ভাল লাগা, ভাল থাকার অনেকটাই মানসিক। তবে তাতে শরীর নিঃসৃত নানা হরমোনের ভূমিকা কিছু কম নয়। তাই মনকে যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না-ও পারেন তবে হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করে সুখের চাবিকাঠি রাখতে পারেন নিজের হাতে। হরমোনের নিঃসরণ অনেকাংশেই নির্ভর করে খাওয়াদাওয়ার উপরে। সেক্ষেত্রে খাবারের থালায় যদি নিয়মিত এমন কিছু খাবার রাখা যায়, যা শরীরে সুখী হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে, তবেই কেল্লার অনেকটা জয় করে নিতে পারবেন।
শরীরে ভাল লাগা বা সুখের অনুভূতি তৈরি করার পেছনে মূলত চারটি হরমোন কাজ করে— ডোপামিন, সেরোটোনিন, অক্সিটোসিন এবং এন্ডোরফিন। সঠিক খাবার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই এই হরমোনগুলোর নিঃসরণ বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
১. ডার্ক চকলেট
ডার্ক চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ম্যাগনেসিয়াম মানসিক চাপ কমায়। এটি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মস্তিষ্কে এনডোরফিন এবং ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা মুহূর্তেই মন ভাল করে দেয়।
২. কলা
কলা হলো পটাশিয়াম এবং ট্রিপটোফ্যান এর উৎস। ট্রিপটোফ্যান শরীরে গিয়ে সেরোটোনিনে রূপান্তরিত হয়, যা মেজাজ স্থিতিশীল রাখতে এবং ভাল ঘুমে সাহায্য করে।
৩. বাদাম ও বীজ
কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া বীজ এবং কুমড়ার বীজে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং ডোপামিন তৈরিতে সহায়তা করে।
৪. সামুদ্রিক মাছ
চর্বিযুক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর। গবেষণায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ বিষণ্ণতা কমাতে এবং সেরোটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধিতে কার্যকর।
৫. দই ও প্রোবায়োটিক খাবার
অন্ত্রকে বলা হয় ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’। দই বা কিমচির মতো প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। শরীরের প্রায় ৯৫শতাংশ সেরোটোনিন অন্ত্রে তৈরি হয়। তাই পেট ভাল থাকলে মনও ভাল থাকে।
৬. ডিম ও দুধ
ডিমে থাকা কোলিন এবং প্রোটিন ডোপামিন তৈরিতে সাহায্য করে। এছাড়া রাতে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ খেলে ভাল ঘুম হয়, যা পরদিন সকালে মেজাজ ভাল রাখে।
৭. বেরি জাতীয় ফল
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, আমলকি বা কালোজামে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং মনকে চনমনে রাখে।
আর যা খাবার নয়
শুধু খাবার নয়, প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট রোদে থাকা (ভিটামিন ডি-এর জন্য) এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা এই হরমোনগুলির কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।