Advertisement
E-Paper

ধূমপান করেন না, মানেন কড়া ডায়েট, নিয়মের মধ্যে থেকেও কেন হৃদ্‌রোগ হয় রেমোর? কাদের সতর্ক থাকতে হবে?

নিয়ম মেনে জীবন যাপনের পরেও কি হৃদ্‌রোগ হতে পারে? বলিউড কোরিয়োগ্রাফার ও পরিচালক রেমো ডি’সুজার ঘটনা তা ভাবতে বাধ্যই করছে। কড়া ডায়েট, শরীরচর্চার মধ্যে থেকেও ধমনীতে ১০০ শতাংশ ব্লকেজ ধরা পড়ে রেমোর। কেন হয় এমন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫২
Why Fitness Freak Remo D’Souza falling prey to Heart Disease despite his healthy routine

সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের পরেও হৃদ্‌রোগ, কখন সতর্ক হতে হবে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নিয়মিত নাচ অভ্যাস করেন। জিমে গিয়ে শরীরচর্চাও করেন। খাবার খান মেপে, পরিমিত পরিমাণে। সিগারেট ছুঁয়েও দেখেন না। আর রাত জেগে পার্টি করা তাঁর ধাতেই নেই। এমন সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের পরেও কেন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হলেন তা ভেবেই পাচ্ছেন না বলিউড কোরিয়োগ্রাফার ও পরিচালক রেমো ডি’সুজা। পরীক্ষা করে তাঁর ধমনীতে ১০০ শতাংশ ব্লকেজ ধরা পড়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছেন, সতর্ক না থাকলে আচমকা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও আছে তাঁর।

চিকিৎসকেরা বলেন, নিয়ম মেনে চললে হৃদ্‌রোগের ভয় থাকে না। কিন্তু রেমোর ঘটনা আরও এক বার তা ভাবতে বাধ্য করছে। তবে ইদানীংকালে এমন ঘটনা আরও ঘটেছে। জিমে শরীরচর্চা করতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক, স্টেজে উঠে পারফরম্যান্সের সময়ে হৃদ্‌রোগ— উদাহরণ বহু। তাঁদের অনেকেই রোজের যাপনে নিয়ম মেনে চলতেন। আসলে হৃদ্‌রোগ নানা কারণেই হতে পারে। অনেক সময়ে সে লক্ষণ ধরাও পড়ে না। হৃৎস্পন্দন কখন নিয়ম মেনে হবে, কখন তা অনিয়মিত হয়ে পড়বে, তা নিয়ে গবেষণাও চলছে বিস্তর। সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তাঁদের এক গবেষণাপত্রে জানিয়েছিলেন, হৃদ্‌রোগের নেপথ্যে জিনগত কারণও থেকে যায় অনেক সময়, আবার রোজের কিছু অভ্যাসও দায়ী হতে পারে।

নিয়ম মেনে চলেও কী কী কারণে হতে পারে হৃদ্‌রোগ?

দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এ বিষয়ে লেখা হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, হার্টের অসুখের ক্ষেত্রে ডিএনএ বড় ভূমিকা পালন করে। যদি কারও পরিবারে হার্ট অ্যাটাক বা ব্লকেজের ইতিহাস থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মেরও সে ঝুঁকি থেকে যায় সে যতই ডায়েট আর ব্যায়াম করা হোক না কেন।

মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত কার্ডিয়ো ব্যায়াম বা জিমে গিয়ে ভারী ওজন তুলে ব্যায়াম করলে হৃৎপিণ্ডের উপর চাপ পড়ে। কার্ডিয়ো বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং করলে সেই মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হয়, বিশ্রামেরও প্রয়োজন হয়। না হলে বাড়তি চাপে প্রদাহ তৈরি হতে পারে শরীরে।

শারীরিক পরিশ্রম না করলেও মানসিক চাপ অনেক সময়েই ধমনীতে প্রদাহ তৈরি করে, যে কারণেও সমস্যা হতে পারে।

লিপোপ্রোটিন (এ) বা এলপি (এ) এক ধরনের কোলেস্টেরল যা সাধারণ লিপিড প্রোফাইল টেস্টে ধরা পড়ে না। এর মাত্রা বেশি থাকলে সুস্থ মানুষেরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন

হৃৎস্পন্দনের গোলমাল যে কারও হতে পারে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, ‘কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া’। অ্যারিদমিয়া হার্টের উপরের প্রকোষ্ঠ অ্যাট্রিয়া বা নীচের প্রকোষ্ঠ ভেনট্রিকলসে দেখা দিতে পারে। অনেক সময়েই তার কোনও উপসর্গ থাকে না। হার্টরেট কমে যাওয়ার ফলে যে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হয়, তা থেকে হার্টে ব্লক হতে পারে, একে বলে ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া। এ ক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দন ৬০-এর নীচে চলে যায়। আর হার্টরেট হার্টরেট ১০০র উপরে চলে তাকে বলে ট্যাকিঅ্যারিদমিয়া। সে ক্ষেত্রেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহু গুণে বেড়ে যায়। শরীরে আচমকা সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বিগড়ে গেলে, অনিদ্রা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে, অত্যধিক শরীরচর্চা বা পরিশ্রম করলে বা হার্টের গঠনগত ত্রুটি থাকলে এমন সমস্যা হতে পারে। তাই কোনও একটি কারণকে দায়ী করা যায় না। সে কারণে সময় থাকতে বয়স চল্লিশ পার হওয়ার আগেই ইসিজি, হল্টার মনিটরিং, লুপ রেকর্ডার, ইকোকার্ডিয়োগ্রাফ এবং কিছু রক্ত পরীক্ষা করিয়ে রাখলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকবে।

Remo D'Souza Heart Attack Heart Disease Heart Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy