আচমকা বুকে ব্যথা। প্রথম সন্দেহই যায় অম্বল-গ্যাসের দিকে। ওষুধ খেয়েও না কমলে ভয় শুরু হয়, তবে কি হার্টের সমস্যার লক্ষণ! বুকে ব্যথা মানেই হয় বদহজম অম্বলের জন্য, নয়তো হার্টের সমস্যার দরুণ হচ্ছে, ধরে নেন প্রায় সকলে। ভয়ও পেয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সব বুকে ব্যথার কারণ এক নয়। তা ছাড়া অম্বল বা হার্টের অসুখ ছাড়াও নানা কারণে এমনটা হতে পারে।
পেশিতে টান: বুকের ব্যথার কারণ হতে পারে বুকের পেশিতে আচমকা লেগে যাওয়া বা খিঁচ লাগা। পাঁজরের কাছে ইন্টারকোস্টার মাস্ল থাকে। বুকের পেশি বা এই পেশিতে টান ধরলেও বুকে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় ভারী জিনিস তুলতে গিয়ে, বসা বা শোয়ার ভঙ্গির ভুলে, শরীরচর্চা করতে গিয়েও আচমকা লেগে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রেও বুকে ব্যথা হতে পারে। ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। মূলত ২-৩ দিন বিশ্রাম নিলেই এমন ব্যথা কমে যাওয়ার কথা।
আরও পড়ুন:
উদ্বেগ বা প্যানিক অ্যাটাক: কোনও বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা, ভয় তৈরি হলে প্রবল মানসিক চাপের ফলে বুকে ব্যথা হতে পারে। মানসিক চাপ বাড়লে বুক ধড়ফড় করে। তবে কখনও কখনও পরিস্থিতি তেমন হলে বুকে চাপ লাগার পাশাপাশি তীক্ষ্ণ ব্যথাও হতে পারে। বেড়ে যেতে পারে রক্তচাপ এবং হৃদ্যন্ত্রের গতি। এই ধরনের সনস্যা হলে সোজা হয়ে বসে জোরে শ্বাস নিন এবং তা ছাড়ুন। বার কয়েক করলে পরিস্থিতি খানিক নিয়ন্ত্রণে আসবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া দরকার।
নিউমোনিয়া: নিউমোনিয়া বা বুকে সংক্রমণ হলেও এমন ব্যথা হতে পারে। কাশলে, হাঁচলে বা জোরে শ্বাস নিলেও এ ক্ষেত্রে ব্যথা লাগে। ভাইরাল সংক্রমণেও এমন কষ্ট হয়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সঙ্গে জ্বরও থাকতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় এমন অসুখের চিকিৎসায়।
গলব্লাডার স্টোন: বুকে ব্যথার কারণ হতে পারে গলব্লাডার স্টোনও। সকলের যে একই রকম উপসর্গ হয়, তেমন নয়। তবে কারও কারও পেটের সঙ্গে বুকে ব্যথাও হতে পারে। কারও ব্যথা হয় পিঠেও। এই ধরনের ব্যথা ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।
পেপটিক আলসার: আলসার বা ঘা পাকস্থলী বা ডিয়োডেনামের অভ্যন্তরীণ আস্তরণকে নষ্ট করে ফেলে। ফলে শুরু হয় যন্ত্রণা। পাঁজরের নীচে পেটের উপরে ব্যথা হয় যা কখনও কখনও বুক পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। বিশেষত খালি পেটে ভাজাভুজি বা ঝাল-মশলাদার খাবার খেলে এই সমস্যা বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। বুকে ব্যথা ঠিক কেন হচ্ছে, তা একজন চিকিৎসকই বুঝতে পারবেন। সেই মতো চিকিৎসা জরুরি।