়ের বেশির ভাগটাই জল। লাউ ঘষলে জ্বালা ভাব কমবে। ব্যবহার করতে পারেন অ্যালো ভেরা জেলও।
চোখের সুরক্ষা: সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি শুধু ত্বকের নয়, চোখেরও ক্ষতি করে। চোখের চারপাশের ত্বক এমনিতেই বেশি স্পর্শকাতর। ফলে গরমের দিনে ইউভি-রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, এমন রোদচশমা বেছে নিন। সানগ্লাস শুধু কেতাদুরস্ত দেখানোর জন্য নয়, চোখের সুরক্ষাবর্মও বটে।
ওপেন পোরস: অনেকের ত্বকের রন্ধ্রমুখগুলি বড় হয়ে যায়। ত্বকের মসৃণতা নষ্ট হয় এতে। ত্বকের উন্মুক্ত রন্ধ্রগুলিকে সঙ্কুচিত করতে দরকার হয় টোনার। বাড়ি ফিরে নিয়ম করে ক্লিনজ়িং যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই দ্যরকারি টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজ়িং।
দুর্গন্ধ: গরমকালের একটি বড় সমস্যা হল দুর্গন্ধ। ঘাম থেকে নয়, দুর্গন্ধ হয় ব্যাক্টেরিয়া, জীবাণুর আক্রমণ থেকে। ঘাম হলে শরীর আর্দ্র থাকে বলে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে যায়, ফলে দুর্গন্ধ হয়। দুর্গন্ধ দূর করার ভাল উপায় হল ভাল ভাবে দিনে দু’বার স্নান করা। ঘাম জমলে, তা মুছে ফেলা। আলগা পোশাক পরা, যাতে হাওয়া খেলতে পারে। সুগন্ধি দিয়ে দুর্গন্ধ কিছুটা ঢাকা যায়, তবে তা নির্মূল করা যায় না।
এত কিছুর সঙ্গে কিন্তু প্রয়োজন পর্যাপ্ত জল খাওয়া। জলের অভাব হলে যেমন শরীর খারাপ হবে, তেমনই ত্বকও নির্জীব দেখাবে। ভাজাভুজি এড়িয়ে টাটকা ফল, সব্জি খেলে ত্বকের জেল্লা বাড়বে। কারণ, পুষ্টির সঙ্গে ত্বকের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।