Advertisement
E-Paper

ভাত-রুটি ছেড়েই কি এত ফিট মলাইকা? অভিনেত্রী কি মেদ ঝরাতে ‘নো কার্ব ডায়েট’ করার পক্ষপাতী?

অল্প সময়ে মেদ ঝরাতে শরীরচর্চার পাশাপাশি, পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়াই রোজের ডায়েট থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে দেন অনেকে। শুধু কেক-পেস্ট্রি-মিষ্টি নয়, ভাত-রুটি সবই বন্ধ। কিন্তু দীর্ঘকালীন ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট না থাকলে কী কী ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করলেন অভিনেত্রী মলাইকা অরোরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০২৫ ১১:০২
‘নো কার্ব ডায়েট’ করেই কি মলাইকা এখনও ধরে রেখেছেন যৌবনের জেল্লা?

‘নো কার্ব ডায়েট’ করেই কি মলাইকা এখনও ধরে রেখেছেন যৌবনের জেল্লা? ছবি: সংগৃহীত।

পুজোর আগে চটজলদি ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে যাঁরা শরীরচর্চা করেন, তাঁদের চোখে কার্বোহাইড্রেট খলনায়কের মতো। অল্প সময়ে মেদ ঝরাতে শরীরচর্চার পাশাপাশি, পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়াই রোজের ডায়েট থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে দেন অনেকে। শুধু কেক-পেস্ট্রি-মিষ্টি নয়, ভাত-রুটি সবই বন্ধ। কিন্তু দীর্ঘকালীন ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট না থাকলে কী কী ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করলেন অভিনেত্রী মলাইকা অরোরা।

মলাইকার বয়স ইতিমধ্যেই ৫০ পেরিয়েছে। তবে তাঁকে দেখে তা বোঝার জো নেই! অল্পবয়সি অভিনেত্রীদের মতোই তাঁর ফিটনেস আর রূপের বাহার! এখনও ‘আইটেম নম্বরের’ জন্য বলিউডে তাঁর ভালই নামডাক। জিম, যোগাসন, পিলাটেজ— শরীরচর্চার সঙ্গে কোনও রকম আপস পছন্দ নয় অভিনেত্রীর। তবে ডায়েট থেকে কখনও কার্বোহাইড্রেট বাদ দেননি মলাইকা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘ অনেকেই ডায়েট থেকে কার্ব সম্পূর্ণ ভাবে বাদ দিয়ে দেন, এই অভ্যাসটি মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। এর ফলে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়, মাথা ঘোরে এবং সবচেয়ে খারাপ দিকটি হল কার্ব না খেলে কোনও কাজেই মনোযোগ দেওয়া যায় না।

মলাইকার সঙ্গে সহমত পুষ্টিবিদ পম্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, সমস্ত শারীরবৃত্তীয় পরিচালনার জন্য প্রতি দিন শরীরে নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী প্রোটিন, ভিটামিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেটের মতো জরুরি উপাদানগুলির জোগান দিতেই হবে। পম্পিতা বলেন, ‘‘ওজন ঝরানোর ডায়েটে বয়স এবং শারীরিক সুবিধা-অসুবিধা বুঝে ব্যক্তিবিশেষে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা নির্ধারণ করেন পুষ্টিবিদেরা। কিন্তু পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ খাবারের তালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণ ভাবে বাদ দিয়ে দিলে শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। খুব প্রয়োজন না হলে আমরা ‘নো-কার্ব ডায়েট’ করার পরামর্শ দিই না রোগীকে।’’

ওজন কমানোর লক্ষ্যে খাবারের তালিকা থেকে কার্বোবাইড্রেট বাদ দিলে শরীর এবং মনের উপর কেমন প্রভাব পড়তে পারে?

১) ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ধরে থাকে? ভেবে দেখুন, শরীরে শর্করার অভাব হচ্ছে না তো? কারণ, মস্তিষ্ক তার সব কাজ পরিচালনা করার জন্য শর্করার উপর নির্ভর করে। শুধু তা-ই নয়, শরীরে সেরেটোনিন হরমোন ক্ষরণেও সহায়তা করে কার্বোহাইড্রেট। তাই কার্বের ভাঁড়ারে টান পড়লেও কিন্তু হঠাৎ অবসাদ বা উদ্বেগ বাড়তে পারে।

২) যে কোনও কাজ করতে গেলে যে শক্তির খরচ হয়, তার বেশির ভাগই আসে কার্বোহাইড্রেট থেকে। কিন্তু খাবারের তালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলে, শরীর সেই পরিমাণ শক্তি সঞ্চয় করতে পারে না। ফলে কায়িক পরিশ্রম করতে গেলে শরীর অতিরিক্ত দুর্বল লাগে।

৩) ডায়েট করা শুরু করলে অনেকেই প্রথম দিকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। তালিকা থেকে কার্ব এবং ফাইবার জাতীয় খাবার বাদ দেওয়ার ফলে এই সমস্যা হতেই পারে।

৪) কার্বোহাইড্রেট একেবারে ছেড়ে দিলে ঘন ‌ঘন খিদে পায়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্বোহাইড্রেট অপরিহার্য। কার্বোহাইড্রেটের অভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। এর ফলে গ্লুকোজের অন্যান্য উৎস, যেমন চিনি বা মিষ্টি খাওয়ার প্রতি টান বাড়ে।

৫) কার্বোহাইড্রেট খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিলে অনেক মহিলার ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে পড়ে। শরীরে কার্বোহাইড্রেট না গেলে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যায়। তাই ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ে।

Low Carb Diet
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy