বিয়ের সাজে নতুনত্বই চাইছেন এখনকার মেয়েরা। নানা রকম রূপটানের পদ্ধতি চলে এসেছে এখন। রঙিন কনট্যাক্ট লেন্স পরার চলও হয়েছে এখন। চশমার বিকল্প হিসেবে নয়, অনেকে চোখ আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেও রূপটানের সঙ্গে মানানসই লেন্স পরছেন। এতে সাজ সুন্দর হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু চোখের সংক্রমণের ভয়ও বাড়ছে। রঙিন লেন্স পরে যদি নিয়ম না মানা হয়, তা হলে চোখেরই ক্ষতি।
অধিকাংশ মানুষ যে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তা হল সফট কনট্যাক্ট লেন্স। যাঁদের চোখে কোনও সমস্যা নেই, শুধুই পাওয়ার রয়েছে, তাঁরা চশমার বদলে এই লেন্স ব্যবহার করেন। আবার পাওয়ার ছাড়া লেন্সও রয়েছে। সেগুলি কেবল শৌখিনতার জন্য। কোনও লেন্স এক মাসের জন্য হয়, কোনওটা আবার তিন মাস, ছয় মাস, কোনওটা এক বছরের জন্য হয়। সময়সীমা যা-ই হোক না কেন, লেন্সটি কত ক্ষণ চোখে পরে রয়েছেন তা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত কনট্যান্ট লেন্স একটানা ৮ ঘণ্টার বেশি পরতে বারণ করা হয়। তবে বিয়ের সময়ে লেন্স পরার সময় এর চেয়ে বেশিই হবে। দীর্ঘ সময় ধরে তা চোখে থাকলে, চোখের কাজল, আইশ্যাডো, মাস্কারার মতো মেকআপের সংস্পর্শে এসে এতে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ হবে। ফলে রেটিনার ক্ষতি হবে।
আরও পড়ুন:
চশমা ব্যবহারে কর্নিয়া বাতাস থেকে স্বাভাবিক অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু লেন্সের মধ্য দিয়ে অক্সিজেন ঢুকতে পারলেও, স্বাভাবিকের তুলনায় চোখে অনেকটাই অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। তা ছাড়া, কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারের কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে। তা মেনে না চললে ড্রাই আইজ়, ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে লেন্স পরার সময়ে বা পরা অবস্থায় চোখে ব্যথা, চুলকানি, লাল ভাব দেখা দেয়। সঙ্গে ঝাপসা দেখা বা একেবারেই দেখতে পাচ্ছেন না, এমনটাও হতে পারে। কনট্যাক্ট লেন্সের কারণে সাধারণত সিউডোমোনাস নামক এক ধরনের ব্যাক্টিরিয়ায় চোখ আক্রান্ত হয়। এর থেকে কর্নিয়ার আলসারও হতে পারে।
আরও পড়ুন:
রঙিন লেন্স ব্যবহারের বিধি
মেকআপ শুরুর আগে হাত ভাল করে ধুয়ে নিয়ে তবেই লেন্স পরুন। মেকআপের পরে নয়।
লেন্স ৭-৮ ঘণ্টার বেশি পরবেন না। খুলে রাখতেই হবে।
চোখের ভিতরের দিকে কাজল বা লাইনার লাগাবেন না। মেকআপের গুঁড়ো যেন লেন্সে না লাগে সে দিকে খেয়াল রাখুন। অয়েল-বেসড মেকআপের চেয়ে ওয়াটার-বেসড মেকআপ লেন্সের জন্য বেশি নিরাপদ।
বিয়ের অনুষ্ঠানে চড়া আলো ও ধোঁয়ায় চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঙ্গে একটি 'লুব্রিকেটিং আই ড্রপ' রেখে দিন। চোখ জ্বালা করলে ১-২ ফোঁটা ব্যবহার করুন।
লেন্স খোলার আগে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ভাল করে শুকিয়ে নিন। লেন্স ব্যবহারের পরে তা খুলে সলিউশনে পরিষ্কার করে নিয়ে নির্দিষ্ট বাক্সে সলিউশনে ডুবিয়ে রাখা জরুরি।
সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লেন্স বদলাতে হবে। এক সলিউশন এক মাসের বেশি ব্যবহার করবেন না।
দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টার বেশি কনট্যাক্ট লেন্স পরা ঠিক না। একান্তই এর চেয়ে বেশি সময় কখনও লেন্স ব্যবহার করতে হলে আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা অন্তত চোখকে বিশ্রাম দিয়ে তার পর পরুন। মাঝে চোখে ড্রপ দিন।