ডায়াবিটিসের রোগী এখন ঘরে ঘরে। জীবনধারার সঙ্গে জড়িত রোগটি একবার হলে নিরাময়ের পথ বড়ই কঠিন। অনেক রকম কসরত করে অসুখটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। সুগার হলে শরীরের নানা অঙ্গে তার প্রভাব পড়ে। যেমন হার্টের রোগ হতে পারে, লিভারের কার্যক্ষমতা বিগড়ে যেতে পারে। চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্তে শর্করার ওঠানামা যত বেশি হবে, ততই অন্যান্য অসুখবিসুখ মাথাচাড়া দেবে। কিডনির রোগও তার মধ্যে একটি। ডায়াবিটিসে হার্ট, চোখ নিয়ে যত বেশি সচেতন করা হয়, কিডনি নিয়ে ততটা নয়। কিন্তু ডায়াবিটিসে কিডনির জটিল অসুখ বা ডায়াবেটিক নেপ্রোপ্যাথি নিয়ে এখন আতঙ্ক বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ ডায়াবিটিসের রোগী নেপ্রোপ্যাথিতে আক্রান্ত হতে পারেন।
কিডনিতে লক্ষ লক্ষ সূক্ষ্ম রক্তনালি থাকে, যাদের বলা হয় ‘নেফ্রন’। এগুলি ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে বর্জ্য বার করে দেয়। রক্তে যদি শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক ভাবে বাড়তে থাকে, তা হলে ওই রক্তনালিগুলির ক্ষতি হয়। ফলে ছাঁকনির কাজ ঠিকমতো হয় না। শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন অ্যালবুমিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে শুরু করে। এই অবস্থাকেই বলা হয় ডায়াবেটিক নেপ্রোপ্যাথি। এর চিকিৎসা সঠিক সময়ে না হলে, কিডনি বিকল হতে শুরু করবে। তা ছাড়া প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বেরিয়ে গিয়ে প্রোটিনিউরিয়া রোগ হবে, যাতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে ডায়াবেটিকদের যে কিডনি অচল হতে শুরু করেছে, তা বুঝবেন কোন কোন উপসর্গ দেখে?
আরও পড়ুন:
১) প্রস্রাবের সঙ্গে ফেনা হওয়া
২) হঠাৎ করে মুখ বা পা ফুলে যাওয়া
৩) প্রস্রাবের মাত্রা কমে যাওয়া
৪) খাওয়ার ইচ্ছে কমে যাওয়া বা গা বমি করা
৫) কাজ করার ইচ্ছে কমে যাওয়া বা সারা দিন ক্লান্তিভাব
ডায়াবিটিস থাকলে তাই, নিয়মিত চোখ আর হার্টের পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি প্রতি বছর কিডনি সংক্রান্ত কিছু পরীক্ষাও করিয়ে রাখা জরুরি। সিরাম-ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিনের অনুপাত পরীক্ষা আর সিস্ট্যানিন সি, এই তিনটি পরীক্ষা প্রতি বছর করিয়ে রাখলে কিডনির অসুখের আঁচ আগে থেকেই পাওয়া সম্ভব। রোগ নির্ণয় যত আগে হবে, ততই রোগমুক্তির সম্ভাবনা বাড়বে।