অভিনেতা প্রকাশ রাজ প্রথম থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে সমর্থন করছেন। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেন দক্ষিণী অভিনেতা। এই আন্দোলনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। সমাবেশে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে প্রকাশ স্পষ্ট জানান, জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য কাউকে পাকিস্তানি বা সন্ত্রাসবাদী বলা হলে তাতেও আন্দোলনকারীরা ভয় পাবেন না।
প্রবল বৃষ্টির মধ্যে কর্মসূচিতে যোগ দেন সকলে। নিট সংক্রান্ত অনিয়ম এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে আসে এই কর্মসূচিতে। পাশাপাশি, ২০ জুন নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বড় জমায়েতেরও ডাক দিয়েছে সিজেপি। কর্মসূচিতে প্রকাশ বলেন, “পাকিস্তানি বললেও আমরা ভয় পাই না, সন্ত্রাসবাদী বললেও আমরা ভয় পাই না, ককরোচ বললেও কোনও ভয় নেই।” এর পর তিনি তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করার আহ্বান জানান এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচিত নেতাদের নিজেদের কাজ করা উচিত। সমীকরণটা কেন বদলে দিয়েছেন? আপনারা রাজনীতি করবেন আর আমরা শুধু কাজ করব? না। এই দেশের যুবসমাজ নিজেদের লড়াই নিজেরাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
প্রকাশ রাজ মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদেরই বড় ভূমিকা থাকা উচিত। তাঁর কথায়, “এই দেশের যুবকরাই আজ বঞ্চিত। কাকা-কাকিমারা অবসর নেওয়ার বয়স পার করেও দেশ চালাচ্ছেন। এ বার সরে দাঁড়ান। তরুণেরা ভবিষ্যতের জন্য লড়ছে। এই তরুণেরা নিজেদের স্বপ্নের জন্য লড়ছে।”
আরও পড়ুন:
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, সিবিএসই-র ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষাক্ষেত্রে ইত্যাদি বিষয়ে সরব হয় সিজেপি। এই কর্মসূচিও ছিল সেই আন্দোলনেরই অংশ। এর আগে লখনউয়ে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীদের ২০ জুন যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ ভাবে যোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান।
প্রকাশ রাজ পদ্মশিবিরের বিরোধিতা করেছেন আগেও। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরব হন তিনি। রাঘব চড্ঢার বিজেপি-তে যোগদান নিয়েও মুখ খুলেছিলেন তিনি। দক্ষিণী রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে জড়িত প্রকাশ। আম আদমি পার্টি ছেড়ে রাঘবের বিজেপি-তে যোগদানের যুক্তিকে কটাক্ষ করেন। একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ভাগ করে নেন যাতে লেখা ছিল, ‘‘ব্যাপারটা এমন যেন, আমি পুলিশের চাকরি ছাড়ছি, কারণ পুলিশ তাদের নীতিগত আর্দশ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাই আমি এ বার দাউদ ইব্রাহিমের দলে নাম লেখালাম।’’ তিনি একেবারে আক্রমণাত্মক ভাষায় রাঘবকে বিদ্ধ করেন। রাঘবের পদবি বিকৃত করেও খোঁচা দিয়েছিলেন তিনি।