চিনি ছাড়া ডায়েট এখন খুব জনপ্রিয়। বিশ্ব জুড়েই চলছে ‘নো সুগার ক্যাম্পেন’। সেই স্রোতে গা ভাসিয়েছেন বাঙালিরাও। ভোজনরসিকেরাও এখন চিনি ছাড়া স্বাস্থ্যকর মিষ্টি খেতে শিখে গিয়েছেন। আর সে কারণেই চিনির বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে গুড়, খেজুরের নাম। রান্নাতেও চিনির বদলে দেওয়া হচ্ছে গুড়। এখন কথা হল, গুড় না খেজুর, কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর। চিনির বদলে কারা কোনটি খেলে উপকার পাবেন।
গুড় বনাম খেজুর
সুগার যাঁদের নেই তাঁরা খাওয়ার পরে গুড় খেলেই উপকার বেশি পাবেন। দুপুরে বা রাতে খাওয়ার আধ ঘণ্টা পরে এক টুকরো গুড় খেলে হজম ভাল হবে, রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু ডায়াবিটিস থাকলে গুড় বুঝেশুনেই খেতে হবে। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা চিনির বদলে গুড় খেলে উপকার পাবেন।
ওজন ঝরানোর জন্য ডায়েট মেনে খাবার খান যাঁরা, তাঁদের ডায়েটে খেজুর রাখা জরুরি। ভিটামিন বি৬, কে, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফাইবারের গুণে ভরপুর খেজুর ওজন কমাতে সাহায্য করে। ফ্ল্যাভোনয়েড্স, ক্যারোটিনয়েড্স এবং ফেনোলিক অ্যাসিডের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে খেজুরে। এই উপাদানগুলি শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। খেজুর খেলে পেট অনেক ক্ষণ ভর্তি থাকে, বেশি ভাজাভুজি খাওয়ার ইচ্ছা থাকে না।
গুড় বা খেজুর কী ভাবে খেলে ওজন কমবে?
খেজুর খাওয়ার নিয়ম
সকালে খালি পেটে ১টি বা ২টি ভেজানো খেজুর খেলে উপকার পাবেন। এতে হজম ভাল হবে।
আরও পড়ুন:
বিকেলে বিস্কুট বা ভাজাভুজির বদলে ১টি খেজুর, চারটি কাঠবাদামের সঙ্গে খান। এটি শক্তির জোগান দেবে।
স্মুদি বা ওট্সের সঙ্গে খেজুর বাটা মিশিয়ে খেলে উপকার হবে।
স্ন্যাক্স হিসেবে
বীজ ছাড়া এক কাপ খেজুর, আধ কাপ ওট্স, সামান্য তিল ও একমুঠো কাঠবাদাম নিতে হবে। খেজুরগুলি মিক্সিতে পেস্ট করে নিন। এ বার ওট্সের গুঁড়ো, বাদাম মিশিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করুন। উপরে সামান্য তিল ছড়িয়ে দিন। এটি বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে খেলে পেটও ভরবে, ওজন কমবে।
খেজুর দিয়ে তৈরি করতে পারেন স্মুদি। এক কাপ দুধ, ২টি খেজুর, আধ চামচ তিসির বীজ ও এক চিমটি ছোট এলাচের গুঁড়ো নিয়ে নিন। সব একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। চিনি দেবেন না। এই পানীয় সকালের জলখাবারে খেতে পারেন।
গুড় খাওয়ার নিয়ম
আধ চামচ জোয়ানের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেলে হজমশক্তি বাড়বে।
ঈষদুষ্ণ জলে আদার রস ও গুড় মিশিয়ে খেলে লিভারের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমবে। এতে ওজনও কমবে।