Advertisement
E-Paper

এগিয়ে গিয়েও বার বার গোলহজম! কাতারের ‘দোষ’ আবার ফিরেছে আর্জেন্টিনা দলে, মেসিদের সমস্যা কি শারীরিক না মানসিক?

গোল খেয়েও বার বার গোল হজম। সহজ ম্যাচ কঠিন করে জেতা। কাতারের পর আমেরিকা বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার পুরনো রোগ যে সারেনি, কাবো ভার্দে ম্যাচে তা বোঝা গিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ২২:৩০
football

হতাশ লিয়োনেল মেসি। ছবি: রয়টার্স।

কোথায় সমস্যা হচ্ছে আর্জেন্টিনার?

লিয়োনেল মেসির দেশের সমর্থকেরা প্রায়ই বলে থাকেন, ‘আর্জেন্টিনা কখনও ম্যাচ সহজ করে জেতে না’। শনিবার ভোরে আরও একবার সেই জিনিস দেখা গিয়েছে। গোল দিয়ে এগিয়ে গিয়েও গোল হজমের যে প্রবণতা, তা থেকে কিছুতেই বার হতে পারছে না আর্জেন্টিনা।

বিস্তারিত ভাবে বললে, কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চারটি ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও গোল হজম করেছিল। সমতা ফিরিয়েছিল বিপক্ষ দল। শুরুটা হয়েছিল সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার পরেও সৌদি আরব দু’টি গোল করে ম্যাচ জিতে নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা ২-০ এগিয়ে যাওয়ার পরেও ২-২ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে জিততে হয়। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ফাইনালেও আর্জেন্টিনা ২-০ এগিয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ২-২ হয় এবং আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে জিতে ট্রফি হাতে তোলে।

সেই একই জিনিস দেখা গিয়েছে কাবো ভার্দের বিরুদ্ধেও। এমনিতে কাবো ভার্দের রক্ষণ যথেষ্ট সংগঠিত এবং দুর্দান্ত সব গোল করায় তাদের সুনাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা গোল করে এগিয়ে গিয়ে হঠাৎই ‘সুইচ অফ’ করে গিয়েছে এবং গোল হজম করেছে। দ্বিতীয় গোল করে আবার ‘সুইচ অফ’ হয়েছে। আবার গোল হজম করেছে। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ় না থাকলে কাবো ভার্দে অতিরিক্ত সময়ে এগিয়েও যেতে পারত। সাধেই ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি বলেছেন, “আজ আমরা অনেকগুলো আঘাত হজম করেছি। অনেকেই হয়তো ভেবেছিল খুব সহজে ম্যাচটা জিতে নেব। আমরা কিন্তু সেটা ভাবিনি।”

খুব সহজে ম্যাচ জয়? স্কালোনি হয়তো ঠিক বলেননি। কিন্তু ধারে-ভারে অনেকটা নীচের দিকে থাকা দলের কাছেও আর্জেন্টিনাকে এত কষ্ট করে জিততে হবে কেন? অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস? ক্লান্তি? কৌশলগত সমস্যা না কি মানসিক সমস্যা?

এ দিনের ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে, আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় গিয়ারে খেলাটা জিততে চেয়েছে। এমনিতেই এ বারের বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব দেশগুলির কাছে শারীরিক ধকল সহ্য করার পরীক্ষা। প্রথম বার বিশ্বকাপে ৫টি নকআউট ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। ফলে দলগুলি যে পরের রাউন্ডের জন্য শক্তি বাঁচিয়ে রাখতে চাইবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন শক্তি বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে মন্থর হয়ে যেতে হয় এবং বাড়তি ৩০ মিনিট খেলতে হয়, যার কোনও দরকারই ছিল না। আর্জেন্টিনা ঠিক সেই ভুলটাই করেছে।

আর্জেন্টিনার বিশ্রামের কতটা প্রয়োজন তা ম্যাচের পর উল্লেখ করেছেন স্কালোনি। মিশরের বিরুদ্ধে প্রি-কোয়ার্টারের ম্যাচের আগে মাত্র তিন দিন সময় পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে, জর্ডনের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে যে আর্জেন্টিনা দল খেলেছিল, তার থেকে এই দলের প্রথম একাদশ ছিল অনেক আলাদা।

বিষয়টি শুধু শারীরিক ফিটনেসের নয়। ইউরোপীয় দলগুলোর চেয়ে আর্জেন্টিনার খেলার ঘরানা বেশ আলাদা। আর্জেন্টিনা একটানা আগ্রাসী ফুটবল খেলে না। সেটা মেনে নিয়েছেন মেসিও। বলেছেন, “আমরা ওদের চাপে রাখতে পারিনি। সব সময়ে বলের পেছনে ওদের একজন বাড়তি ফুটবলার ছিল। তার সঙ্গে আমরা তাল মেলাতে পারিনি। এই কারণেই ওদের পায়ে বল বেশি থেকেছে এবং আমাদের বেশি দৌড় করিয়েছে।” মেসির পক্ষে এ ধরনের কৌশলগত মন্তব্য বিরল বই কি!

আর্জেন্টিনার পরিকল্পনা থাকে, আচমকা আক্রমণ করে বিপক্ষকে তছনছ করে দেওয়া। ঠিক যেমন ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ়ের পাস থেকে মেসি যে গোলটা করলেন তা আগে থেকে কেউ বুঝতেই পারেননি। কিন্তু বিপক্ষ দল যে মুহূর্তে আগ্রাসী ফুটবল খেলা শুরু করল, তখনই রক্ষণাত্মক হয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

নিজেদের বক্সে রক্ষণের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা খুব খারাপ নয়। তবে এ দিন তারা বল ক্লিয়ার করতে বড্ড বেশি সময় নিয়েছে। ফলে কাবো ভার্দে আর্জেন্টিনার রক্ষণের ফাঁক খুঁজে পেয়েছে সহজেই। প্রথম বার যেমন দুয়ার্তে সমতা ফেরান এবং পরে সিডনি লোপেজ় অসাধারণ শটে গোল করেন।

আর্জেন্টিনার হাতে সব রকম শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা কেন প্রতি আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিপক্ষ আগ্রাসী খেললে প্রতি আক্রমণে উঠে পাল্টা গোল করে আসার প্রবণতা আর্জেন্টিনার খেলায় দেখা যায় না। মেসি গোল বা সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে অসামান্য। কিন্তু তাঁর যা বয়স হয়েছে, তাতে প্রতি আক্রমণ বার বার মেসির পা থেকে শুরু হবে, এমনটা আশা করা অন্যায়। ফলে আর্জেন্টিনাকে নির্ভর করতে হবে লাউতারো মার্তিনেজ় বা জুলিয়ান আলভারেজ়ের উপরে।

এটা মানতেই হবে যে, আর্জেন্টিনা এ দিন দু’বারই গোল খাওয়ার পর দারুণ ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কখনওই ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হয়নি। তারা বল নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং বিপক্ষকে সুযোগও তৈরি করতে দেয়নি। দুই সেন্টারব্যাক সেট-পিস থেকে গোল করেছেন। ফলে আর্জেন্টিনা বিপক্ষকে চাপে রাখতে পারে না, এটা সত্যি নয়। কিন্তু কতটা চাপে রাখতে চায় সেটাই প্রশ্ন।

স্কালোনি এ দিন সেটাই বলেছেন। তাঁর কথায়, “আমার মনে আছে, কাতারে যে ম্যাচগুলো অতিরিক্ত সময়ে গিয়েছিল, আজও ঠিক একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ছেলেরা আক্রমণ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। এক-এক সময় মনে হচ্ছিল, সৌদি আরব ম্যাচের মতোই কোনও একটা ম্যাচ খেলছি। তবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেমন খেলেছিলাম, তার চেয়ে ভাল খেলেছি আজ। কারণ এই দলটা আগের থেকে অনেক অভিজ্ঞ হয়েছে।”

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
Lionel Messi Argentina Football Lionel Scaloni Julián Álvarez

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy