কেবল ভারী বা মশলাদার খাবার নয়, যে কোনও কিছু খাওয়ার পরেই পেট ভারী মনে হয়। চামড়া যেন টানটান হয়ে যায়, নড়াচড়া করতে অসুবিধা হয়। এই অবস্থাকেই সাধারণত পেটফাঁপা বা ব্লোটিং বলা হয়। এর সঙ্গে পেটে গ্যাস ভর্তি হয়ে যায়, বমি পেতে পারে, বুকজ্বালাও অনুভব করেন অনেকে। পাচনতন্ত্রের স্বাস্থ্যের অবনতিতে এই সমস্যা দেখা দেয়। ব্লোটিং একান্তই সাধারণ সমস্যা, কিন্তু এখন ঘরে ঘরে এর প্রবণতা বাড়ছে। তার বড় কারণ নতুন ধরনের জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস। তবে খাওয়ার সময়ে ও পরে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা থেকে খানিক আরাম মিলতে পারে। কিন্তু প্রতি দিনের রুটিনে এই অভ্যাসগুলি রপ্ত করতে হবে।
ব্লোটিং কমানোর জন্য কী কী করবেন?
১. হাঁটা- খাওয়ার পর শুয়ে পড়লে বা বসে থাকলে অন্ত্রের ভিতরে খাবার চলাচলের গতি শ্লথ হয়ে যায়। ফলে গ্যাস জমতে শুরু করে। তার বদলে যদি অন্তত ১০-১৫ মিনিট ধীরে ধীরে হাঁটা যায়, তা হলে হজমের প্রক্রিয়া অনেকটাই সক্রিয় থাকে। হাঁটার ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া বাড়ে এবং গ্যাস জমা হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। তাই ভারী খাবার খাওয়ার পরে সামান্য হাঁটা খুবই উপকারী অভ্যাস।
খাওয়ার পরেই পেট ভারী মনে হয়? ছবি: সংগৃহীত।
২. খাওয়ার পরিমাণ- অনেকটা খাবার একসঙ্গে খেয়ে ফেললে পেট ভার হয়ে যায়। বরং অল্প অল্প করে বারে বারে খেলে এই সমস্যা থেকে খানিক পরিমাণে রেহাই মিলতে পারে। এতে শরীর বুঝতে পারে, পেট কতটা ভরেছে, আর খেতে হবে কি না, ইত্যাদি। একবারে অতিরিক্ত খেলে পেট সেই খাবারকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য প্রসারিত হয়ে যায় বলে আরও কষ্ট হয়।
৩. জলপানের পরিমাণ- খাওয়ার ২০-২৫ মিনিট আগে বেশ খানিকটা জল খেয়ে নিতে হবে। এতে হজমের প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। শরীর খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয় এবং পেটে অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। তা ছাড়া আগে থেকে জল খেলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। ফলে প্রয়োজনের থেকে বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতাও কমে। কিন্তু খেতে খেতে অতিরিক্ত জল খেলে পেট ভার হয়ে যায়। খুব পিপাসা পেলে অল্প অল্প চুমুক দিয়ে জল পান করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
৪. কথা বলা- খেতে খেতে কথা বলার অভ্যাস রয়েছে? এতে খাবারের সঙ্গে পেটে গ্যাসও চলে যায়। সেখান থেকেও ব্লোটিং বা পেটফাঁপার সমস্যা শুরু হতে পারে। তাই খাওয়ার সময়ে কথা না বলে মুখ বন্ধ করে খেয়ে নিতে বলেন গুরুজনেরাও।
৫. চিবিয়ে খাওয়া- তাড়াহুড়োর মধ্যে অনেকে খাবার ভাল করে চিবোনোর জন্য সময় দেন না। খানিকটা গিলে গিলেই খেয়ে নেন তাঁরা। এতে হজমের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই ধীরে ধীরে, ভাল ভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা জরুরি। এতে খাবার সহজে ভেঙে যায় এবং শরীরও তা সহজে হজম করতে পারে। পাশাপাশি, দ্রুত খেলে যে অতিরিক্ত বাতাস পেটে ঢুকে যায়, সেই সমস্যাও কমে যেতে পারে।