Advertisement
E-Paper

মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড খেয়ে বিপদ ডাকবেন না, বরং ভরসা রাখুন ৭ পানীয়ে, কমে যাবে বুকজ্বালা

অম্বল হলেই সব সময়ে ওষুধের দিকে ছুটতে হবে, এমন নয়। অতিরিক্ত হজমের ওষুধ খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। রান্নাঘরের কয়েকটি সাধারণ মশলা দিয়ে পানীয় বানিয়ে খেলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত আরাম মিলতে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩২
অম্বলের ওষুধ হতে পারে ঘরোয়া পানীয়।

অম্বলের ওষুধ হতে পারে ঘরোয়া পানীয়। ছবি: সংগৃহীত।

বদহজম বা ঘুমের সমস্যা, অথবা অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে মাঝে মধ্যেই বুকজ্বালা, অম্বল, টক ঢেকুর, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় ভুগছেন? তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে অ্যান্টাসিড খাওয়া। কিন্তু অতিরিক্ত হজমের ওষুধ খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। অম্বল হলেই সব সময়ে ওষুধের দিকে ছুটতে হবে, এমন নয়। রান্নাঘরের কয়েকটি সাধারণ মশলা দিয়ে পানীয় বানিয়ে খেলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত আরাম মিলতে পারে।

অম্বল থেকে রেহাই দিতে পারে ৭ ঘরোয়া পানীয়

মৌরির জল: খাওয়ার পরে অল্প মৌরি চিবিয়ে খাওয়ার চল বহু প্রাচীন। মৌরি হজমে সাহায্য করতে পারে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে। মাঝে মধ্যেই যদি অম্বল হয়, তা হলে ঘণ্টাখানেক মৌরি ভিজিয়ে তার জল খেতে পারেন। অম্বল বা বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে এই ঘরোয়া পানীয়। কারণ, এতে থাকা অ্যানিথোল নামক যৌগ পাকস্থলীর পেশিগুলিকে শিথিল করে এবং হজমকারী রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে গ্যাস ও ফোলা ভাব কমায়।

জিরের জল: বদহজমের সমস্যা কমানোর জন্য জিরের জুড়ি মেলা ভার। জিরের মধ্যে থাইমল নামক তেল থাকে, যা লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে। এর ফলে পাচক রস ও এনজ়াইম নিঃসরণ বাড়ে। খাবারকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে হজমে সমস্যা হয় না। পাশাপাশি এটি পেটফাঁপা এবং গ্যাসও কমায়। এই মশলা ভিজিয়ে রেখে সেই জল পান করলে অম্বলের সমস্যা কমতে পারে।

জিরের জল।

জিরের জল। ছবি: সংগৃহীত

লবঙ্গের জল: লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাদ যেমন বদলায়, তেমনই হজমেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। অনেকেই অম্বল হলে একটি বা দু’টি লবঙ্গ মুখে রেখে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। লবঙ্গ হাতে চিপে জলের মধ্যে ফেলে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন। তার পর ওই জলটুকু ছেঁকে খেয়ে নিন। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে বুকজ্বালা, পেফাঁপা, গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা খানিক কমতে পারে।

আদার জল: আদা হজমের সমস্যায় বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ হালকা আদা দেওয়া গরম জল বা আদা চা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করে, হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে এবং প্রদাহ কমায়, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালা কমে।

আদার জল।

আদার জল। ছবি: সংগৃহীত

এলাচের জল: পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডকে প্রশমিত করে এবং হজমে সাহায্যকারী এনজ়াইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে অম্বল কমাতে পারে এলাচ। বুকজ্বালা দূর করে পেটকে ঠান্ডা করতে পারে। এলাচ গুঁড়ো করে জলে মিশিয়ে খানিক পরে সেই জল ছেঁকে নিয়ে পান করলে আরাম পেতে পারেন।

ধনের জল: গোটা ধনে এবং ধনেপাতা, দু’টিই হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে পাচক রস এবং এনজ়াইম ক্ষরণ বাড়ায় ধনে, যা খাবারকে দ্রুত ও সঠিক ভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। তাই ধনে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই জলটুকু ছেঁকে খেয়ে নিলে আরাম পেতে পারেন।

ঈষদুষ্ণ জল: কখনও সখনও সাধারণ গরম জলও কাজে দিতে পারে। খাবারের পরে অল্প গরম জল পান করলে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং অস্বস্তি কমতে পারে। কারণ, ঈষদুষ্ণ বা হালকা গরম জল হজমের গতি বাড়াতে পারে, অন্ত্রকে সচল করে এবং বিপাক্রিয়াকে সক্রিয় করে বদহজম কমাতে সাহায্য করে। গরম জল পাকস্থলীতে পৌঁছোনোর পর খাবার ও চর্বিকে সহজে দ্রবীভূত করতে পারে। ফলে দেহ দ্রুত খাদ্যকণাগুলি হজম করতে পারে।

Acidity remedy Healthy Drinks

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy