Advertisement
E-Paper

ঘি নিয়ে মাতামাতি সমাজমাধ্যম জুড়ে, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট কি বাঙালির জন্যও অপরিহার্য? সত্যিটা কী

পুষ্টিবিদ থেকে বলিউডের তারকাদের মধ্যে ঘি নিয়ে হইচইয়ের শেষ নেই। কিন্তু বাঙালির শরীরে ঘিয়ের প্রয়োজনীয়তা ঠিক কতখানি? জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ রেশমী রায়চৌধুরী।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৯
ঘিয়ের জনপ্রিয়তা বলিউডে বেশ নজরকাড়া।

ঘিয়ের জনপ্রিয়তা বলিউডে বেশ নজরকাড়া। ছবি: সংগৃহীত।

করিনা কপূরের পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকর ঘি-কে সুপারফুড হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে, ত্বকে পিগমেন্টেশন শুরু হলে বা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে, দুপুরের খাবারে অন্তত এক চা চামচ ঘি যোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অন্যান্য পুষ্টিবিদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ঘি কোষ থেকে ফ্যাট সলিউবল টক্সিন বার করে দেয়। এটি ফ্যাট পরিপাকে বিশেষ সাহায্য করে। ফলে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট সহজেই শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে দ্রুত ওজন কমে।

এ বার আসা যাক, তারকাদের কথায়। করিনার যেমন রোজ নিজের খাওয়ার পাতে ঘি চাই-ই চাই। ভূমি পেডনেকর বলছেন, ‘‘খাবারে চিরকাল ঘি থাকবেই। ডায়েটে ভাল পরিমাণে ঘি থাকে। আমি ঘি দিয়ে রান্না করি না। কাঁচা ঘি খাই। রুটি বা ইডলিতে ঘি মাখিয়ে খাই বেশির ভাগ সময়ে। তা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভাল।’’ আবার রাজকুমার রাওয়ের উদাহরণ টানলে দেখা যাবে, ঘিয়ে ভেজা রুটি তাঁর কাছে বিলাসিতা। তিনি তাঁর প্রথম মাইনে খরচ করেন পরিবারের জন্য দেশি ঘি আর সব্জি কিনে। সোহা আলি খানও তাঁর সন্তান ইনায়াকে ঘি খাওয়ান স্বাস্থ্য মজবুত করতে।

সুতরাং ঘিয়ের জনপ্রিয়তা বলিউডে বেশ নজরকাড়া। কিন্তু বাঙালিদের ক্ষেত্রে ঘি আদৌ কতটা প্রয়োজনীয়?

ঘি সম্পর্কে শিকাগো নিবাসী পুষ্টিবিদ রেশমী রায়চৌধুরীর মত খানিক ভিন্ন। তবে তিনি বিশেষ ভাবে বাঙালি খাদ্যাভ্যাসের পরিপ্রেক্ষিতে ঘি সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছেন। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বলে চারদিকে ঘি নিয়ে মাতামাতি শুরু করার পক্ষপাতী নন তিনি। কারণ তাঁর মতে, বাঙালির খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসে যথেষ্ট ভারসাম্য রয়েছে এমনিতেই। তাতে আলাদা করে ঘিয়ের প্রয়োজনীয়তা তেমন নেই। পুষ্টিবিদের কথায়, ‘‘ভাতে-মাছে যাঁরা বড় হয়েছেন, তাঁদের জন্য ঘি অত্যাবশ্যক নয়। মাছ খেয়েই স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের জোগান মেলে বাঙালির। ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ খেলেই পুষ্টিগুণের অভাব হবে না। অকারণে ঘি বেশি খেয়ে শরীরে চর্বি জমতে দেওয়ার দরকার নেই।’’

রেশমীর যুক্তি, উত্তর ভারত আর পূর্ব ভারতের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নিরামিষাশীদের জন্য ঘিয়ের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাসে ঘি, মিলেট ইত্যাদির চল ছিল না। পুষ্টিবিদের কথায়, ‘‘আপনার পেট ছোট থেকে যে খাবার খেয়ে অভ্যস্ত, সেটা খেলেই আপনি সবচেয়ে বেশি সুস্থ থাকবেন। নিজের শিকড় থেকে বেরিয়ে গিয়ে খাওয়াদাওয়া করার দরকার নেই।’’

Ghee Ghee Benefits
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy