ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবে একটি প্রসাধনী সংস্থার প্রচার দূত হিসাবে উপস্থিত হয়েছিলেন আলিয়া ভট্ট। লাল গালিচায় লাইমলাইট পেয়েছে তাঁর গাউন থেকে শাড়ির সাজ। আর সেখানেই একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ত্বকের রহস্য ফাঁস করে আলিয়া জানিয়েছিলেন ঘি, গুড়, নারকেল ও চিনেবাদাম খেয়ে ত্বকের যত্ন নেন তিনি। সেই চলচ্চিত্রোৎসবে নিজের খাদ্যাভ্যাসও প্রকাশ করেছেন বলিউড তারকা।
একটি সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বাড়ি থেকে দূরে এসে কোন খাবারটির কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে? উত্তরে আলিয়া জানান, ভারতীয় খাবারের প্রতি প্রবল আকর্ষণ তাঁর। বলা যেতে পারে, দেশীয় খাবার না খেলে প্রাণ ভরে না আলিয়ার। মধ্যবিত্ত ভারতীয়ের মতো তিনিও ব্যাগভর্তি করে খাবার নিয়ে যেতে পছন্দ করেন বিদেশে। ফরাসি খাবার যেখানে বিশ্বের দরবারে সমাদৃত, সেই দেশেই বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে গিয়েছেন আলিয়া। ঠিক যেন ছাপোষা ভারতীয় মধ্যবিত্ত! আলিয়া বলছেন, ‘‘আমি যেখানেই যাই, ভারতীয় খাবারের কথা মনে পড়ে সর্ব ক্ষণ। তা ডাল-ভাত হোক বা ঘরোয়া আচার, তরকারি হোক বা মাখানা। যদিও মাখানা আমি নিজের সঙ্গে নিয়ে এসেছি এখানেও।’’
মাখানা। ছবি: সংগৃহীত
আলিয়ার এই ছোট্ট মন্তব্যই সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, অনেকেই এতে নিজেদের অভ্যাসের প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছেন। বিদেশে গেলেও ব্যাগে মুড়ি, চানাচুর, মাখানা বা ছাতু ভরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ভারতীয়দের কাছে নতুন নয়। আলিয়াও তার ব্যাতিক্রম নন। অনেকেই এখন চিপ্স বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে এই ধরনের দেশীয় খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। তা ছাড়া এই ধরনের শুকনো খাবার বহন করাও সহজ। দীর্ঘ সফর, শুটিং বা অনুষ্ঠান— যেখানেই হোক না কেন, সহজে নষ্ট হয় না বলে অনেকেই এখন এমন স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স সঙ্গে রাখছেন।
মাখানার পুষ্টিগুণ কী?
মাখানায় রয়েছে ভাল মানের ফাইবার, যা অন্ত্র ভাল রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে পারে। তাই ওজন ঝরানোর জন্যও মাখানা উপযুক্ত। এ ছাড়াও প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে মাখানায়। যেহেতু মাখানায় ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে, তাই হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে এটি। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর মাখানার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম। তাই ডায়াবেটিকদের জন্য এই খাবার নিরাপদ। কিম্পফেরল নামক এক ধরনের উপাদান থাকায় মাখানা প্রদাহনাশীও বটে।
কী ভাবে খাবেন মাখানা? ছবি: সংগৃহীত
রকমারি পন্থায় মাখানা বানিয়ে খাওয়া যায়। যেমন—
· টক দইয়ের মধ্যে মাখানা মিশিয়ে ভাজামশলা ছড়িয়ে খেতে পারেন।
· কড়াইয়ে অল্প ঘি এবং গোলমরিচে নাড়িয়েচাড়িয়ে মাখানা খেতে পারেন।
· মাখানা দিয়ে পায়েস বানিয়েও খেতে পারেন। ঘিয়ে নাড়াচাড়া করে রেখে দিন, তার পর দুধ গরম করে গুড় মিশিয়ে তাতে মাখানা মিশিয়ে খেয়ে নিন।
· মাখানা ঘিয়ে ভেজে তার মধ্যে আলু, পেঁয়াজ, টম্যাটো, চিনাবাদাম, নুন, গোলমরিচ, লেবুর রস, ধনেপাতাকুচি দিয়ে ভাল করে মেখে চাটের মতো করে খেয়ে নিতে পারেন।