তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গ্লুটেন-মুক্ত খাবার খাওয়ার চল বেড়েছে। বলিউডের নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে বেশির ভাগই এখন গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েটে অভ্যস্ত। গ্লুটেন এক ধরনের প্রোটিন, যেটা মূলত গম, রাই, বার্লি ইত্যাদিতে থাকে। এক ধরনের আঠালো পদার্থ থাকে এই সব খাবারে, যা খাবারটিকে তৈরি করার সময় ফেঁপে উঠতে সাহায্য করে। মূলত রুটি, পাউরুটি, পাস্তা, কেক, চিপ্স, সস্, বিয়ার -এই সব খাবারে গ্লুটেন থাকে।
তবে বাবা-মায়েরা গ্লুটেন-মুক্ত খাবারের কথা শুনলেই বলেন, ‘‘আমরা তো সারা জীবন গমের আটার রুটিই খেয়ে এলাম! আমাদের তো কোনও সমস্যা হয়নি।’’ কথাটা যদিও খুব একটা ভুল নয়। আগেকার দিনে যে গম খাওয়া হত সেগুলি প্রাকৃতিক উপায়ে পেষাই করা হত। তার সঙ্গে খুব বেশি ভেজাল মেশানো হত না। পেট খুব সহজেই সেই আটা হজম করে নিত। তবে এখন পরিশোধিত করে গম পেষাই করা হয়। ফলে যে গ্লুটেন তৈরি হয় তা হাইব্রিডাইজ়ড, অল্টার্ড এবং আলট্রা-প্রসেস্ড। শরীরে এই ধরনের গ্লুটেন প্রবেশ করলেই তা পেটের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ‘গ্লুটেন সেনসিটিভিটি’ এখন অনেকের ক্ষেত্রেই বড় সমস্যার কারণ।
কেন সমস্যা হয়?
এখনকার দিনের বিভিন্ন খাবারে যে গ্লুটেন পাওয়া যায়, তা শরীরে প্রদাহ তৈরি করে। হজমশক্তি দুর্বল করে দেয়। থাইরয়েডের সমস্যা, হাড়জনিত সমস্যা এবং পাকস্থলীর সমস্যা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে গ্লুটেন।
কোন কোন উপসর্গ দেখে সাবধান হবেন?
১) ভুলভাল খাবার না খেয়েও গ্যাস, পেটফাঁপা, বদহজম আর কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা লেগেই রয়েছে।
২) শরীরের প্রতিরোধ শক্তি কমে গিয়েছে।
৩) মাথা ঘোরা, সারা ক্ষণ ক্লান্তি ভাব।
৪) কিছুই মনে রাখতে না পারা।
৫) হাড়ের সমস্যা বেড়ে যাওয়া, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা।
৬) সঠিক ডায়েট মেনেও ওজন বেড়ে যাওয়া।
৭) শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া, হাইপোথাইরয়েডিজ়ম-এর সমস্যা বেড়ে যাওয়া।
এই ধরনের কোনও উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করলে ১ মাসের জন্য গ্লুটেন-মুক্ত খাবার খেয়ে দেখতে পারেন। এর পাশাপাশি টাটকা শাক-সব্জি, মাছ-মাংস খেতে হবে। ডায়েটে প্রোবায়োটিক আর গেঁজানো খাবার রাখুন। তাতেও সমস্যা না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে একটা গ্লুটেন-অ্যালার্জি পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারেন।