কেউ খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানলেন। একমাসেই কমল ওজন। কেউ কড়া ডায়েটের ফাঁদে পছন্দের খাওয়া ছাড়লেন, করলেন শারীরচর্চা। তার পরেও ফলাফল শূন্য? আশপাশে চোখ বোলালে এমন অভিজ্ঞতার নজির মিলবে ভূরি ভূরি।
কারও যেমন মেদ গলে দ্রুত, কারও তেমনই ওজন কমতে চায় না। প্রথম ধাপে খানিক ওজন কমলেও, একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে তা থমকে যায়। অথচ ডায়েট, শারীরচর্চায় ফাঁকি থাকে না। এমনটা কেন হয় সেই কারণই ব্যাখ্যা করলেন বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালের পেটের রোগের চিকিৎসক লোকেশ এলভি।
চেষ্টা করার পরেও ওজন না কমার নেপথ্যে থাকতে পারে বিশেষ কিছু শারীরিক অসুস্থতা। বিশেষত হাইপোথাইরয়েডিজ়ম বা পলিএন্ড্রোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (পিএমওএস) থাকলে শরীরে মেদ জমতে পারে। এই ধরনের সমস্যায় হরমোনের হেরফের হয়। ফলে, এক দিকে যেমন খিদে বেড়ে যেতে পারে, তেমন মেদ গলাতেও সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়াও বিপাকহার কমে গেলে, ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স তৈরি হলে (ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না), পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব হলে বা মানসিক চাপ বাড়লে এমন সমস্যা তৈরি হতে পারে।
জীবনযাপনে বদল আনলে, স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে এবং শারীরচর্চা করলে অবশ্যই কিছু সমস্যা নিয়্ন্ত্রণে আসে। তবে শারীরিক অসুস্থতা থাকলে তার চিকিৎসা জরুরি।
আরও পড়ুন:
ওজন কমানোর অন্য পন্থা
বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ডায়েট এবং শারীরচর্চা করলে ওজন বশে রাখা সম্ভব, যদি অন্য কোনও অসুখ না থাকে। তবে এখন ওজন বশে রাখার অন্যান্য পন্থাও জনপ্রিয় হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে এন্ডোস্কোপিক স্লিভ গ্যাস্ট্রোপ্লাস্টি (ইএসজি)। এই প্রক্রিয়ায় মুখ দিয়ে পাকস্থলীতে ক্যামেরা প্রবেশ করানো হয়। পাকস্থলীর আকার ছোট করে দেওয়া হয়, ফলে অল্পেই পেট ভরে যায়। রয়েছে ইনট্রাগ্যাস্ট্রিক বেলুন দিয়েও ওজন কমানোর পন্থা। এতেও পাকস্থলীতে বেলুন প্রবেশ করিয়ে খাবারের পরিমাণ কমানো হয়। খুব বেশি ওজন যাঁদের তাঁদের জন্য এই প্রক্রিয়াগুলি কার্যকর।