হার্টের পেশিতে রক্ত চলাচলে বাধা বা ব্লকেজ তৈরি হলেই হার্ট অ্যাটাক হয়। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রোগীর হার্টের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে বা মৃত্যুর আশঙ্কাও থাকে। এটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের থেকে আলাদা, যেখানে হার্ট হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এই সময়ে দাঁড়িয়ে ভারতে তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও এই রোগ মারাত্মক ভাবে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র মতে, দেশের মোট মৃত্যুর ২৭ শতাংশের বেশি ঘটে হার্টের রোগের কারণে।
হার্ট অ্যাটাক দ্রুত প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে, তাই আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে সঠিক পদক্ষেপ করা জরুরি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে জীবন বাঁচানো যেতে পারে। যে মুহূর্তে টের পাবেন, হার্ট অ্যাটাকের মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে রোগীর শরীরে, তখনই সতর্ক হয়ে যেতে হবে। বাঁ হাতে ব্যথা, চোয়ালে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুকে প্রবল ব্যথা, ঘাম বেরোনো, বমি ভাব বা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ৫টি নিয়ম মেনে চলতে হবে।
হার্ট অ্যাটাকের সময়ে কী করা উচিত? ছবি: সংগৃহীত
১. প্রথমেই হাসপাতালে খবর দেওয়া বা অ্যাম্বুল্যান্স ডাকার বন্দোবস্ত করতে হবে। আপৎকালীন চিকিৎসার ব্যবস্থা করে নিতে হবে শুরুতেই। ফোন করতে দেরি হলে হার্ট অ্যাটাক মারণরোগে পরিণত হতে পারে খানিক ক্ষণের মধ্যেই।
২. রোগীকে উত্তেজিত না হয়ে শান্ত ভাবে বসে থাকতে হবে। নয়তো রক্তচাপ বেড়ে গেলে হার্টের উপর আরও চাপ বাড়বে। রোগীর পরিবারেরও সকলকে শান্ত থাকতে হবে, নয়তো সিদ্ধান্তে নেওয়ায় ভুল থেকে যেতে পারে।
৩. আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অ্যাস্পিরিন খুব কার্যকরী। তাই রোগীকে দ্রুত অ্যাস্পিরিন দিতে হবে। জিভের তলায় রেখে দিতে হবে ওষুধটি। সেটিই কাজ করতে শুরু করবে। হার্ট অ্যাটাকের কারণে শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তনালিতে ব্লক তৈরি হতে পারে। অ্যাস্পিরিন রক্ত পাতলা রাখে এবং নতুন করে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
৪. জামাকাপড় যেন আক্রান্তের শরীরে খুব চেপে না বসে। তাতে শ্বাসকষ্ট বাড়ে। তাড়াতা়ড়ি পোশাক পাল্টে দিতে হবে বা চাপা পোশাক ঢিলে করে দিতে হবে। যাতে রোগী শ্বাস নিতে পারেন একটু ভাল ভাবে।
৫. উপসর্গের দিকে নজর রাখতে হবে টানা। স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হচ্ছে কি না, তা বুঝতে হবে পরিবারের লোকজনকে। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি এই খুঁটিনাটিগুলি জানতে চাইবেন।
হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ৫টি পদক্ষেপ করলে জীবনহানির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই রোগী থেকে শুরু করে রোগীর পরিবারের সকলেরই এই ধাপগুলি জেনে রাখা দরকার। তবে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে বা রোগী জ্ঞান হারালে কার্ডিয়োপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর শুরু করতে হবে দ্রুত। একটি এক প্রকার জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি। সকলেরই এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত হওয়া জরুরি।