Advertisement
E-Paper

পুষ্টিকর খাবার খেয়েও সুগার বাড়ছে, ওষুধেও লাভ হচ্ছে না! নেপথ্যে থাকতে পারে কোন তিন কারণ?

মিষ্টি খেলেই যে সুগার হবে তা নয়। তবে এক বার সুগার ধরে গেলে তখন খাওয়াদাওয়ায় অনেক বিধিনিষেধ চলে আসে। মিষ্টি বাদ যায়, বাইরের খাবার একেবারেই বন্ধ। ভাত-রুটিও মেপে খেতে হয়। সব কিছু করেও যদি সুগার বাড়ে, তা হলে কারণটা অন্য।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩২
Doctors explain surprising habits that can raise blood sugar levels even when you haven’t eaten

ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার খেয়েও সুগার বেশি, কারণটা ঠিক কী? ছবি: ফ্রিপিক।

বাঙালির অম্বল আর সুগারের সমস্যা চিরকালের। তবুও বাঙালি রসেবশেই থাকতে ভালবাসে। সপ্তাহে এক-আধটা মিষ্টি অথবা ছুটির দিনে কষা মাংস দিয়ে জমিয়ে ভাত খাওয়া যেতেই পারে। তাতে দোষের কিছু নেই। তবে রোজ মিষ্টি খেলে বা বাইরের খাবার বেশি খেলে তখন বিপদ। কিন্তু এমনও অনেকে আছেন, যাঁরা সুগার ধরা পড়ার পরে মিষ্টি, ভাজাভুজি, ভাত-রুটি ছেড়েই দিয়েছেন বা প্রয়োজনের চেয়েও কম খান। বাইরের খাবার ছুঁয়েও দেখেন না। তা সত্ত্বেও সুগার কখনও বাড়ে, কখনও কমে। এর কারণ কী?

রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে অনেক কারণে। শুধু যে খাওয়াদাওয়া দায়ী তা নয়। অনেকেই বলেন, ঠিকমতো ওষুধ খান বা ইনসুলিন ইঞ্জেকশনও নেন, তার পরেও সুগার ওঠানামা করে। এর কারণ অনেক কিছুই হতে পারে। দিনভর যিনি মানসিক চাপে ভোগেন, দুশ্চিন্তা করেন, তাঁরও সুগার হতে পারে। আবার যিনি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই কফি খান এবং তার পরে দীর্ঘ সময়ে খালি পেটে থাকেন, তাঁরও হতে পারে। অতএব, সুগার বাড়বে না কমবে, এর জন্য অনেকগুলি বিষয় দায়ী। ধরুন, রাতে ভাত বা রুটি খেলেন না, পুষ্টিকর ও হালকা খাবার খেলেন। তার পরেও সকালে উঠে দেখলেন, রক্তে শর্করার মাত্রা যেন আকাশ ছুঁয়েছে। পরক্ষণেই তা নেমে গিয়েছে বিপজ্জনক ভাবে। ওঠানামার এই হিসাব বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। সেগুলি জেনে নিলে আর আতঙ্কে ভুগতে হবে না।

ঠিক কী কী কারণে সুগার ওঠানামা করে?

কম ঘুমোলেই মুশকিল

সুগার বেড়ে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ অনিদ্রা বা কম ঘুম। বিশ্বময় এখন নিদ্রাহীনতা নিয়ে হইচই চলছে। ঘুম যেন ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে দু’চোখ থেকে। এর জন্য ডিজিটাল আসক্তি, পেশাগত ক্ষেত্রের অনিয়মকে দায়ী করেছেন গবেষকেরা। কারণ যা-ই হোক না কেন, দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমোলেই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাবে। খাওয়াদাওয়ায় নিয়ম মেনেও লাভ হবে না। আসলে, ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন বাকি অনেকগুলি হরমোনের কার্যকারিতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোনের ক্ষরণ কমে গেলে, তখন ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ে। ফলে রক্তে শর্করা ঠিকমতো শোষিত হয় না। তাই বাড়বৃদ্ধি হতেই থাকে। সুগার যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তা হলে টানা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোতেই হবে।

মনের চাপ

রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার আরও একটি কারণ। মানসিক চাপ কার নেই? তবে তা কত বেশি বা কম, এর উপরে অনেক কিছুই নির্ভরশীল। দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ যদি সীমাহীন হয়ে পড়ে, তা হলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের বাড়বাড়ন্ত হয়। এই হরমোন ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তখন রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে থাকে। অত্যধিক মানসিক চাপ সুগার বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

অনেক ক্ষণ না খেয়ে থাকা

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেমন মেপে খেতে হবে, তেমনই সময়ে সময়ে খাবার খাওয়াও জরুরি। চিকিৎসকেরা বলেন, দীর্ঘ সময়ে না খেয়ে থাকা বা উপোস করে থাকলে, রক্তে শর্করার মাত্রা ভয়াবহ ভাবে বেড়ে যাবে। খালি পেটে লিভার অনেক বেশি করে গ্লুকোজ়ের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেবে। কারণ গ্লুকোজ ভেঙেই শক্তি তৈরি হবে। তাই রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়তে থাকবে।

Blood Sugar Spike Blood sugar control
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy