দেশ জুড়ে পরীক্ষার মরসুম চলছে। এ সময়ে খাওয়াদাওয়ার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শুধু বেশি পড়াশোনা করলেই হয় না, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার দিকেও নজর রাখতে হয়। মাথারও জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে। বোর্ড পরীক্ষার চাপের সময়ে ছোটদের এমন খাবার দরকার, যা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, মনোযোগ ধরে রাখে এবং ক্লান্তি কমায়। সহজ, ঘরোয়া আর পুষ্টিকর কয়েকটি খাবার নিয়মিত খেলেই বড় পরিবর্তন দেখা যায়।
পরীক্ষার সময়ে কোন ধরনের খাবার খাওয়াবেন সন্তানকে?
তেলযুক্ত মাছ: উচ্চমাত্রার ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত মাছ বলতেই ইন্টারনেট বোঝে স্যামন, সার্ডিন, টুনা। কিন্তু এ দেশেও এমন কিছু সহজলভ্য মাছে আছে, যাতে তেল প্রচুর। সামুদ্রিক বিভিন্ন মাছে মেলে ইপিএ এবং ডিএইচএ। ডিএইচএ মূলত মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য কার্যকর। ওমেগা৩ এবং ওমেগা৬ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত মাছের তালিকায় রয়েছে, ইলিশ, পমফ্রেট, কাতলা, রুই ইত্যাদি।
ব্লুবেরি: অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েডে পরিপূর্ণ ব্লুবেরি ফল মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। ছোট ছোট ফল, বিশেষ করে গাঢ় রঙের ফল মাথাকে সক্রিয় রাখে, মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
ব্লুবেরি। ছবি: সংগৃহীত
ডিম: ভিটামিনের মতো অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান কোলিনের দুর্দান্ত উৎস হল ডিমের কুসুম। তা ছাড়া বি ভিটামিন এবং প্রোটিনও রয়েছে ডিমে। এই উপাদানগুলি পরীক্ষার সময়ে মেজাজ ভাল রাখে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, মস্তিষ্কের ক্ষয় রোধ করে।
বাদাম ও বিভিন্ন বীজ: আখরোট, আমন্ড, কুমড়োর বীজ, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদি মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দেয়। পাশাপাশি, ক্লান্তি কমায় এবং স্নায়ুর উত্তেজনাকে প্রশমিত করে। এগুলিতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম, জ়িঙ্কের মতো মস্তিষ্কবান্ধব পুষ্টি উপাদান।
সবুজ শাকসব্জি: পালংশাক, সর্ষে শাক, পুঁই শাক, হেলেঞ্চা ইত্যাদি সবুজ শাকপাতা মাথায় রক্ত চলাচল উন্নত করে। ফলে মাথায় অক্সিজেন সরবরাহ ভাল হয়। এগুলিতে ফোলেট থাকে বলে ক্লান্তির সমস্যাও কমে যায়। পাশাপাশি রয়েছে ভিটামিন কে, লুটেইন, বিটা ক্যারোটিন-সহ নানা পুষ্টি উপাদান।
দানাশস্য: মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য গ্লুকোজ়ের প্রয়োজন অপরিসীম। এ দিকে ব্রাউন রাইস, কিনোয়া, ওট্স, আটার রুটি বা জোয়ার-রাগি জাতীয় খাবার পাতে রাখা যেতে পারে।
ডার্ক চকোলেট: অল্প পরিমাণে খেলে মন ভাল থাকে এবং মস্তিষ্ক সতেজ থাকে। তবে ৭০ শতাংশ কোকো পাউডারযুক্ত ডার্ক চকোলেটই বেছে নিতে হবে। ক্যাফিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েডের উপস্থিতির কারণে মাথা বেশি কাজ করে, ক্লান্তি দূর হয় ডার্ক চকোলেটের সৌজন্যে।