কৃষ্ণসার হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে ছবি। সলমন খানের নাম এই বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ‘কালা হিরণ’ নামে সেই ছবির খবর প্রকাশ্যে আসতেই আপত্তি জানান সলমন খান ও তাঁর সহযোগী দল। তাঁদের পক্ষ থেকে প্রযোজক অমিত জানিকে আইনি নোটিসও পাঠানো হয়েছে। এর পরেই এই ছবিতে অভিনয় করতে না চেয়ে বেঁকে বসেন বর্ষীয়ান অভিনেতা গোবিন্দ নামদেব। সম্প্রতি গোবিন্দ জানান, ছবিটি আদতে বলিউড তারকা সলমনকে মনে রেখেই তৈরি হয়েছে। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিলেন না। সেই কারণেই এই কাজ থেকে নিজেকে সরানোর সিদ্ধান্ত তাঁর। এর পর গোবিন্দের বিরুদ্ধে পাল্টা হুঙ্কার দিলেন প্রযোজক, দিলেন শর্ত।
ছবিটি কৃষ্ণসার শিকার মামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি, যা নিয়ে প্রায় তিন দশক আগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। যেখান থেকে শুরু হয় বিশ্নোই গ্যাংয়ের প্রতিবাদ। যার ফলে নিত্য দিন মৃত্যু-হুমকির মুখ পড়তে হচ্ছে সলমনকে। গোবিন্দ জানান, যখন তিনি ছবিতে কাজ করতে সম্মত হয়েছিলেন এবং যা এখন দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে, দু’য়ের মধ্যে নাকি একেবারেই মিল নেই। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতার দাবি, “প্রচার-ঝলক দেখার পরে আমি ভিতরে ভিতরে কেঁপে গিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি, আমি যেমন ভেবে শুট করেছিলাম, তার থেকে একেবারেই আলাদা ছবিটি। আমাদের এক বারও বলা হয়নি যে, সলমন খানের মতো যে চরিত্রটিকে তৈরি করা হয়েছে, তাকে এই ভাবে তুলে ধরা হবে। প্রচার-ঝলক দেখে আমি প্রতারিত বোধ করেছি। আমাকে অন্ধকারে রেখে, ব্যবহার করা হয়েছে। আমাকে যা বলা হয়েছিল, আর যা তৈরি করা হয়েছে, দুটোর মধ্যে এক পৃথিবী পার্থক্য রয়েছে।”
আরও পড়ুন:
গোবিন্দ এ-ও জানান যখন ছবিটি তৈরি হয়, সেই সময়ে যে নাম বলা হয়েছিল সেটাও বদলে ফেলা হয়েছে। যে কারণে এই ছবি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন গোবিন্দ। এর পরই অমিত জৈন এক্স হ্যান্ডেলে জানান, গোবিন্দকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। অভিনেতাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, নয়তো ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
গোবিন্দ একা নন। অভিনেতা সোনু মিশ্রও জানিয়েছেন যে, ‘কালা হিরণ’ ছবিতে সলমনের চরিত্রে তাঁর অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু, শুটিং শুরু হওয়ার দুই দিন পরেই তিনি ছবিটি থেকে সরে আসেন। কারণ, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ছবিটিতে সলমনকে নেতিবাচক ভাবে দেখানো হচ্ছে।