Advertisement
E-Paper

‘জুরাসিক পার্ক’-খ্যাত স্যাম নিল রক্তের ক্যানসার জয় করলেন! কোন চিকিৎসায় সম্ভব হল?

রক্তের ক্যানসারও কুপোকাত হল। দীর্ঘ কয়েক বছরের লড়াইয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন জুরাসিক পার্কের সেই ‘অ্যালান গ্রান্ট’। কোন চিকিৎসায় এমন অসাধ্যসাধন করলেন চিকিৎসকেরা?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১১:০৭
Actor Sam Neill shares he is cancer-free after advanced CAR T-cell therapy

রক্তের ক্যানসারও নির্মূল হল, মৃত্যুমুখ থেকে ফিরলেন স্যাম। ছবি: সংগৃহীত।

নব্বইয়ের দশকে যাঁরা বড় হয়েছেন, সিটের-নীচে-সেঁধিয়ে-যাওয়ার ছবি বললেই তাঁদের মনে হবে ‘জুরাসিক পার্ক’-এর কথা! তখনকার সে উন্মাদনা গোটা বিশ্ব দাপিয়ে বেরিয়েছিল। বিশালাকায় ডাইনোসরদের সুকৌশলে ‘ধাপ্পা’ দিতে দেখা গিয়েছিল প্রত্নতাত্ত্বিক অ্যালান গ্রান্টকে। তবে ছবির পর্দায় ডাইনোসরদের হারাতে পারলেও বাস্তবের ‘অ্যালান’ তথা স্যাম নিলকে কাবু করে ফেলেছিল রক্তের ক্যানসার লিম্ফোমা। গত কয়েক বছর ধরেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন স্যাম। প্রায় হাল ছেড়ে দিয়ছিলেন চিকিৎসকেরাও। তবে এর পরেই নতুন এক চিকিৎসা পদ্ধতির আগমনে ফের যুদ্ধজয়ের দিশা দেখা যায়। লিম্ফোমা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে স্যামের। মারণরোগ জয় করে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরেছেন তিনি। আর এ সবই সম্ভব করেছে কার-টি সেল থেরাপি।

অস্ট্রেলিয়ার এক সংবমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছরের স্যাম জানিয়েছেন, সব আশাই যখন ব্যর্থ হয়, তখন শেষ চেষ্টা হিসেবে কার-টি সেল থেরাপির প্রয়োগ করেন চিকিৎসকেরা। আর তাতেই সাফল্য আসে। ধীরে ধীরে ক্যানসার-মুক্ত হন তিনি।

ক্যানসার চিকিৎসায় আধুনিকতম অস্ত্রোপচারের মধ্যে পড়ে ‘কার টি-সেল থেরাপি’। এটি ইমিউনোথেরাপির এমন এক ধরন, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধী কোষগুলিকে অধিক সক্রিয় করে তুলে ক্যানসার কোষের বিনাশ ঘটায়। এই চিকিৎসা এত দিন বিদেশে হলেও এখন এ দেশেও হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ন্যাশনাল বায়োফার্মা মিশন’ (এনবিএম)-এর উদ্যোগে ‘বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্স কাউন্সিল’ ও মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার রক্তের ক্যানসারের চিকিৎসায় কার টি-সেল থেরাপি প্রয়োগ করছে। মূলত রক্তের ক্যানসার নিরাময়ে এর প্রয়োগ হচ্ছে বেশি।

কী ধরনের ক্যানসারে ভুগছিলেন স্যাম?

জুরাসিক পার্ক খ্যাত অভিনেতার যে ক্যানসার হয় সেটি ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (সিএমএল)। এটি মূলত শ্বেত রক্তকণিকার ক্যানসার। অস্থিমজ্জার যে স্টেম কোষ রক্তকণিকা তৈরি করে, সেই কোষের অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি শুরু হলে তখন তা ক্যানসারের রূপ নেয়। এই ধরনের ক্যানসারকে বলা হয় ক্রনিক মায়েলোজেনাস লিউকেমিয়া। শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে এবং তা জমা হতে থাকে অস্থিমজ্জায়। সেখান থেকে রক্তের মাধ্যমে তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। শ্বেত রক্তকণিকাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার খেয়াল রাখে। তাই এই রক্তকণিকার ভারসাম্যই যদি বিগড়ে যায়, তা হলে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে থাকে।

কী ভাবে চিকিৎসা হয়?

রক্তের ক্যানসারকে নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ কাজ হয়। তবে কার টি-সেল থেরাপির প্রয়োগে তা এখন সম্ভব হচ্ছে। এর নাম ‘চিমেরিক অ্যান্টিজেন রিসেপ্টর টি-সেল থেরাপি’। এই পদ্ধতিতে শরীরে ঘাতক টি-কোষ (প্রতিরক্ষা কোষ) বা টি-লিম্ফোসাইট কোষগুলিকে সক্রিয় করে তোলা হয়। এ ক্ষেত্রে দাতার শরীর থেকে টি-কোষ নিয়ে তাকে গবেষণাগারে বিশেষ পদ্ধতিতে বদলে শক্তিশালী করে তোলা হয়। সেই টি-কোষ তখন নিজস্ব রিসেপ্টর তৈরি করে। যার নাম ‘চিমেরিক অ্যান্টিজেন রিসেপ্টর’ (কার)। এই রিসেপ্টরের কাজ হল ক্যানসার কোষগুলিকে চিহ্নিত করে নষ্ট করা। তার পর এই কোষগুলিকে ক্যানসার রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। নতুন করে প্রতিস্থাপিত কোষগুলি গ্রহীতার শরীরে ঢুকে তাঁর রোগ প্রতিরোধ শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে। ফলে ক্যানসার কোষগুলির বিভাজন ও বৃদ্ধি, দুই-ই বন্ধ হতে শুরু করে। রোগীও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে শুরু করেন। ক্যানসারও একটা সময়ে গিয়ে সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যায়।

বিদেশে এই থেরাপির খরচ ৩-৪ কোটি টাকা বা ক্ষেত্রবিশেষে তারও বেশি। তবে এ দেশে এখন এই থেরাপির খরচ কমিয়ে ৩০-৫০ লাখ করা হয়েছে। কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে ও রোগ কতটা ছড়িয়েছে, তা দেখেই খরচ নির্ধারণ করা হয়। তবে এ থেরাপিতে ক্যানসারও যে নির্মূল করা যায়, সে বিষয়ে আশাবাদী চিকিৎসকেরা।

Cancer treatment Cancer Risk cancer awareness Jurassic Park
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy