মশাবাহিত হয়েই ছড়ায়। গরম পড়তেই এই ভাইরাসের দাপট বাড়ে। ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার চেয়েও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস। সাধারণত পশ্চিমের দেশগুলিতে এর দাপাদাপি বেশি হলেও এ দেশে গত কয়েক বছর ধরে ওয়েস্ট নাইলের প্রকোপ বেড়েছে। কেরলের এরনাকুলামে আক্রান্ত অনেক। সংক্রমণ আর কোন কোন জায়গায় ছড়িয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। এ দেশের ‘সেন্টার ফর ডিজ়িজ় প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল’ (সিডিসি)জানিয়েছে, ভাইরাসটি আবারও চরিত্র বদলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
কী এই নাইল ভাইরাস?
এটি মূলত ফ্ল্যাভিভাইরাস গোত্রের। এই গোত্রের অন্যান্য ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে জ়িকা, ডেঙ্গি এবং ইয়োলো ফিভার। ১৯৩৭ সালে উগান্ডার ওয়েস্ট নাইল জেলায় প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল বলেই এর নাম দেওয়া হয় ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস। মূলত পাখিদের মাধ্যমে ছড়ায়, তবে মশা এই ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করে। কিউলেক্স মশা-ই এ ভাইরাসের বাহক। কিউলেক্স মশা থেকে আবার ফাইলেরিয়া বা গোদ, জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের মতো রোগও ছড়ায়।
আরও পড়ুন:
রোগ ছড়ায় কী ভাবে?
ওয়েস্ট নাইল শরীরে ঢুকলে প্রথমে উপসর্গ বোঝা যায় না। সাধারণ জ্বর, বমি ভাব, মাথাব্যথা হয় রোগীর। কিছু ক্ষেত্রে ফ্লু-এর মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে ভাইরাস যদি কোনওভাবে মস্তিষ্ক অবধি পৌঁছে যায়, তখন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে বিকল করে দিতে শুরু করে। মস্তিষ্কে প্রদাহ শুরু হয়, রোগীর বমি হতে থাকে, সারা গায়ে র্যাশ বেরিয়ে যায়। মেনিজ়াইটিসের উপসর্গও দেখা দেয়। রোগীর স্নায়ুতন্ত্র যদি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা হলে পক্ষাঘাতও হতে পারে।
শিশু ও বয়স্ক, যাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের সংক্রমণে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। এতে স্নায়বিক রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা অনেক বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসা কী?
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসকে কাবু করার মতো কোনও ওষুধ বা প্রতিষেধক নেই। রোগের উপসর্গগুলি দমিয়ে রাখার চিকিৎসা করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিক রোগ সারাতে কাজে লাগে না। তাই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়লে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত হবে না। কিছু ক্ষেত্রে রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হতে পারে।