হার্টের কাজে বিরাম নেই। পেশিবহুল এই অঙ্গ একটানা পুরো শরীরে অক্সিজেন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করে। সেই অঙ্গে কোনও সমস্যা দেখা দিলে কোনও না কোনও ইঙ্গিত মিলবেই। ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’-এর ক্ষেত্রেও অস্পষ্ট, হালকা উপসর্গ দেখা দিতে পারে কখনও কখনও। ফলে সতর্ক থাকা দরকার হার্ট নিয়ে। আপনার হার্ট যদি সম্পূর্ণ সুস্থ না হয়, তা হলে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে গ্যাস, অম্বল, ক্লান্তি বা অন্য কোনও সাধারণ অসুখ মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থ রাখুন হার্ট। ছবি: সংগৃহীত
এখানে সবচেয়ে জরুরি কিছু লক্ষণের কথা উল্লেখ করা হল, যা উপেক্ষা করা উচিত নয়—
১. বুকে অস্বস্তি- নানা কারণে ব্যথা হতে পারে বুকে। গ্যাস ভেবে অনেকেই অবহেলা করে যান। কিন্তু বুকে অস্বস্তি হওয়ার কারণ হার্টের সঙ্গে জড়িত কি না, তা সবার আগে জেনে নেওয়া উচিত। তাই তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া জরুরি।
২. প্রবল ক্লান্তি- দৈনন্দিন কাজ করেই হাঁপ ধরে যায়? ব্যাগ বওয়া বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো সাধারণ কিছু কাজ করেও যদি প্রবল ক্লান্তি নেমে আসে শরীরে, তা হলে উপেক্ষা করবেন না। সম্ভবত, হার্টের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। হার্ট যখন শরীরের চাহিদা অনুযায়ী রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন সারা শরীরের পেশি ক্লান্ত হয়ে আসে।
৩. বাহুতে ব্যথা- হার্ট সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে শরীরের বাঁ দিকে ব্যথা ছড়াতে পারে। বাঁদিকের বাহু ও হাত পর্যন্ত ব্যথা হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গগুলির মধ্যে একটি এটি।
৪. চোয়াল/ গলা ব্যথা- বুক ছাড়াও চোয়াল, ঘাড়, পিঠ, গলা বা বাঁ হাতে চাপ চাপ ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
৫. শ্বাসকষ্ট- শুয়ে থাকলে বা ঢাল ও সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময়ে দম ফুরিয়ে আসে? সামান্য পরিশ্রমের পরেও শ্বাসকষ্ট হয়? হয়তো আপনার হার্ট চাপে রয়েছে, তাই সে কথারই জানান দিচ্ছে।
৬. পা ফুলে যাওয়া- শরীরের টিস্যুতে অতিরিক্ত তরল জমে ফুলে যেতে পারে। এই অবস্থাকে এডিমা বলে। যখন হার্ট শরীর থেকে ফিরে আসা রক্ত ঠিক মতো পাম্প করতে পারে না, তখনই এডিমা বা শরীরে জল জমার সমস্যা দেখা দেয়। তাই এই রোগ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
৭. অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন- দৌড়োনো, শরীরচর্চা, দুশ্চিন্তা ছাড়াও যদি ঘন ঘন হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, বা যখন-তখন ওঠানামা করতে থাকে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হলে হার্ট শরীর বা মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে পারে না। এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৮. মাথা ঘোরা- বুকে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাথা ঘোরার উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। হয়তো হার্ট ঠিক মতো রক্ত পাম্প করতে পারছে না বলে রক্তচাপ কমে গিয়েছে। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে হবে সঙ্গে সঙ্গে।
৯. অস্বাভাবিক ঘাম- যদি দেখেন, মাঝেমধ্যে কোনও পরিশ্রম ছাড়াই শরীর থেকে অসম্ভব ঘাম বেরোচ্ছে, তা হলে তা হার্টের অসুখের ইঙ্গিত হতে পারে।