আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম, শারীরিক কসরত না করা— এমন কিছু কারণে যে সব অসুখ সহজেই শরীরে বাসা বাঁধে, তার অন্যতম ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভারের অসুখে ভুগছেন কি না, তা সব সময় বাইরে থেকে বোঝার উপায় থাকে না। চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রত্যেকের লিভারে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ চর্বি থাকে। তা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে এই চর্বির পরিমাণ যদি বেড়ে যেতে থাকে, তা হলেই মুশকিল। তখনই দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা। অনেকেই মনে করেন, মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানই ফ্যাটি লিভারের একমাত্র কারণ। চিকিৎসকেরা বলছেন, ফ্যাটি লিভার দু’রকম— অ্যালকোহলিক এবং নন-অ্যালকোহলিক। মদ্যপান করার ফলে লিভারে মেদ জমলে তা অ্যালকোহলিক ফ্যাট। অতিরিক্ত তেল-মশলা, ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে লিভারে মেদ জমলে তা ‘নন-অ্যালকোহলিক’ ফ্যাটি লিভার। এটি বংশগত কারণেও হতে পারে। যে কারণেই হোক ফ্যাটি লিভার নিয়ে সতর্ক না হলে লিভার সিরোসিসও হয়ে যেতে পারে। অনেকেই বলেন ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় কালো কফি দাওয়াই হতে পারে, এই ধারণা কি আদৌ ঠিক?
লিভারে ফ্যাট জমার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ভরসা রাখতে পারেন কফির উপরে। কেবল সকালের ঘুমভাব কাটাতেই নয়, কালো কফি কিন্তু লিভারের দাওয়াই হতে পারে। তবে কফি খেতে হবে দুধ, চিনি ছা়ড়া। কালো কফি লিভারের জন্য বেশ ভাল। লিভারে জমে থাকা ফ্যাট গলিয়ে দিতে পারে এবং লিভারকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির হাত থেকেও রক্ষা করে এটি। পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে কালো কফি লিভারে ফ্যাট জমতে দেয় না। লিভার ফাইব্রোসিসের ঝুঁকিও কমায় কালো কফি। রোজের ডায়েটে কালো কফি রাখলে এসজিপিটি, এসজিওপি-র মতো লিভার উৎসেচকগুলি বাড়তে দেয় না।’’
তবে সবার জন্য উপকারী নয়
কালো কফি কিন্তু কারও কারও জন্য সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। পুষ্টিবিদের মতে, উদ্বেগজনিত সমস্যা থাকলে, ঘুমের সমস্যা থাকলে বা অনিদ্রার সমস্যা থাকলে কালো কফি রোজের ডায়েটে রাখা যাবে না। এর পাশাপাশি ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে দিনে ১০-১২ বার কালো কফি খেয়ে নিলেন, এমনটা করলে চলবে না। সারা দিনে দু’ বারের বেশি কালো কফি খাওয়া যাবে না। শ্রেয়া বলেন, ‘‘ফ্যাটি লিভার হলে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন, স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের চেষ্টা করুন। সঙ্গে কফিও খান, তবে দিনে দু’বারের বেশি নয়। কফিতে চিনি মেশাবেন না ভুলেও।’’