খাতায়-কলমে বর্ষাকাল, তবে গরমের দাপট কম নয়। বৃষ্টি হলে ভ্যাপসা গরম। আর চড়া রোদ উঠলে তো কথাই নেই। আর্দ্রতার বাড়াবাড়ির ফলে দোসর দরদরিয়ে ঘাম। গলদঘর্ম হয়েই অফিস-কাছারি করছেন। কিন্তু মরসুমের এই স্বাভাবিক প্রবণতাই কিডনির অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে কি?
দিল্লি নিবাসী কিডনির অসুখের চিকিৎসক উদিত গুপ্ত বলছেন, সমস্যার মূলে শুধু গরম বা ঘাম নয়, আসলে রয়েছে জলশূন্যতা। তাপমাত্রা বেশি থাকলে, ঘাম হবেই। ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে জল এবং খনিজ বেরিয়ে যায়। সেই ঘাটতিপূরণে দরকার হয় জল বা তরল খাবার খাওয়ার। কেউ যদি তা না খান, তখনই চাপে পড়ে কিডনি।
শরীরের যাবতীয় দূষিত পদার্থ রক্ত থেকে ছেঁকে বার করে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব পালন করে প্রত্যঙ্গটি। সেই কাজে সাহায্য করে জল। শরীরে জলের ঘাটতি হলে যেমন শারীরবৃত্তীয় কাজে বাধা পড়ে, তেমনই রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়ায় কিডনিও সমস্যা পড়ে যায়। শরীরে জলাভাব হলে কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে, বাড়তে পারে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও। চিকিৎসক তার ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন। শরীরে জলাভাব হলে প্রস্রাবও ঘন হয়ে যায়। ফলে প্রস্রাবের সঙ্গে থাকা খনিজ, যেমন ক্যালশিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড থিতিয়ে পড়ে। সেগুলি জমাট বেঁধে তৈরি হয় পাথর।
কিডনির ঝুঁকি কতটা?
শরীরে জলশূন্যতা বা জলের ঘাটতি দিনের পর দিন চলতে থাকলে কিডনির উপর চাপ বাড়ে। তা থেকে যেমন প্রস্রাবের সংক্রমণ হতে পারে, তেমনই কিডনির মারাত্মক ক্ষতিও হতে পারে। চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, পর্যাপ্ত জলের অভাব হলে, দিনের পর দিন জল খাওয়া খুব কম হলে কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
কিডনি ভাল রাখতে যেমন পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি, তেমনই সেই মাত্রা নির্দিষ্ট হওয়া দরকার। অতিরিক্ত জল খেলেও কিডনির উপরে চাপ বেশি পড়ে। ওজন, কায়িক শ্রম, মরসুম অনুযায়ী জলের মাত্রা নির্দিষ্ট রাখতে হবে।