প্রবল গরমে শান্তির পরশ মেলে বাতানুকূল ঘরের হিমশীতল বাতাসে।
কিন্তু সে তো নতুন প্রযুক্তি। কিন্তু আজ থেকে অনেক বছর পিছিয়ে গেলে যখন বাতানুকূল যন্ত্র কেন, ঘরে ঘরে পাখাও ছিল না, তখন শরীর ঠান্ডা রাখতে কী করা হত? মাটির বাড়ি, খড়ের চালে তাপ বাঁধ মানত কিছুটা। তবে খাদ্যাভ্যাসে থাকত বদল।
পশ্চিমবঙ্গ: গরমের দিনে খাবার তালিকায় আগেও ছিল, এখনও থাকে পান্তা ভাত। বাড়তি ভাত সংরক্ষণের প্রয়োজনে পান্তা খাওয়ার চল তৈরি হয়েছিল সম্ভবত। কিন্তু আদতে এই ভাত পেটের পক্ষে উপকারী। গরমের প্রবল তাপ থেকে শরীর বাঁচাতেও সাহায্য করে। রাতভর জল ঢালা ভাত মজিয়ে তৈরি হয় পান্তা। পুকুরের রকমারি মাছভাজা, আলুর চোখা, পেঁয়াজ, লঙ্কা দিয়ে মেথে এই ভাত খাওয়ার চল। এ ছাড়াও শরীর ঠান্ডা রাখতে কাঁচা আমের মরসুমে আমপোড়ার শরবত, লেবু দিয়ে দইয়ের পাতলা ঘোল খাওয়ার চল রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ওড়িশা: ওড়িশাতেও গরম পড়ে যথেষ্ট। সেখানেও রয়েছে এমন কিছু খাবার, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখে। রয়েছে ঘরোয়া পথ্য এবং প্রথা যা স্নায়ুকে শান্ত রাখে। গরমে ওড়িশায় খাওয়া হয় পাখালা ভাত। এটিও আসলে পান্তা ভাতই। মজানো ভাতে মেশানো হয় টক দই।
‘কাঁসা থালি পদ অভঙ্গ’ নামে কিছু পুরনো পন্থাও রয়েছে এই রাজ্যে, যা স্নায়ুকে আরাম দিতে, ঘুম আনতে সহায়ক। গরম ঘি বা তেল কাঁসার পাত্রের পিছনের অংশ দিয়ে পায়ের নীচে মালিশ করা হয়। এতে পায়ের নীচের অংশ গরম হয়ে ওঠে। স্নায়ুকে শান্ত করতে এই পন্থা কাজে আসে।
ঝাড়খণ্ড: ঝাড়খণ্ডের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অরণ্য। সেখানেই বাস আদিবাসীদের। প্রাকৃতিক সম্পদ থেকেই জীবনযাপনের রসদ, স্বস্তি খুঁজতে তাঁরা অভ্যস্ত। এই অঞ্চলেও শরীর ঠান্ডা রাখতে জল ঢালা ভাত খাওয়ার চল রয়েছে। তেষ্টা মেটাতে এই সময় চুমুক দেওয়া হয় ছাতুর পাতলা শরবতে। পাতিলেবু, জল, নুন, পেঁয়াজ-লঙ্কা কুচি দিয়ে তৈরি নোনতা ছাতুর শরবত যেমন শরীরে শক্তি জোগায় তেমনই শরীর ঠান্ডা রাখে। তা ছাড়া, মহুয়া গাছের বীজ থেকে এক রকম তেল পাওয়া যায়। গরমের মরসুমে এই তেল মালিশ করেন তাঁদের অনেকে। এই তেল গায়ে মাখলে ব্যথাবেদনা কমে এবং গরমে ক্লান্তি কাটে বলে বিশ্বাস।