বাঙালির গ্যাস-অম্বলের সমস্যা যেন চিরন্তন। মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড খেয়েও সমস্যার সমাধান হয় না। খাওয়াদাওয়া একটু বেশি হলেই পেট ভার, পেট ফাঁপার সমস্যা ভোগায়। সেই সঙ্গে গলা-বুক জ্বালা তো আছেই। গ্যাসের সমস্যা না কমালে এখান থেকেই দেখা দিতে পারে হৃদ্রোগ। খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বাড়িয়ে দেয় ঠিকই। সেই সঙ্গে শরীরচর্চা না করলেও গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। রোজের এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে বিশেষ কিছু যোগাসন।
কোন কোন আসন করলে পেটের সমস্যা কমবে?
মার্জারাসন
প্রথমে মাটিতে দুই পা এবং হাতের উপর ভর দিয়ে বিড়ালের মতো ভঙ্গি করুন। এর পর এক বার পিঠ ফুলিয়ে মাথা নিচু করে শ্বাস নিন, আবার পেট ঢুকিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। এই আসন অভ্যাস করুন ৫ বার করে অন্ততপক্ষে ৫ মিনিট।
আরও পড়ুন:
বজ্রাসন
এই আসনটি করতে প্রথমে সোজা হয়ে বসুন। সামনের দিকে পা ছড়িয়ে দিন। এ বার একটি করে পায়ে হাঁটু মুড়ে তার উপর বসুন। গোড়ালি জোড়া করে রাখুন। শিরদাঁড়া সোজা করে বসুন। হাত দুটো উরুর উপর টানটান করে রাখুন। কিছু ক্ষণ এই ভঙ্গিতে বসুন। এই আসনটি শরীরে অতিরিক্ত মেদের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। পেটের তলদেশে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। সেই সঙ্গে গ্যাসের সমস্যা থেকে দূরে রাখে।
ভুজঙ্গাসন
ম্যাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। এ বার হাতের তালু্ মেঝের উপর পাঁজরের দুই পাশে রাখুন। এর পর কোমর থেকে পা পর্যন্ত মাটিতে রেখে হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে বাকি শরীরটা ধীরে ধীরে উপরের দিকে তুলুন। এর পর মাথা বেঁকিয়ে উপরের দিকে তাকান। এই ভঙ্গিতে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকার পর পূর্বের অবস্থায় ফিরে যান। প্রথম দিকে এই আসন তিন বার করুন। পরবর্তী কালে ৫-৬ বারও করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
পশ্চিমোত্তাসন
প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে দু’ হাত তুলে মাথার দু’পাশে উপরের দিকে রাখুন। আস্তে আস্তে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’ হাত দিয় জোড়া পায়ের বুড়ো আঙুল ধরুন। দু’টি পায়ের মাঝখানে কপাল ঠেকান। হাঁটু ভাঁজ হবে না। এ অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। হজমশক্তি ভাল রাখতে ও পেটের মেদ ঝরাতে আসনটি রোজ করতে পারেন।কোষ্ঠকাঠিন্য-সহ যে কোনও পেটের সমস্যা কমাতে আসনটি উপযোগী।