কম বয়সে পেটের মেদ ঝরানো আর বেশি বয়সের ভুঁড়ি থেকে মুক্তি পাওয়ার মধ্যে অনেকটা তফাত। প্রথম ক্ষেত্রে অল্প হেঁটে, দৌঁড়ে বা শরীরচর্চা করেই মেদ কমিয়ে ফেলা যায়। কিন্তু বয়স ৩০-এর কোঠো পেরোলে পেটে জমা চর্বি ঝরতে চায় না সহজে। মাস খানেকের শরীরচর্চা, খাওয়াদাওয়ার লোভ সংবরণ করেও দেখা গেল শরীরের অন্য অংশের মেদ ঝরেছে অথচ পেটের চর্বি কমেছে নামমাত্র। বয়স ৪০ পেরোলে এই মেদ কমানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই সমস্যার সমাধান নেই তা নয়।
যাপন প্রশিক্ষক এবং মুম্বইনিবাসী পুষ্টিবিদ রমিতা কৌর জানাচ্ছেন, যেকোনও সমস্যার সমাধান সহজ হতে পারে যদি সমস্যার কারণ বোঝা যায়, তা হলে। ৩০ বছর বয়সের পরে পেটের মেদ না কমার কারণ গুলিও জানা তাই গুরুত্বপূর্ণ।
১. বিপাকের হার কমে যাওয়া
বয়স ৩০ পার হওয়ার পর প্রাকৃতিক নিয়মেই বিপাকের হার কমতে শুরু করে। ফলে শরীরের ক্যালোরি ঝরার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়। ক্যালোরি খরচ হয় ধীর গতিতে। ফলে এই বয়সে এসে যদি খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ না করেন, কমবয়সের মতোই একই পরিমাণ খাবার খান, তবে ক্যালোরি খরচ না হওয়ায় শরীরে চর্বি জমা শুরু হতে থাকে।
২. পেশির ক্ষয়
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সারকোপেনিয়া। ৩০ বছরের পর থেকে প্রতি দশ বছর অন্তর শরীর থেকে প্রায় ৩-৫% পেশি কমতে শুরু করে। পেশি ক্যালোরি ঝরাতে সাহায্য করে। তাই পেশির ক্ষয়ের অর্থ হল, শরীরের ক্যালোরি খরচ কমা, যা মেদ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
৩. হরমোনের বদল
পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়সের পরে শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে। মেদ কমাতে এবং পেশির গঠনে এই হরমোন গুরুত্বপূর্ণ। তাই এর অভাবে পেটে চর্বি জমবে। অন্য দিকে, মহিলাদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের ভারসাম্যে বদল আসে ৩০ বছর বয়সের পরে। বিশেষ করে মহিলারা মা হওয়ার পর বা পেরিমেনোপজ পর্যায়ে গেলে শরীরে চর্বি মূলত জমা হতে থাকে পেটেই।
৪. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
ইনসুলিন খাবারের শর্করা ভেঙে শক্তিতে পরিণত করে। শরীর যদি ইনসুলিনকে সেই কাজ করতে না দেয়, তবে শর্করা রক্তে মেশে দ্রুত। আর তা থেকে মেদবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ে।
৫. মানসিক চাপ এবং কর্টিসল
৩০-এর কোঠায় কর্মজীবন, পরিবার এবং ভবিষ্যতের চিন্তা অনেক বেশি করে চেপে বসে। যা থেকে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। শরীর কর্টিসল নামের হরমোন বেশি ক্ষরণ হতে পারে। যা থেকে পেটের চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।
৬. ঘুমের অভাব
কাজের চাপ বা অনেক ক্ষেত্রে নানা পারিবারিক এবং সামাজিক কারণেও এই বয়সে অনেকেই রাতে পর্যাপ্ত ঘুমনোর সুযোগ পান না। ঘুমের অভাব হলে তা খিদে নিয়ন্ত্রক হরমোন ‘লেপটিন’ এবং ‘ঘেরলিন’-এর ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায়। যা মেদ বৃদ্ধির কারণ।